ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ ফিচার ]

নব্বই দশকের এই ক্যারাল এখন বিলীন হওয়ার পথে

ফিচার ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৭:৩০, ২ নভেম্বর ২০২০
নব্বই দশকের এই ক্যারাল এখন বিলীন হওয়ার পথে
ছবি: খড় উল্টে দিচ্ছেন এক ব্যক্তি

গ্রামবাংলায় অনেক ব্যবহার্য জিনিস ছিল। যা আজ আধুনিকতার ছোয়ায় প্রায় হারাতে বসেছে। প্রযুক্তি সব কাজকেই বলতে গেলে সহজ করেছে। ছবিতে যে জিনিসটি দেখতে পাচ্ছেন সেটাকে বলা হয় ক্যারাল। অবশ্য দেশের একেক অঞ্চলে এর একেক নাম। কেউ চেনেন ক্যারাল নামে, কেউবা দাউড়া। নাম যাই হোক না কেন কাজ কিছু একই।

বাঁশের চিকন অংশ দিয়ে এটি তৈরি করা হয়। ক্যারাল মূলত কাজে লাগে ধানের খড় নেড়ে দেয়ার কাজে। এখন তো ধান কাটা থেকে মাড়াই এরপর শুকিয়ে তা থেকে চাল। প্রযুক্তির দৌলতে এই কাজগুলো খুব সহজ আর সময় সাপেক্ষ হলেও আগেকার চিত্র ছিল ভিন্ন। এই নব্বই দশকের কথাই ধরুন না। ধান পাকলে কৃষকদের ধুম পড়ে যেত ধান কাটার। এক রকম উৎসব কাজ করত গ্রামে এই সময়টাতে।

খড় উল্টে পাল্টে দেয়ার জন্য ব্যবহার হয় ক্যারাল এরপর মাড়াই করে একদিকে ধান শুকানোর পালা অন্যদিকে বেচে যাওয়া ধান গাছ শুকানোর প্রস্তুতি। মাঠে, বাড়ির উঠানে কিংবা পাকা রাস্তার উপর শুকানো হয় ধান গাছগুলো। এগুলোকে বলা হয় খড়। এরপর ঘরের চাল কিংবা গরুর খাবারে কাজে লাগে এগুলো। এই ক্যারাল ব্যবহৃত হয় খড়গুলো শুকানোর সময়। এপিঠ ওপিঠ উল্টে দিতেই মূলত দরকার পড়ে এই জিনিসটি। আবার ধান গাছ থেকে অবশিষ্ট ধান বের করার কাজেও এটি ব্যবহার করা হয়। আসলে লাঠির মতো হওয়ায় এটি দিয়ে ধান গাছগুলোতে মাড়িয়ে বাকি ধানগুলো আলাদা করা হয়।

আরো পড়ুন: বিশ্বের ভয়ংকর এসব কারাগার এখন দর্শনীয় স্থান

এক নারী ক্যারাল দিয়ে ধানগাছগুলো সরিয়ে দিচ্ছেনএটি যে শুধু আমাদের দেশেই ব্যবহার হয়, তা কিন্তু নয়। বিশ্বের বিভিন্ন কৃষি প্রধান দেশে এর ব্যবহার রয়েছে। চীন, কোরিয়া, মায়ানমারসহ অনেক দেশেই ক্যারাল ব্যবহার হয় খড় উল্টে পাল্টে দেয়ার কাজে। সেগুলোর নকশা কিছুটা ভিন্ন থাকে। তবে বাঁশ দিয়ে নানা নকশায় এটি তৈরি করে নেয় যে যার সুবিধা মতো।

আরো পড়ুন: পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে দৃশ্যমান ছবিটি ফ্রেমবন্দি করেন তিনি

বিশ্বের অনেক দেশেই ব্যবহার হয় বিভিন্ন নকশার ক্যারাল  বিংশ শতাব্দীতে এসে এটি তেমন চোখেই পড়ে না। পরিবর্তে এসেছে প্রযুক্তির নানা আশীর্বাদ। সেসব যন্ত্রের কাজের গতি এর থেকে কয়েকগুণ বেশি এবং সময় সাপেক্ষ। বিলীন হয়ে যাওয়ার পথে এখন এসব হাতিয়ার।  

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেএসকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!