স্লামডগ মিলিয়নেয়ারখ্যাত ফ্রিদা পিন্টো জটিল নারী চরিত্রেই মুগ্ধ
ভারতীয় সিনেমা, বলিউডসহ টেলিভিশনে নারীদের পর্দায় দেখানোর ধরনে পরিবর্তন এসেছে। এখন আর শুধু ভালো বা আদর্শ নারী হিসেবে নয়, বরং নানা জটিলতা ও অপূর্ণতা থাকা নারীদেরও পর্দায় তুলে ধরা হচ্ছে। ভারতীয় গল্প বলার এই বদল দেখে মুগ্ধ হয়েছেন হলিউড অভিনেত্রী ফ্রিদা পিন্টো।
২০০৮ সালে অস্কারজয়ী ব্রিটিশ চলচ্চিত্র স্লামডগ মিলিয়নেয়ার দিয়ে অভিনয়ে অভিষেকের পর থেকে ভারতের অনেক পরিবর্তন দেখেছেন ফ্রিদা। তার মতে, ভারতীয় চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে নারী চরিত্রের উপস্থাপনায় গত প্রায় দুই দশকে বড় অগ্রগতি হয়েছে।
সম্প্রতি দিল্লিতে ২০২৭ সালের পিরেলি ক্যালেন্ডারের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংবাদ সংস্থা পিটিআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন তিনি।
ফ্রিদা বলেন, ভারতে অনেক সুন্দর পরিবর্তন এসেছে। বিশেষ করে চলচ্চিত্র ও টেলিভিশনে নারীদের যেভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, তা অত্যন্ত ইতিবাচক। এখন শুধু কর্তব্যপরায়ণ কিংবা তথাকথিত নীতিবান নারীদের নয়, বরং নানা জটিলতা ও অপূর্ণতা থাকা নারী চরিত্রও দেখা যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, আমি বরং অপূর্ণতার দিকগুলো নিয়ে বেশি আগ্রহী। যেসব চরিত্রকে নিখুঁত হিসেবে দেখানো হয়, সেগুলো অনেক সময় একঘেয়ে লাগে এবং বাস্তব জীবনের সঙ্গে সেগুলোর মিল খুঁজে পাওয়া কঠিন।
ভারতে সৃজনশীলতার আরও বিস্তার চান এই অভিনেত্রী। তার আশা, তরুণদের নতুন নতুন ভাবনা ও পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা যেন বাধাগ্রস্ত না হয়।
ফ্রিদার ভাষায়, ভাবনা থেকেই সৃজনশীলতার জন্ম হয়। আমি আশা করি, ভারতে সৃজনশীলতার আরও বিস্তার ঘটবে। এই অগ্রযাত্রা যেন থেমে না যায়, নতুন ভাবনাগুলো যেন প্রত্যাখ্যাত বা দমিয়ে রাখা না হয়। বরং সেগুলো বিকশিত হওয়ার সুযোগ পাক।
২০২৭ সালের পিরেলি ক্যালেন্ডারে স্থান পেয়েছেন ফ্রিদা পিন্টোসহ ভারতের নয়জন বিশিষ্ট নারী। তাদের মধ্যে রয়েছেন অভিনেত্রী অদিতি রাও হায়দারি, সংগীতশিল্পী অনুষ্কা শঙ্কর, কবি রুপি কৌর, মডেল লক্ষ্মী মেনন ও টেলিভিশন উপস্থাপক পদ্মা লক্ষ্মী।
ক্যালেন্ডারটির আলোকচিত্র ধারণ করেছেন রঘু রাই, অবনী রাই ও সলভে সুন্ডসবো। ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এই প্রকল্পে ভারতকে কেন্দ্রীয়ভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
সুন্ডসবোর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা নিয়েও সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন ফ্রিদা। তার মতে, আলোকচিত্রী ভারতীয় নারী কিংবা তাদের পোশাক-পরিচ্ছদ নিয়ে আগে থেকে কোনো ধারণা চাপিয়ে দেননি। বরং যারা ছবির জন্য পছন্দের পোশাক বেছে নিয়েছেন, তাদের স্বাচ্ছন্দ্যকে গুরুত্ব দিয়েছেন।
ফ্রিদা বলেন, তিনি কখনোই আমাদের নির্দিষ্ট কোনো ছাঁচে ফেলার চেষ্টা করেননি। পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল স্বতঃস্ফূর্ত এবং আলোচনানির্ভর। আমাদের কাছে বারবার জানতে চাওয়া হয়েছে, পোশাক ও পরিবেশে আমরা স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছি কি না। ফলে প্রতিটি ছবিতে নিজেদের ব্যক্তিত্বের ছাপ রাখার সুযোগ পেয়েছি।
রাইজ অব দ্য প্ল্যানেট অব দ্য এপস, ইমর্টালস ও উডি অ্যালেনের ইউ উইল মিট আ টল ডার্ক স্ট্রেঞ্জার ছবিতে অভিনয় করেছেন ফ্রিদা।