ছায়াছন্দের গানঃ
১) শহুরে প্রেমের গান, শবনমের ফোনে রাজ্জাক- ‘আয়নাতে ওই মুখ দেখবে যখন’। ঘনঘন দেখাতো ছায়াছন্দে।
.png)
২) গ্রামীণ প্রেমের গান। ইলিয়াস কাঞ্চন-নিপা মোনালিসা নৌকায় চড়ে গান ‘তুমি আমার মনের মাঝি, আমার পরাণ পাখি’।
৩) শহুরে ছ্যাঁকা খাওয়া গান। দুঃখী নায়িকা গাড়ি চালাচ্ছে, ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজতো- ‘পারি না ভুলে যেতে স্মৃতিরা মালা গেঁথে’, গানের শেষে নায়িকা এক্সিডেন্ট করতো।
৪) ক্যান্সার রোগীর বিদায়-ব্যথার গান– ‘জীবনের গল্প, আছে বাকি অল্প’। ইলিয়াস কাঞ্চন ও চম্পার কান্না কান্না মুখ আজো চোখে ভাসে।
৫) কিশোর অপরাধী কেন্দ্রের উদ্দীপনামূলক গান– ‘হারজিত চিরদিন থাকবে তবুও এগিয়ে যেতেই হব’। এই গান গেয়ে গেয়ে মাস্টার শাকিল, মাস্টার সুমনদের সুপথে অনার চেষ্টা করা হতো।
৬) অন্ধ সেজে ভিক্ষা করার গান। ববিতা রওশন জামিলের অভিনয়ে ‘হায়রে কপাল মন্দ, চোখ থাকিতে অন্ধ।
৭) সেমি আর্ট ফিল্মের গান। জয়শ্রী কবিরের ঠোঁটে ‘বিমূর্ত এই রাত্রি আমার’। এই গানের কঠিন কঠিন শব্দ বুলবুল আহমেদ তো বটেই, বেশিরভাগ দর্শকই বুঝতে পারতো না।
৮) হোস্টেল টিজিং। ছেলেদের হোস্টেলের রাজ্জাক মেয়েদের হোস্টেলের কবরীর উদ্দেশ্যে দলবল নিয়ে গাইতো- ‘ওই দূর দূর দূরান্তে, বন বনান্তে, মন মনান্তে’।
৯) বিয়োগ ব্যথার গান– ‘একি সোনার আলোয় জীবন ভরিয়ে দিলে’। এই গান শুনতে শুনতে প্রয়াত স্ত্রীর ছবির দিকে তাকিয়ে খান আতার ঠোঁট অব্যক্ত কষ্টে কাঁপতো।
১০) স্নিগ্ধ প্রেমের গান। ববিতা চাঁদের দিকে তাকিয়ে ঠোঁট মেলাতো- ‘ওগো চাঁদ তুমি কি জানো না সে যে আজ নাম ধরে ডাকবে’, আবার কবরী প্রেমের উচ্ছ্বাসে বিছানায় গড়িয়ে ধপাস করে মাটিতে পড়ে যেয়ে গাইতো– ‘গান হয়ে এলে, মন যেন বলে’।
১১) মরমী/আধ্যাতিক গান– ‘চোখের নজর এমনি কইরা একদিন ক্ষইয়া যাবে’, ‘হায়রে মানুষ রঙিন ফানুস দম ফুরাইলে ঠুস’ ছিল এই ক্যাটাগরির গান।
১২) জীবন যন্ত্রণার গান। এই ক্যাটারিতে ছিল তারানার ঠোঁট মেলানো ‘জীবন মানেই যন্ত্রণা নয় ফুলের বিছানা’, পত্রিকা বিক্রেতার গান ‘তুমি কি দেখেছো কভু জীবনের পরাজয়’। পত্রিকা বিক্রেতার সহকারী এটিএম শামসুজ্জামান কি না তা নিয়ে দর্শকদের কথা কাটাকাটি হতো।
১৩) মুক্তিযুদ্ধের গান। এই ক্যাটাগরিতে দেখানো হতো জীবন থেকে নেয়া ‘আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি’, বিশ্বজিত সুলতানার অভিনয়ে ‘ও দাদাভাই মূর্তি বানাও’, ববিতার লিপে ‘এক নদী রক্ত পেরিয়ে’ ইত্যাদি।
১৪) ঘুমপাড়ানি গান। এই গানগুলো ধীরগতির হওয়ায় ছোটরা এই পর্যায়ে ঘুমিয়ে পড়তো। এমন একটি গানের উদাহরণ ‘এ আঁধার কখনো যাবে না মুছে আমার পৃথিবী থেকে’।
১৫) বঞ্চিত স্ত্রীর গান— এই গানটাও ঘনঘন দেখাতো ‘আমি রজনীগন্ধা ফুলের মতো গন্ধ বিলিয়ে যাই’।
১৬) ঘুম ভাঙানিয়া গান। এই গানটা অন্য গানগুলোর চেয়ে একটু পরের দিকের গান। বাংলাদেশি ভাইয়েরা ঘুমিয়ে থাকতো, ইন্ডিয়ান বোন (আলপনা) এসে জল ছিটিয়ে তাদের ঘুম ভাঙাতো আর গান গাইতো ‘ডাকে পাখি, খোলো আঁখি’।
১৭) ভিসা সমস্যার গান। প্রেমিক বাংলাদেশের সোহেলরানা, প্রেমিকা ভারতের (সোমা)। ভিসা সমস্যায় দেখা-সাক্ষাৎ বন্ধ। নায়ক এই দেশে গান গাইতো ‘ভালোবাসার মূল্য কত সে তো আমি বুঝি না’, নায়িকা ওই দেশে গাইতো ‘বন্ধু ওগো কী করে ভাবলে তুমি দূরে চলে গেলে আমি সুখে থাকবো’।
১৮) দাম্পত্য কলহের গান। এই গানে স্বামী-স্ত্রী শশী কাপুর আর শর্মিলা ঠাকুর পরিচালকের ষড়যন্ত্রে আলাদা হয়ে যায় । অনেক দিন পর নায়াগ্রা জল্প্রপাতের সামনে তাদের দেখা হয়। আলাদা হওয়ার আগে এবং পরে তারা ‘যেওনা সাথী, চলেছো একেলা কোথায়’ এই গানটা গাইতো।
লেখক- রনজন নন্দীর ফেসবুক পোস্ট হতে নেয়া।