ভাড়া দিতে না পারায় বসুন্ধরা থেকে বন্ধ হলো ‘স্টার সিনেপ্লেক্স’
প্রেক্ষাগৃহ কবে খুলবো তা এখনো অনিশ্চিত। বাকি সিনেমা হল যখনই খুলুক, বসুন্ধরা সিটি শপিং মলের স্টার সিনেপ্লেক্সের তালা বন্ধই থাকবে। ঢাকাবাসীর বিনোদনের জনপ্রিয় এই প্রেক্ষাগৃহ আর কখনোই খুলছে না।
করোনা মহামারির মধ্যে কয়েক মাসের ভাড়া পরিশোধ করতে না পারার কারণে সিনেপ্লেক্সের ৬টি ছবিঘর বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান। কোনো উপায় না পেয়ে স্টার সিনেপ্লেক্স কর্তৃপক্ষও তাদের ছবিঘর বন্ধ করে দেন।
স্টার সিনেপ্লেক্স চেয়ারম্যান মাহবুব রহমান বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চত করেছেন।
তিনি বলেন, বসুন্ধরা সিটি শপিং কমপ্লেক্সের ৮ তলায় ৬টি ছবিঘর আছে। দেশ–বিদেশের বিখ্যাত সব সিনেমার প্রিমিয়ার আমাদের বসুন্ধরার এই শাখায় হতো। ঢাকা শহরের বেশির ভাগ সিনেমাপ্রেমী দর্শক আমাদের এখানে আনন্দ নিয়ে ছবি দেখতেন। এতগুলো সিনেমাহল বন্ধ হয়ে যাওয়াটা ভীষণ লস। আমি মনে করি, এটা শুধু আমাদের জন্য নয়, শপিং মল কর্তৃপক্ষের জন্যও বড় লস। এই সিদ্ধান্ত তারা কেন নিল, তা আমি এখনো বুঝতে পারছি না।
মাহবুব রহমান জানান, বসুন্ধরা সিটির স্টার সিনেপ্লেক্সে তাদের ৬০ কোটি টাকা বিনিয়োগ আছে। বন্ধ করে দেয়ায় এখন সেখান থেকে নিজেদের অবকাঠামো সরিয়ে নেবেন কর্তৃপক্ষ। কিন্তু মহামারির মধ্যে সিনেপ্লেক্স বন্ধ ছিল, ব্যবসা হয়নি। তাই আমরা ভাড়া দিতে পারিনি। ভাড়া দেওয়াটা সম্ভবও ছিল না, কারণ ভাড়া ছিল প্রচুর। ব্যবসা না হলে তো মোটেও সম্ভব না। আমাদের ব্যবসার অর্ধেকই চলে যেত ভাড়া খাতে। যেখান থেকে শুরু করেছিলাম, সেখানটাই বন্ধ হয়ে গেল ভেবে খারাপ লাগছে।
এদিকে বসুন্ধরা সিটি ডেভেলপমেন্ট লিমিটেডের ইনচার্জ শেখ আবদুল আলীম এ ব্যপারে বলেন, সিনেপ্লেক্স বন্ধের বিষয়টি আমি শুধু জানিয়ে দিয়েছি, আর বাকিটা আমাদের টপ ম্যানেজমেন্টের ব্যাপার। এখানে এরপরে কী হবে সেটাও আমি জানি না। যেহেতু সিনেমাহল ছিল, এন্টারটেইনমেন্ট রিলেটেড কিছু হয়তো করবেন। তবে সুনির্দিষ্ট করে আমাদের কিছু জানানোও হয়নি।
তবে সিনেমা হল খোলার সিদ্ধান্ত দেয়া হলে মহাখালীতে অবস্থিত এসকেএস (সেনা কল্যাণ সংস্থা) টাওয়ারে স্টার সিনেপ্লেক্সের শাখা, ধানমন্ডির সীমান্ত সম্ভার (রাইফেল স্কয়ার) শপিং মলের শাখাটিও চালু হবে বলে জানা যায়। এছাড়া মিরপুরের সনি সিনেমা হল ভেঙ্গে যে শপিং মল করা হচ্ছে সেখানেও একটি শাখা চালু করতে যাচ্ছে স্টার সিনেপ্লেক্স।
স্টার সিনেপ্লেক্স-এর মাধ্যমে দেশে মাল্টিপ্লেক্স যাত্রা শুরু করে ২০০৪ সালে। স্পাইডারম্যান দিয়ে প্রথম ছবি দেখানো শুরু করে স্টার সিনেপ্লক্সে। পাঁচটি হলের জায়গা থাকলেও প্রথম শুরু করে তিনটি হল নিয়ে। কিন্তু দুভার্গ্যজনক ভাবে প্রথম দুই বছর শুধুই ক্ষতি হতে থাকে। মানুষের আনাগোনা হয় না সিনেপ্লেক্সে। এমন অবস্থা হয় ব্যাংকের ঋণ শোধ করাই কঠিন। কিন্তু ঘুরে দাঁড়াতে হবে। ওই সময় প্রচুর মার্কেটিং শুরু করেন। হলিউডের ‘গ্লাডিয়েটর’ এবং বাংলাদেশের ‘মোল্লা বাড়ির বউ’ সিনেমাটি দিয়ে ব্যবসা ঘুরে যায় সিনেপ্লেক্সের।