কণ্ঠশিল্পীদের কাছে গীতিকারদের যৌক্তিক পাঁচ দাবি
সংগীত অঙ্গনে অনেক দিন ধরেই নানা অনিয়মের শিকার হয়ে আসছেন গানের স্রষ্টা গীতিকাররা। বঞ্চিত হয়ে আসছেন যৌক্তিক অধিকার ও যথাযথ সম্মানি থেকে। বিভিন্নভাবে অধিকার বঞ্চিত হওয়া গীতিকারদের পক্ষ থেকে কণ্ঠশিল্পীদের কাছে পাঁচ দাবি জানিয়েছেন নন্দিত গীতিকার জুলফিকার রাসেল।
গীতিকারদের হয়ে দাবিগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করেন তিনি। তার সেই পোস্টে সংগীত সংশ্লিষ্টদের পাশাপাশি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ একমত, সহমত পোষণ করেছেন। শুধু তাই নয়, গীতিকারদের দাবিগুলো দ্রুত কার্যকর হওয়ার জন্য অনেকে অভিমত ব্যক্ত করেছেন। সামাজিক মাধ্যমে পোস্ট করা জুলফিকার রাসেল’র পাঁচটি দাবি তুলে ধরা হলো-
সাধুবাদ জানাই, শতাধিক কণ্ঠশিল্পী ঘোষণা দিয়েছেন- তারা সম্মানি ছাড়া কোনো ধরনের শো করবেন না! আমি আশা করি, তারা এও ঘোষণা দেবেন-
এক. এখন থেকে সম্মানির বিনিময়ে তারা যেসব গান পারফর্ম করবেন, তার একটা ভাগ গীতিকার, আরেকভাগ সুরকার এবং আরেকভাগ সহশিল্পীদের জন্যেও রাখবেন! শিল্পীরা নিজেরাও জানেন গানটা হাওয়া থেকে ভেসে আসেনি।
দুই. এখন থেকে যথাযথ সম্মানি গ্রহণ না করে কোনো গান কোম্পানিকে দেবেন না! যথাযথ সম্মানি না দিয়ে কোনো লিরিক বা সুর ব্যবহার করবেন না। (অনেক নতুন গীতিকার বা সুরকার একটি গান প্রকাশের আশায় আপনার কাছে যাবেন, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু নৈতিক মূল্যবোধ থেকে আপনারা যথাযথ সম্মানি দেবেন। কেনোনা ভবিষ্যতে এই গান আপনি বিভিন্ন শো’তে সম্মানির বিনিময়ে পারফর্ম করবেন।)
তিন. গান গাওয়ার সময় নিজের গান বলে চালিয়ে দেবেন না। আপনি কণ্ঠ দিয়েছেন। গানটা লিখেছেন এবং সুর করেছেন হয়তো অন্য আরেকজন। দয়া করে তাদের নাম সম্মানের সঙ্গে উল্লেখ করবেন।
চার. যন্ত্রশিল্পীদের কথাও ভাববেন। তারাও যেন যথাযথ সম্মানি পেতে পারেন, সেটা নিশ্চিত করবেন। যেখানে এটা সম্ভব হবে না, সেই শো করবেন না। এই নীতিতে অটল থাকবেন।
পাঁচ. এখন যে ঘোষণা দিয়েছেন, সেটা সারাজীবন মনে রাখবেন।
জুলফিকার রাসেলের এই পাঁচ মতের সঙ্গে একমত পোষণ করেছেন দেশের অধিকাংশ গীতকার। এ তালিকায় রয়েছেন- গীতিকার ও সংগীতশিল্পী প্রীতম আহমেদ, শফিক তুহিন, মিলন খান, শেখ রানা, রবিউল ইসলাম জীবন, সোমেশ্বর অলি, মাহমুদ মানজুর, জনি হক, সাকি আহমেদ, লুৎফর হাসান, সাগর চৌধুরী, এ মিজান, ফয়সাল রাব্বিকীন, তারেক আনন্দ, ওমর ফারুক বিশাল প্রমুখ।