ঢাকা,  শনিবার   ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৯ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ আন্তর্জাতিক ]

সব যুবক-যুবতী এই শহর ছাড়ছেন!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ১৮:০৩, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯
সব যুবক-যুবতী এই শহর ছাড়ছেন!
ছবি: সংগৃহীত

ইতালির একটি ছোট শহর সান পিয়েরো পাট্টি। এটি সিসিলিতে অবস্থিত। এখানে চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হচ্ছে যুবক-যুবতীদের। তাই একে একে সবাই এই শহর ছেড়ে যাচ্ছেন। এই পরিস্থিতির কথা যিনি শোনেন, তিনিই অবাক হন। 

এই গ্রামেরই ৩৪ বছর বয়সী এক মেয়ের নাম কাটিয়া নেপুমাসিনো। নেপুমাসিনোর জন্ম সান পিয়েরোতে হলেও কর্মসূত্রে বেশিরভাগ সময় জার্মানিতে কাটিয়েছেন। সম্প্রতি তিনি স্থির করেছিলেন, এবার শহরের বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে বাকি জীবনটা সান পিয়েরোতেই কাটাবেন। 

Advertisement

কিন্তু কাটিয়া নেপুমাসিনো শহরে ফিরে হতবাক। যাদের সঙ্গে ছোট থেকে খেলাধুলা করে বড় হয়েছিলেন, তাদের বেশিরভাগই এলাকা ছেড়ে চলে গেছেন। তার দলের মাত্র দুজন যুবতী বর্তমানে রয়েছেন। তারাও এলাকা ছাড়ার সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন।

কেন তারা চলে গিয়েছেন? নেপুমাসিনো খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন, চাকরির খোঁজেই তারা শহর ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। ইতালির এই শহরে কোনো কাজের সুযোগই নাকি নেই। ফলে বাধ্য হয়েই এলাকার অল্পবয়সি ছেলেমেয়েরা কর্মসূত্রে অন্যত্র পাড়ি দিচ্ছেন। এতে জনসংখ্যাও দ্রুত কমে যাচ্ছে। এই হারে এলাকা খালি হতে থাকলে খুব দ্রুত এটা ভুতুড়ে শহর বা গোস্ট টাউনে পরিণত হবে। 

এদিকে এটি ঠেকাতে মেয়র এবং শহরবাসী প্রাণপণ চেষ্টা করছেন। সম্প্রতি নতুন ভাবনা বের করেছেন। কম টাকায় বাড়ি বিক্রি। অর্থাৎ শহরের যে সমস্ত পরিত্যক্ত বাড়ি রয়েছে, বা এমন বাড়ি যা মালিকের খুব একটা কাজে লাগে না, সেগুলো সবই লোভনীয় দামে বিক্রি করে দেয়া।

প্রতিবেশী শহর গ্যাঙ্গিও একসময় ঠিকই একইরকম পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে গিয়েছিল। প্রায় পরিত্যক্ত হয়ে গিয়েছিল শহর। প্রাণ ফেরাতে মাত্র ১ ইউরো মূল্যে বাড়ি বিক্রি করতে শুরু করে। তাতে সাফল্য পাওয়া যায়। খুব কম মূল্যের ওই বাড়ি অনেকেই কিনে বসবাস শুরু করেছেন। মানুষের বসতি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে, সেখানে কর্মসংস্থানের সুযোগও বেড়েছে।

গ্যাঙ্গির এই সাফল্য গ্রামের মেয়র সালভাদর ফিওরেকে প্রভাবিত করেছে। নিজেদের এলাকাকে ভুতুড়ে শহর হয়ে ওঠা থেকে বাঁচাতে শহরের সব বাসিন্দাও এই সিদ্ধান্তে রাজি হয়েছেন।

মারিয়া কনসিট্টা আব্রামো নামে এক মহিলা প্রথম এগিয়ে এসেছেন। বহু বছর আগে এক মহিলার থেকে আব্রামো পরিবার সান পিয়েরোতে বাড়ি কিনেছিলেন। সেই বাড়িটা ব্যবহার প্রায় করেনই না আব্রামো পরিবার। মূলত বাড়িটা গোডাউন ছিলো। এতে দুটো ঘর রয়েছে, ছোট চিলেকোঠা এবং একটি ভূগর্ভস্থ গ্যারাজ রয়েছে বাড়িতে। এই বাড়িটাই আব্রামো পরিবার এক কাপ এসপ্রেসোর (এক ধরনের ইতালিয়ান কফি) দামে বিক্রি করে দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সান পিয়েরোর পরিস্থিতি ঠিক কেমন? বাসিন্দারা জানান, এই শহরে দুটো দিক রয়েছে। একটা দিক ভীষণ উন্মুক্ত, শান্ত, অসাধারণ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর। আর একটা দিক ঠিক যেন খাঁচা। বেশিদিন যেখানে থাকলে সবারই দমবন্ধ হয়ে আসছে।

প্রতিবেশী শহর গ্যাঙ্গির মতো সান পিয়েরোও ফের লোকারণ্যে পরিণত হবে। শহর ছেড়ে চলে যাওয়া সমস্ত ইয়ং ছেলেমেয়েরা ফের তাদের বাড়ি ফেরত পারবেন। ইতালির ছোট শহর এই আশা নিয়েই এখন বেঁচে রয়েছে।

ডেইলি বাংলাদেশ/জেডআর


 

ডেইলি-বাংলাদেশ/ডটকম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!