ঢাকা,  বুধবার   ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]
নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়

৭ বছর ধরে বাক্সবন্দি ৬ লাখ টাকার মেডিকেল সরঞ্জাম

আহসান হাবীব, নজরুল বিশ্ববিদ্যালয়
প্রকাশিত: ১৩:৩৬, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৪
৭ বছর ধরে বাক্সবন্দি ৬ লাখ টাকার মেডিকেল সরঞ্জাম
বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র চিকিৎসাকেন্দ্র ব্যথার দান।ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসাকেন্দ্রে প্রায় সাত বছর ধরে পড়ে আছে ৬ লাখ টাকার মেডিকেল সরঞ্জাম। অর্ধযুগ ধরে স্টোররুমে অব্যবহৃত থাকায় বাক্সবন্দি সরঞ্জামগুলোর অধিকাংশরই অবস্থা এখন নাজুক। যার ফলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত শিক্ষার্থীরা। 

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০১৭ সালে বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র চিকিৎসাকেন্দ্র ‘ব্যথার দানের’ জন্য প্রায় ৬ লাখ টাকার মেডিকেল সরঞ্জাম কেনা হয়। এর মধ্যে রয়েছে ব্লাড টেস্টিং মেশিন, ইউরিন (প্রস্রাব) অ্যানালাইজার, ইসিজি ও আলট্রাসনোগ্রাম মেশিন। তবে ২০১৭ সালের পর প্রায় ৭ বছর কেটে গেলেও একদিনের জন্যেও ব্যবহৃত হয়নি এই সরঞ্জামগুলো। 

এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের শিক্ষার্থী জাহিদুল ইসলাম বলেন, রক্ত-প্রস্রাব পরীক্ষা, ইসিজি, আল্ট্রাসনোগ্রাম- এসবের কথা ভাবা তো দূর, এখানে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা পাওয়াই ভাগ্যের ব্যাপার। ওষুধ সংকট, চিকিৎসক সংকট, স্টাফ সংকট- এমন বহু সংকট দেখিয়ে আমাদের পাঠিয়ে দেওয়া হয় ত্রিশাল কিংবা ময়মনসিংহ শহরে। 

Advertisement

চারুকলা বিভাগের শিক্ষার্থী আরিফ হাসান বলেন, ব্যথার দানে এই সরঞ্জামগুলো আছে তা আজই প্রথম জানলাম। তা-ও আবার এতদিন ধরে ভাগাড়ে পরে আছে! কি জানি কি অবস্থা হয়েছে সেগুলোর। এখন নিউজ হওয়ার পরে চালু করলেও সেগুলোর মান নিয়ে সন্দেহ থেকে যাবে। 

২০০৯ সালে প্রতিষ্ঠিত এই স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রটি প্রয়োজনের সিকিভাগও চিকিৎসা চাহিদা পূরণ করতে পারছে না বলে অভিযোগ শিক্ষার্থীদের। এছাড়াও প্রায় ১০ হাজার মানুষের জন্য রয়েছে একটিমাত্র অ্যাম্বুলেন্স। যেটি সবসময় পাওয়া যায় না। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ২৬ কিলোমিটার দূরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হওয়ায় একই সময়ে একাধিক শিক্ষার্থী অ্যাম্বুলেন্স কল করলে ভীষণ বিপাকে পড়তে হয় অ্যাম্বুলেন্স ড্রাইভারকেও।

প্রতিষ্ঠার ১৫ বছরেও ব্যথার দান মেডিকেল সেন্টারে নিশ্চিত করা যায়নি দিবারাত্রি ২৪ ঘণ্টা কিংবা সপ্তাহের সাত দিনই স্বাস্থ্যসেবা সুবিধা। প্রতি সপ্তাহের শুক্রবার ও শনিবারের পাশাপাশি প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে সকাল ৯টা পর্যন্ত বন্ধ থাকে সব ধরনের স্বাস্থ্যসেবা। এছাড়া বিভিন্ন ছুটিতেও বন্ধ থাকে সেবাদান কার্যক্রম। 

সার্বিক সংকট ও অসংগতি নিয়ে ‘ব্যথার দান’ স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের উপপ্রধান মেডিকেল অফিসার ডা. আবুল খায়ের মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন বলেন, প্যাথলজিস্ট ও টেকনিশিয়ানের অভাবে আমরা ল্যাব চালু করতে পারছি না।  ফলে রক্ত পরীক্ষা, প্রস্রাব পরীক্ষা, আলট্রাসনোগ্রাম, ইসিজি করার প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম থাকলেও সেসব সেবা আমরা দিতে পারছি না। দীর্ঘদিন পরে থাকায় অনেক মেডিকেল সরঞ্জাম নষ্টও হয়ে গেছে এবং যাচ্ছে। 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার কৃষিবিদ ড. হুমায়ুন কবীর বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টার হলো প্রাথমিক চিকিৎসা কেন্দ্র। এখানে চাহিদার তুলনায় বরাদ্দ সংকট আছে। চিকিৎসক, নার্স, অ্যাটেনডেন্ট- অনেক রকমের জনবল প্রয়োজন। রোগ নির্ণয়, মেডিকেল টেস্টের জন্য আধুনিক সরঞ্জামাদিও দরকার হয়। 

তিনি আরো বলেন, আমরা চেষ্টা করব, মেডিকেল সেন্টারে এসব সংকট দূর করতে। প্রয়োজনীয় ঔষধ ক্রয়ে বরাদ্দ বাড়ানো আমাদের পরিকল্পনায় রয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/কেবি
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!