নুরের রংতুলির ছোঁয়ায় জীবন্ত গ্রাম-বাংলা
সময় যত যাচ্ছে উন্নত হচ্ছে দেশ। সবকিছুতে ছোঁয়া লাগছে কংক্রিট আর সিমেন্টের। গ্রামের মাটির মেঠোপথ তৈরি হচ্ছে কংক্রিট দিয়ে। যেখানে খেয়া পারাপারের দেখা নেই। দেখা পাওয়া যাবে না ধান কাটতে থাকা কাস্তে হাতে কৃষকের ছবি। গরু নিয়ে মাঠে দিকে ছুঁটছে রাখাল। এমন সব হারিয়ে যাওয়া ছবির দেখা এখন না পাওয়া গেলেও ঠিকই আপনার সামনে ভাসিয়ে তুলবে নুর আলম।
তিনি রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী। পড়েছেন চারুকলা অনুষদের চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগে। ২০১৫ সালে স্নাতক ও ২০১৬ সালে এই বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করেন। পরে শিক্ষা ও গবেষণা ইন্সটিটিউটে ১ বছর মেয়াদি বিএড কোর্স সম্পন্ন করেন। তার বাড়ি রংপুর জেলার পীরগাছা উপজেলার নটাবাড়ী গ্রামে।
সেই ছোটোবেলা থেকে ছবি আঁকার প্রতি নুরের আগ্রহ শুরু। বাবা ও ভাই ছবি আঁকতেন। দুজনকেই অনুসরণ করতেন। নতুন বই পেলে আগে দেখতেন সেই বইয়ের ছবি। পড়ার চেয়ে ছবি দেখে বেশি আনন্দ পেতেন। খাতায়, বইয়ের পাশে ফাঁকা জায়গায় মনের কল্পনা আঁকতেন ছবি। কাঠি দিয়ে মাটির উপরে ছবি আঁকতেন, সেই সঙ্গে বিভিন্ন লেখার ফ্রন্ট আঁকার চেষ্টা করতেন। এমনও সময় গেছে দিনরাত মানুষের প্র্যাকটিক্যাল খাতার ছবি এঁকে। এভাবেই ছবি আঁকার প্রতি দিনের পর আগ্রহ বাড়তে থাকলো।

সেই ছোটোবেলা থেকে চারুকলায় শিক্ষাজীবন পর্যন্ত প্রায় সবধরনের ছবি আঁকা হয়েছে। বর্তমানে হারিয়ে যাওয়া ‘বাংলার রূপ’ তার ছবিতে নিয়ে এসেছে। বাংলাদেশের প্রাকৃতিক রূপ বৈচিত্রকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরা জন্য এই উদ্যোগ নিয়েছে। তাই বাংলার প্রাকৃতিক রূপ, মাটির রসকে আমার ক্যানভাসে তুলে ধরেন নুর আলম।
চিত্রশিল্পী নুর বলেন, বর্তমানে শৈশবের সেই খেলার মাঠ, পুকুর-নদীতে সাঁতার কাটার ঘাট, নদী পারাপারের সেই সুখময় ঘাট আর নেই। বলতে গেলে শৈশবে আমরা যে গ্রামীণ সৌন্দর্যের ছোঁয়া পেয়েছি সেটি আর খুঁজে পাওয়া যায় না। বাংলার সেই প্রাকৃতিক রূপকে ক্যানভাসে ধরে রাখতে চাই। তাই ছবি আঁকার বিষয়বস্তু বেছে নিয়েছি বাংলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য। যেখানে থাকবে গ্রাম বাংলার চিরচেনা দৃশ্যগুলো।

নুর আলম বলেন, সবেমাত্র কর্মজীবনে প্রবেশ করেছি। অনেকগুলো আঁকা ছবি রয়েছে। সেগুলো বাজারজাত করার মতো এখনও ভালো কোনো ব্যবস্থা পাইনি। আমার ছবির দাম নির্ধারিত হয় ছবির সাইজ এবং কোয়ালিটির উপর নির্ভর করে। আপনারা চাইলে যে কেউ আমাকে দিয়ে কোনো ছবি এঁকে নিতে পারেন। অনলাইনে যে কয়েকটা ছবির অর্ডার পাই সেগুলো দিয়ে রং, তুলি, ক্যানভাস আরো কিছু আনুষাঙ্গিক জিনিসপত্র কিনতেই চলে যায়।
ভবিষ্যত পরিকল্পনা সম্পর্কে নুর বলেন, চিত্রশিল্পকে নিয়ে অনেক পরিকল্পনা রয়েছে। সেগুলো এখন কারো সঙ্গে শেয়ার করতে চাচ্ছি না। লক্ষ্য ঠিক করে আস্তে আস্তে এগিয়ে যাচ্ছি। তবে বর্তমান পরিকল্পনা হচ্ছে এক হাজার বাস্তবধর্মী পেইন্টিং করবো। আমার বাস্তবধর্মী ছবি আঁকতে ভালো লাগে। কারণ বাস্তবধর্মী ছবি সবাই বুঝতে পারে, অনুভব করতে পারে। আমি চাই সবাই আমার ছবির দর্শক হোক।