ঢাকা,  বৃহস্পতিবার   ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ শিক্ষা ]

উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করেই খোলা হবে ঢাবির হল

ঢাবি প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: ২১:৩৩, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২০
উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করেই খোলা হবে ঢাবির হল
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ।

করোনাভাইরাসের সংকটে পড়ে বন্ধ থাকা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করার পরই প্রতিষ্ঠানটির সব আবাসিক হল খুলে দেবে। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ক খসড়া প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া করোনা পরিস্থিতির উন্নতি হলে স্বাস্থ্য সুরক্ষা মেনে কীভাবে শিক্ষা ও হল কার্যক্রম চলবে তার জন্য প্রাধ্যক্ষদের নিয়ে একটি প্রভোস্ট কমিটি গঠন করা হয়েছে।

প্রভোস্ট কমিটির সদস্যসচিব বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. এ কে এম গোলাম রব্বানী বলেন, ‘পুরোবিশ্ব কোভিড-১৯ ভাইরাস’র ফলে সংকট পরিস্থিতি পার করছে। করোনাকালে আবাসিক হল খোলা ঝুঁকিপূর্ণ। ভাইরাসটির অগ্রগতি ও বিশেষজ্ঞদের মতামত সাপেক্ষে করণীয় নির্ধারণ করা হবে। 
করোনা সংক্রমণের ঝুকি থাকায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জীবনের নিরাপত্তাকে অবশ্যই প্রাধান্য দিতে হবে। হল ও শিক্ষা কার্যক্রম খোলার বিষয়ে গত ২৯ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ পরিষদভুক্ত ১৩টি ছাত্রসংগঠনের নেতাদের সঙ্গে বৈঠক হয়েছে। সে অনুযায়ী একটি পূর্ণাঙ্গ গাইড লাইনও তৈরি করা হচ্ছে। হলগুলোতে ২০ হাজারের মতো শিক্ষার্থী থাকে। তাদের ঝুঁকির কথা মাথায় রেখেই হল খোলা হবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ক্যাম্পাস খোলার পর শিক্ষার্থীদের এসব নির্দেশনা মেনে সব কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।’

এদিকে আবাসিক হলগুলোতে সুস্থ পরিবেশ ফেরাতে চলমান 'গণরুম' সংস্কৃতি বন্ধ ও গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করা শিক্ষার্থীদের উচ্ছেদ করা হবে। এরইমধ্যে হল খোলার আগে ছাত্রত্ব শেষ হওয়া শিক্ষার্থীরা প্রাধ্যক্ষদের সঙ্গে যোগাযোগ করে হল ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে প্রভোস্ট স্ট্যান্ডিং কমিটি। 

Advertisement

গত ৮ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের হলে ‘গণরুম সংকট’ নিরসন, করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি ও জীবনাচারের নিয়মকানুন বাস্তবায়নে ছাত্রত্বহীনদের হল ছাড়া জরুরি বলে এক ভার্চুয়াল সভায় মত দিয়েছেন প্রাধ্যক্ষরা। আবাসিক হলগুলো খোলার পূর্বশর্ত হিসেবে বিভিন্ন হলের স্থাপনাগুলো সংরক্ষণ, প্রাঙ্গণ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যবিধি ও জীবনাচার বিষয়ক নীতিমালা প্রণয়নের বিষয়ে গুরুত্বারোপও করে সভায় আলোচনা হয়। 

করোনাভাইরাস ছোঁয়াচে রোগ বলেই মাত্রাতিরিক্ত শিক্ষার্থী গণরুমে থাকা ঝুঁকিপূর্ণ। দুই জনের বদলে ৮ থেকে ১০ জন শিক্ষার্থী থাকলে স্বাস্থ্যবিধি মানা বা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা সম্ভব হবে না। ফলে স্বাস্থ্যঝুঁকি থেকেই যাবে। 

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বলছে, অ্যাকাডেমিক কার্যক্রম খোলার আগে আবাসিক হলগুলোতে আর গণরুম রাখা যাবে না। শিক্ষার্থীদের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতে বাসস্থানের দিকেই প্রথমেই নজর দিতে হবে। উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করেই হলগুলো খুলে দেয়া হবে। 

স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ক খসড়া নির্দেশনায় রয়েছে– 

প্রতিটি কাজের আগে ও পরে সাবান দিয়ে হাত-মুখ ভালোভাবে ধুতে হবে। হাত না ধুয়ে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করা যাবে না। করমর্দন ও আলিঙ্গন করা, যেখানে-সেখানে কফ, থুথু ফেলা থেকে বিরত থাকতে হবে। হাঁচি কাশি দেয়ার সময় হাতের কনুইয়ের ভাঁজ বা টিস্যু দিয়ে মুখ ও নাক ভালোভাবে ঢাকতে হবে।
সুষম খাবার গ্রহণের পাশপাশি পরিমাণ মতো পানি পান করতে হবে। কৃত্রিমজাত খাবার যথাসম্ভব পরিহারসহ নিয়মতান্ত্রিক ও সুশৃঙ্খল জীবন-যাপন করতে হবে। অধিক রাত না জেগে পরিমিত সময় পর্যন্ত বিশ্রাম নিতে হবে। খেলাধুলায় ও সহশিক্ষামূলক কাজে অধিকতর মনোনিবেশ করতে হবে। প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট শরীরচর্চাসহ স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত থাকতে হবে।

খসড়া নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, হলের কোনো কক্ষের মেঝেতে শোয়া যাবে না। এছাড়া দুই সিটের কক্ষে সর্বোচ্চ চার জন ও চার সিটের কক্ষে সর্বোচ্চ আট জনের বেশি শিক্ষার্থী থাকতে পারবেন না। বহিরাগত কাউকে কক্ষে অবস্থান করতে দেয়া যাবে না। কক্ষের বাইরে মাস্ক ব্যবহারের পাশপাশি কক্ষ ও কক্ষের বাইরে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে।

হলের ডাইনিং, ক্যান্টিন, রিডিংরুম, অডিটোরিয়াম, মেস, দোকান, সেলুন, টিভি রুম, অতিথি কক্ষ, পাঠাগার, মসজিদ ও উপসনালয়ে ভিড় করা যাবে না। দলবেধেঁ বা একা ঘোরাঘুরি থেকে বিরত থাকতে হবে। এছাড়া সভা-সমাবেশ, রেস্তোরাঁ ও গণপরিবহন যথাসম্ভব এড়িয়ে চলতে হবে।

চিকিৎসা সংক্রান্ত খসড়ায় বলা হয়, কোনো শিক্ষার্থীর অসুখ-বিসুখ থাকলে হল প্রশাসনকে আগেই জানাতে হবে। শিক্ষার্থী অসুস্থ হলে দ্রুত চিকিৎসা কেন্দ্রের ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। কোনো শিক্ষার্থীর করোনার উপসর্গ দেখা দিলে স্বাস্থ্যবিধি মেনে দ্রুত সেল্ফ কোয়ারেন্টাইনে যেতে হবে। 

প্রভোস্ট কমিটির সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের প্রাধ্যক্ষ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনেট সদস্য অধ্যাপক ড. আবদুল বাছির বলেন, নির্দেশনাগুলোর খসড়া তৈরি হলেও এখনো চূড়ান্ত করা হয়নি। খসড়া চূড়ান্ত হওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য সংবাদ সম্মেলন করে প্রকাশ করবেন।

আবাসিক হলের সুস্থ পরিবেশ নিশ্চিত হলেই আবাসিক হল খোলার কথা জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। চলতি বছরের নভেম্বর মাসে ক্যাম্পাস খোলা হতে পারে। এমন লক্ষ্যমাত্রা ধরেই প্রস্তুতি নেয়া হচ্ছে। তবে সরকারি নির্দেশনা ও বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে প্রশাসন। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান বলেন, সম্পূর্ণ স্বাস্থ্যবিধি মেনে কীভাবে আবাসিক হলগুলো খোলা যায় সে বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। 

কবে নাগাদ হল খোলা হবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এটা সামগ্রিক সিদ্ধান্তের ব্যাপার। তবে যখন খোলা হবে তখন স্বাস্থ্যবিধি ও বিজ্ঞানসম্মত উপায়েই খোলা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকেএ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!