দুই নারীকে নিষিদ্ধ পল্লীতে বিক্রি, স্বামী-স্ত্রী গ্রেফতার
যশোরে চাকরির প্রলোভনে দুই নারীকে ভারতের নিষিদ্ধ পল্লীতে বিক্রির মামলায় এক দম্পতিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
আসামিরা হলেন- যশোর সদরের শেখহাটি জামরুল তলার আরিফা আক্তার ওরফে পপি বেগম, তার স্বামী হালিম মোল্লা।
বুধবার দুপুরে যশোরের এসপির কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান এডিশনাল এসপি তৌহিদুল ইসলাম।
তিনি আরো জানান, ভারতের নিষিদ্ধ পল্লী থেকে পালিয়ে আসা এক ভুক্তভোগীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার অভিযান চালিয়ে ওই দম্পতিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার তৃতীয় আসামি ভারতের ব্যাঙ্গালুরুর সীমা সাহা।
এডিশনাল এসপি তৌহিদ জানান, ৮ মার্চ ভারতে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে প্রতিবেশী দুই নারীকে ব্যাঙ্গালুরুর সীমা সাহার কাছে পাঠিয়ে দেন আরিফা আক্তার ওরফে পপি বেগম। সেখানে আরো অনেক বাংলাদেশি মেয়েকে দেখতে পান ওই দুই নারী। তাদের সবাইকে পাচার করেছেন আরিফা আক্তার ওরফে পপি বেগম।
তিনি আরো জানান, দেশে ফিরে ওই নারী মানবাধিকার সংগঠন রাইটস যশোরের সহায়তা চান। পরে ওই সংগঠনের কাছ থেকে তথ্য নিয়ে দুই পাচারকারীকে গ্রেফতার করে হয়।
পালিয়ে আসা নারী জানান, ব্যাঙ্গালুরুতে তাদের একটি নিষিদ্ধ পল্লীতে রাখা হয়েছিলো। সেখানে তাদের পতিতাবৃত্তিতে বাধ্য করা হতো। রাজি না হলে নির্মম নির্যাতন করা হতো। সীমা সাহা তাদের জানিয়েছেন প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা করে বিক্রি করেছেন আরিফা আক্তার।
ওই নারী আরো জানান, একদিন সার্জারি ও অন্যান্য চিকিৎসার জন্য ব্যাঙ্গালুরুর জেপি নগরের একটি হাসপাতালে নেয়া হয় তাকে। সেখান থেকেই সুযোগ পেয়ে পালিয়ে আসেন তিনি।