ঢাকা,  বুধবার   ১৪ অক্টোবর ২০২৬, ২৮ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

কীটনাশক ছাড়াই লাউ চাষ করে সাফল্য

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৪:৫৭, ১৪ অক্টোবর ২০২৬
কীটনাশক ছাড়াই লাউ চাষ করে সাফল্য
আখাউড়ায় লাউ চাষে পরিচর্যায় ব‍্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক। ছবি :ডেইলি বাংলাদেশ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় কোনো ধরনের কীটনাশক ব্যবহার না করে দেশীয় পদ্ধতিতে হাইব্রিড জাতের লাউ চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন কৃষক আবু হানিফ ভূইয়া। বাড়ির পাশের ২৫ শতাংশ জমিতে লাউ চাষ করে ইতিমধ্যে চার হাজার টাকার বেশি বিক্রি করেছেন তিনি। ফলন ও বাজারদর ভালো থাকায় ওই জমি থেকে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে ৬০ হাজার টাকার বেশি লাউ বিক্রির আশা করছেন এ কৃষক।

আবু হানিফ ভূইয়া আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের রাজমঙ্গলপুর গ্রামের বাসিন্দা। তার সাফল্য দেখতে স্থানীয়দের পাশাপাশি আশপাশের বিভিন্ন এলাকার মানুষও তার জমিতে আসছেন। অনেকে তার কাছ থেকে লাউ চাষের পদ্ধতি ও পরিচর্যা সম্পর্কে পরামর্শ নিচ্ছেন।

কৃষক হানিফ ভূইয়া জানান, মৌসুম অনুযায়ী বছরের বেশির ভাগ সময় তিনি বিভিন্ন ধরনের সবজি চাষ করেন। প্রায় দুই মাস আগে বাড়িসংলগ্ন ২৫ শতাংশ জমিতে দেশীয় পদ্ধতিতে উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড জাতের লাউ চাষ শুরু করেন। জমি তৈরি, বীজ কেনা, চারা রোপণ, বেড়া দেওয়া ও আগাছা পরিষ্কারসহ এ পর্যন্ত তার প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে।

তিনি বলেন, নিয়মিত পরিচর্যার কারণে চারা রোপণের প্রায় ৪৫ দিনের মাথায় গাছে ফুল আসতে শুরু করে। এরপর ১০ থেকে ১২ দিনের মধ্যে লাউ খাওয়ার উপযোগী হয়ে ওঠে। ফলনও হয়েছে বেশ ভালো। গত এক সপ্তাহ ধরে তিনি লাউ বিক্রি করছেন। প্রতিটি লাউ ৫০ থেকে ৫৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। স্থানীয় ক্রেতাদের পাশাপাশি সবজি ব্যবসায়ীরাও সরাসরি ক্ষেত থেকে লাউ কিনে নিয়ে যাচ্ছেন।

হানিফ ভূইয়া আরও বলেন, এ পর্যন্ত চার হাজার টাকার বেশি লাউ বিক্রি করেছেন। গাছে যে পরিমাণ ফলন এসেছে, তাতে প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে ৬০ হাজার টাকার বেশি লাউ বিক্রি করা সম্ভব হবে বলে আশা করছেন তিনি।

সরেজমিনে দেখা যায়, জমিতে তৈরি মাচাজুড়ে ছড়িয়ে রয়েছে লাউগাছ। গাছের ডগায় ডগায় ফুটেছে সাদা ফুল। মাচার নিচে ঝুলছে অসংখ্য সবুজ লাউ। ভালো ফলন ধরে রাখতে সকাল-বিকেল জমির পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক হানিফ।

স্থানীয়দের মতে, স্বল্প পরিসরে পরিকল্পিতভাবে সবজি চাষ করেও যে ভালো আয় করা সম্ভব, হানিফের উদ্যোগ তার একটি উদাহরণ। তার চাষাবাদ পদ্ধতি দেখে অন্য কৃষকেরাও লাউ চাষে আগ্রহী হতে পারেন।

আখাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মাসুদ রানা বলেন, অন্যান্য অনেক ফসলের তুলনায় লাউ চাষে শ্রম তুলনামূলক কম লাগে এবং ফলনও ভালো পাওয়া যায়। উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় কৃষকেরা অন্যান্য সবজির পাশাপাশি বাণিজ্যিকভাবে লাউ চাষ করে লাভবান হচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, চেষ্টা ও সঠিক পরিচর্যা থাকলে কৃষিতে সফলতা পাওয়া সম্ভব। কৃষক হানিফ ভূইয়ার সাফল্য এর একটি উদাহরণ। উপজেলা কৃষি অফিস নিয়মিত কৃষকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ ও সহযোগিতা দিচ্ছে। বেকার যুবকেরা কৃষিকাজে এগিয়ে এলে তাদেরও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

কৃষি বিভাগের সহযোগিতা, উন্নত জাতের বীজ এবং নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে স্বল্প জমিতে সবজি চাষের এ ধরনের উদ্যোগ গ্রামীণ অর্থনীতিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে ফলন ও লাভ ধরে রাখতে রোগবালাই দমন, নিরাপদ চাষাবাদ এবং বাজারদরের বিষয়েও কৃষকদের সচেতন থাকা প্রয়োজন।

ক্যাপশন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ার রাজমঙ্গলপুর গ্রামে ২৫ শতাংশ জমিতে দেশীয় পদ্ধতিতে লাউ চাষ করে সাফল্য পেয়েছেন কৃষক আবু হানিফ ভূইয়া।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আখাউড়া/এমকে
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!