বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানীর তালিকায় রাজাপুরের ড. মেহেদী মাসুদ
আন্তর্জাতিক গবেষণাঙ্গনে সাফল্য অর্জন করেছেন ঝালকাঠির রাজাপুরের সন্তান অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মেহেদী মাসুদ। টেকসই উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সার্কুলার ইকোনমি নিয়ে গবেষণার স্বীকৃতি স্বরূপ যুক্তরাষ্ট্রের স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটি ও এলসেভিয়ারের ‘বিশ্বের শীর্ষ ২ শতাংশ বিজ্ঞানী’ তালিকায় স্থান পেয়েছেন তিনি। এ ছাড়া পরিবেশ শিক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়েও উল্লেখযোগ্য অবস্থান অর্জন করেছেন এ বাংলাদেশি গবেষক।
ড. মুহাম্মদ মেহেদী মাসুদের বাড়ি রাজাপুর উপজেলার শুক্তাগড় গ্রামে। তাঁর বাবা শিক্ষক মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান এবং মা গৃহিনী শামসুন্নাহার। তিন ভাই ও দুই বোনের মধ্যে তিনি সবার বড়। বর্তমানে ব্রুনাইয়ের সুলতান শরীফ আলী ইসলামিক ইউনিভার্সিটির ইসলামিক অর্থনীতি ও ফিন্যান্স অনুষদে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন।
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, সাইর্যাঙ্ক গ্লোবালের ২০২৫সালের রেজিস্ট্রিতেও বিশ্বের শীর্ষ ৫শতাংশ গবেষকের মধ্যে রয়েছেন মেহেদী মাসুদ। পরিবেশ শিক্ষা ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ে স্কলারলি ইনডেক্সের বৈশ্বিক র্যাঙ্কিংয়ে তাঁর অবস্থান ১৫৭তম। এ ক্ষেত্রে ব্রুনাইয়ের গবেষকদের মধ্যে তিনি প্রথম বলে উল্লেখ করা হয়েছে।
অর্থনৈতিক উন্নয়ন, পরিবেশ সংরক্ষণ ও সামাজিক কল্যাণের মধ্যে টেকসই ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা তাঁর গবেষণার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন জার্নালে তাঁর ১২০টির বেশি গবেষণা নিবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর দুটি একক গ্রন্থ এবং বিভিন্ন বইয়ে একাধিক অধ্যায় রয়েছে।
গবেষণায় তাঁর সাফল্যের চিত্র উঠে এসেছে বিভিন্ন একাডেমিক সূচকেও। গুগল স্কলারে তাঁর গবেষণাপত্রের উদ্ধৃতি ৭হাজার ৩৯৫টির বেশি এবং এইচ-ইনডেক্স ৪৪। অন্যদিকে, স্কোপাসে তাঁর গবেষণার উদ্ধৃতি ৩হাজার ৬০০টির বেশি। প্রতিযোগিতামূলক গবেষণা অনুদান কর্মসূচি এফআরজিএস ও এলআরজিএসের আওতায়ও গবেষণার সুযোগ পেয়েছেন তিনি।
বর্তমানে মালয়েশিয়ার ‘আইরিসাইকেল-মালয়েশিয়া’ প্রকল্পে গবেষক হিসেবে কাজ করছেন ড. মেহেদী মাসুদ। এ প্রকল্পে ই-বর্জ্য থেকে গুরুত্বপূর্ণ ধাতু পুনরুদ্ধার ও সার্কুলার ইকোনমি নিয়ে গবেষণা করা হচ্ছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও) এবং অ্যাসিয়ান অঞ্চলের অর্থনৈতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইআরআইএর পরামর্শক হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি প্রসঙ্গে ড. মেহেদী মাসুদ বলেন, “বিশ্বের শীর্ষ গবেষকদের তালিকায় স্বীকৃতি পাওয়া একটি বড় সম্মান। তবে আমি এটিকে একক কোনো সাফল্য মনে করি না; এটি আমার সহকর্মী, গবেষণা সহযোগী ও শিক্ষার্থীসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। টেকসই উন্নয়ন মানে শুধু পরিবেশ রক্ষা নয় এটি সামাজিক কল্যাণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকারের বিষয়।”
গবেষণার পাশাপাশি নিজ এলাকার মানুষের কল্যাণেও কাজ করছেন এ শিক্ষাবিদ। তিনি রাজাপুরে ‘ড. মেহেদী মাসুদ ফাউন্ডেশন’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। তাঁর আন্তর্জাতিক অর্জনে শুক্তাগড়সহ রাজাপুরের মানুষের মধ্যে গর্ব ও আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় শুভানুধ্যায়ী ও শিক্ষাবিদদের মতে, তাঁর এ সাফল্য দেশের তরুণ প্রজন্মকে গবেষণায় আগ্রহী হতে এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখতে অনুপ্রাণিত করবে।
গবেষণার মধ্য দিয়ে ব্রুনাই ও বাংলাদেশের মধ্যে জ্ঞানচর্চা এবং শিক্ষাগত যোগাযোগের ক্ষেত্রেও অবদান রেখে চলেছেন ড. মুহাম্মদ মেহেদী মাসুদ।