সিজারের পর পেটে গজ রেখে সেলাইয়ের অভিযোগ, বিথীর মৃত্যুতে তদন্ত কমিটি
ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের সময় বিথী আক্তারের পেটে গজ রেখে সেলাই করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অস্ত্রোপচারের পর দীর্ঘদিন শারীরিক জটিলতায় ভোগার একপর্যায়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলেছে পরিবার। বিষয়টি তদন্তে ছয় সদস্যের কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।
এদিকে বিথীর চিকিৎসা নিয়ে অভিযোগের মধ্যে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা নেওয়ার একটি লিখিত চুক্তি সামনে এসেছে। ১০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে করা ওই চুক্তিতে ৫৫ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তার উল্লেখ রয়েছে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে রোগীর পরিবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেবে না বা আর্থিক দাবি জানাবে না বলে উল্লেখ করা হয়েছে। নথিতে বিথীর স্বামী রাকিবুল ইসলামের স্বাক্ষর রয়েছে।
তবে এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক স্ট্যাটাসে নিজের অবস্থান তুলে ধরেছেন রাকিবুল। তার দাবি, ওই সময় তার কাছে মাত্র ২০ হাজার টাকা ছিল। হাসপাতালের বকেয়া বিলসহ নানা আর্থিক চাপে পড়ে তিনি স্ট্যাম্পে স্বাক্ষর করে ৫০ হাজার টাকা নিয়েছিলেন।
রাকিবুলের ভাষ্য, পরিবারের ভবিষ্যৎ ও আর্থিক পরিস্থিতি বিবেচনা করেই সে সময় তিনি ওই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। বিথীর মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বিষয়টি নিয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন।
পরিবারের অভিযোগ, গত ৬ মে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বিথীর সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার করা হয়। এ সময় তার পেটে গজ রেখেই সেলাই করে দেওয়া হয়েছিল। এরপর থেকে তিনি তীব্র ব্যথা ও বিভিন্ন শারীরিক জটিলতায় ভুগতে থাকেন।
শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে প্রথম অস্ত্রোপচারের প্রায় দুই মাস পর ১৫ জুলাই তার আবার অস্ত্রোপচার করা হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় অবস্থার আরও অবনতি হলে তাকে কয়েক দিন নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) রাখা হয়।
রাকিবুলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিথীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকলে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ৪ অক্টোবর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে তার মৃত্যু হয়।
বিথী আক্তার (২৫) রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার উজানচর ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের জামতলার হাটসংলগ্ন জ্যোতিনবর্দিপাড়া গ্রামের বাসিন্দা রাকিবুল ইসলামের স্ত্রী। তিনি ফরিদপুর শহরের একটি নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থী ছিলেন। পাশাপাশি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রশিক্ষণার্থী হিসেবে কাজ করতেন।
এ বিষয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ও ভারপ্রাপ্ত পরিচালক মানস কৃষ্ণ কুণ্ডু বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে টাকা দেওয়ার বিষয়টি তার জানা নেই। তবে বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে বলে তিনি শুনেছেন।
তিনি আরও বলেন, বিথীর চিকিৎসার জন্য একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়েছিল। বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাকে ঢাকায় পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
বিথীর চিকিৎসায় কোনো ধরনের অবহেলা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ছয় সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে বলে জানান মানস কৃষ্ণ কুণ্ডু। হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান স্বপন কুমার বিশ্বাসকে কমিটির প্রধান করা হয়েছে। কমিটিকে ১০ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।
মানস কৃষ্ণ কুণ্ডু বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পর এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।