ঢাকা,  রোববার   ০৪ অক্টোবর ২০২৬, ১৮ আশ্বিন ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]

নজর কাড়ছে ছাতিম ফুল

আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:৩২, ৪ অক্টোবর ২০২৬
নজর কাড়ছে ছাতিম ফুল
আখাউড়ায় ছাতিম ফুলের সৌন্দর্য ও মোহনীয় ঘ্রাণে প্রকৃতিকে মাতিয়ে তুলেছে। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ফুলকে ভালোবাসে ছোটবড় সবাই। ফুল যদি হয় ঘ্রাণময় তবে তো কথাই নেই। ফুল প্রকৃতিকে সুসজ্জিত করার পাশাপাশি সুঘ্রাণ দিয়ে মোহনীয় করে তোলে। মোহনীয় ঘ্রাণের এমনই এক ফুল হলো ছাতিম। এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় বিভিন্ন এলাকায় এ ফুলের সৌন্দর্য ও মোহনীয় ঘ্রাণে প্রকৃতিকে যেন মাতিয়ে তুলেছে। সন্ধ্যা থেকে রাত বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে এ ফুলের সুবাস যেন আরও ছড়িয়ে পড়ছে চারদিকে। সাদা ছোট ছোট ফুলের সমারোহ আর মিষ্টি-মোহনীয় ঘ্রাণে চারপাশের পরিবেশ হয়ে উঠেছে স্নিগ্ধ ও মনোমুগ্ধকর।

ছাতিম মূলত হেমন্তের ফুল। তবে শরতের শেষের দিক থেকেই প্রকৃতিতে এ ফুল ফুটতে শুরু করে। আর সব ফুল থেকে এ ফুলের ঘ্রাণ সম্পূর্ণ আলাদা ও মোহনীয় হওয়ায় সহজেই আকৃষ্ট করে মানুষকে।

এদিকে উপজেলার  বিভিন্ন রাস্তার পাশ খোলা জায়গায় দেখা মিলছে ছাতিম গাছের। গাছের ডালে ডালে ফুটে থাকা সাদা ফুল দূর থেকেই নজর কাড়ছে। ফুলের সৌন্দর্যের পাশাপাশি এর মিষ্টি ঘ্রাণ পথচারীদেরও আকৃষ্ট করছে।

স্থানীয়রা জানান, ছাতিম ফুল ফুটলে প্রকৃতিতে এক ধরনের ভিন্ন আবহ তৈরি হয়। দিনের বেলায় ফুলগুলো তেমন তীব্র ঘ্রাণ না ছড়ালেও সন্ধ্যার পর থেকে এর সুবাস চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। হালকা বাতাসে সেই ঘ্রাণ আরও দূরে ছড়িয়ে যায়।

ছাতিমগাছ ২০ থেকে ৪০ মিটার পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। এর পাতা ১০ থেকে ১৫ সেন্টিমিটার লম্বা হয়। এর পাতা উপরের দিকটা চকচকে আর নিচের দিকটা ধূসর রঙের। একাধিক শাখা-প্রশাখা বিশিষ্ট গাছটির ছাল অসমতল ও ধূসর। এই গাছের কাঠ ব্ল্যাকবোর্ড ও পেনসিল তৈরির কাজে ব্যবহৃত হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা মহসিন মিয়া  বলেন, এক সময় গ্রামগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় ছাতিম গাছ দেখা যেত। এখন অনেকটাই যেন প্রকৃতি থেকে কমে যাচ্ছে। তবে  ছাতিম ফুলের ঘ্রাণ মন কেড়ে নেওয়ার মতো আকর্ষণীয়। গাছে ফুল এলে সে ফুলের ঘ্রাণ অনেকটা এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে। রাত যত বাড়ে ছাতিম ফুলের ঘ্রাণ ততটাই তীব্র হয়। অনেক দিন পর এই গাছটি ফুলে ফুলে ভরা দেখে খুবই ভালো লেগেছে।

Advertisement

আলমগীর হোসেন বলেন, তারাগন আসার সুযোগ হওয়ায় অনেক দিন পর ছাতিম ফুল দেখতে পেলাম। যা খুবই ভালো লেগেছে। এ ফুলের ঘ্রাণ মানুষকে এতটাই প্রভাবিত করে যে মানুষ এ ফুলের ঘ্রাণে ডুবে যায়। ফুলের সৌন্দর্যের চেয়ে এ ফুলের ঘ্রাণই মানুষকে বেশি আকৃষ্ট করে। 

মনিরুল ইসলাম বলেন, ছাতিম ফুল ফুটলে এলাকার পরিবেশটাই যেন বদলে যায়। সন্ধ্যার পর বাতাসে ফুলের যে ঘ্রাণ ছড়িয়ে পড়ে, তা মনকে প্রশান্ত করে। ছোটবেলার অনেক স্মৃতিও এই ফুলের সঙ্গে জড়িয়ে আছে।

রিপন মিয়া বলেন, তারাগন ঈদগাহ মাঠে বড় আকারের একটি গাছ রয়েছে। পুরো গাছে ফুল ফুটেছে। ছাতিম গাছের ফুল দেখে যে কেউ মুগ্ধ হবে, আর সন্ধ্যার পর ফুলের গন্ধে মন ভরে যায়।

আখাউড়া উপজেলা উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এক সময় গ্রামাঞ্চলে ছাতিম গাছ দেখা যেতো। নানা কারণে এই গাছ আর তেমন চোখে পড়ে না। ফুলের সৌন্দর্যের চেয়ে এ ফুলের ঘ্রাণই মানুষকে আকৃষ্ট করে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আখাউড়া/জেডআই
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!