বৃহস্পতিবার বিকেলে শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, ইউনিয়ন পরিষদ ভবনসহ বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে। পানির নিচে রয়েছে হাজার হাজার হেক্টর ফসলি জমি। অনেক বাড়ির উঠান পেরিয়ে পানি ঢুকে পড়েছে ঘরের ভেতরেও। ফলে পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন এসব এলাকার বাসিন্দারা।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পদ্মার পানি বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে নিম্নাঞ্চলের নতুন নতুন এলাকায় পানি ঢুকছে। ইতোমধ্যে পাঁকা ইউনিয়নসহ নদীতীরবর্তী বিভিন্ন এলাকার অন্তত পাঁচ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। পানি দ্রুত কমে না এলে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
.png)
পানিবন্দি মানুষের সবচেয়ে বড় সংকট এখন বিশুদ্ধ খাবার পানি। পানির উৎসগুলো প্লাবিত হওয়ায় নিরাপদ পানি সংগ্রহ করতে দূরের এলাকায় যেতে হচ্ছে। এতে নারী, শিশু ও বয়স্কদের দুর্ভোগ বেড়েছে। পাশাপাশি পানিতে ফসলের মাঠ তলিয়ে যাওয়ায় কৃষকদের মধ্যেও দেখা দিয়েছে উদ্বেগ। পানি দীর্ঘ সময় স্থায়ী হলে ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা আসাদুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েক দিন ধরে পুরো গ্রাম পানিতে ডুবে আছে। বাড়ি থেকে বের হতে পারছি না। আমাদের খোঁজ নেওয়ার মতো কেউ নেই। সবচেয়ে বেশি সংকট দেখা দিয়েছে খাবার পানির।’
রূপালি বেগম বলেন, ‘হঠাৎ করে বাড়ির চারপাশে পানি বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে ঘরের ভেতরেও পানি ঢুকে গেছে। এখন ঘরের মেঝেতে পানি জমে আছে। রান্না করার মতো কোনো জায়গা নেই। চুলা বসানোরও সুযোগ নেই। পরিবারের সদস্যদের নিয়ে কোথায় রান্না করব, কীভাবে খাবার তৈরি করব সেটাই এখন বড় চিন্তা।’
পাঁকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক বলেন, পানিবন্দি পরিবারগুলোর তালিকা তৈরি করে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জন্য প্রয়োজনীয় সহায়তা চাওয়া হয়েছে।
শিবগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান বলেন, প্লাবিত এলাকায় শুকনো খাবারসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণ করা হচ্ছে। পানিবন্দি মানুষের দুর্ভোগ কমাতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম আহসান হাবীব বলেন, উজানের ঢলে পদ্মা নদীর পানি বেড়েছে। তবে পানি দ্রুত কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা আপাতত নেই।
তিনি জানান, বর্তমানে পদ্মা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৬ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা না করলেও নদীতীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের দুর্ভোগ ইতোমধ্যে বেড়েছে। পানি ঘরে ঢুকে পড়ায় রান্নার জায়গা হারিয়েছেন অনেক পরিবার। বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তার অপেক্ষায় রয়েছেন পানিবন্দি মানুষ।