দৃষ্টিনন্দন এ কাশফুলের রাজ্য এখন যমুনা নদীর চরে। জেলার কাজিপুর, চৌহালি, বেলকুচি, শাহজাদপুর ও সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার যমুনার তীরবর্তী বিশাল চর জুড়ে দেখা যাচ্ছে এই কাশবন। আর এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রতিদিনই ছুটে যান দর্শনার্থীরা।
কাশবনের ভিতরের দিকে গেলেই মনোমুগ্ধকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। দু’পাশে কাশফুলগুলো যেন মাথা নুয়ে অতিথিদের স্বাগত জানায়। বালুর মধ্যে কাশফুল যেন অপরূপ সাজে আর চোখে পড়ে কাশে ফুলের শুভ্রতা।
.png)
সরেজমিনে দেখা যায়, যমুনা নদীর ধারে নাটুয়ারপাড়া, খাসরাজবাড়ী, তেকানী, চরগিরিশ, মনসুর নগর, মাইজবাড়ী, মেছড়া, কাওয়াকোলা, কালিয়াহরিপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নে এ কাশফুলের বনে বনে মানুষের ভীড়। কাশবনে এ সৌন্দর্য দেখতে সিরাজগঞ্জ ছাড়াও আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকে ভ্রমণপ্রেমীরাও ঘুরতে আসেন। ভ্রমণকারিরা দল বেধে নৌকা নিয়ে চরে কাশফুলের রাজ্যে বেড়াতে যান। এসময় নদীর পাশে এবং কাশবনের ভেতরে গিয়ে ছবি তোলার হিড়িক পড়ে যায়। কেউ সেলফি তুলছেন আবার কেউবা ভিডিও করছেন। যমুনা নদীর বিরামহীন সৌন্দর্য। সূর্যাস্তের সময় নদীতে গোধূলির লাল, একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকার মতো। যে কেউই এর অপার সৌর্ন্দযের নীরব সাক্ষী হতে চাইবে।
নৌকার মাঝি শরিফুল জানান, প্রতি বছরের এ সময় নৌকার ব্যবসা ভালো হয়। কারন এই সময় ঘাটে বেড়াতে আসা অনেকেই নৌকায় করে কাঁশ বনে ঘুরতে ভালোবাসে। প্রতিদিন আমাদের ২/৩ হাজার টাকা আয় হয়। তাই আমরা জীবিকা নির্বাহের তাগিদে এই কাজ করি। প্রতিদিনই বিনোদন প্রেমীদের ভীড় থাকলেও শুক্রবার ও শনিবার ছুটির দিনে ভিড় বেশি থাকে আয়ও বেশি হয়।
বগুড়ার শেরপুর থেকে বেড়াতে আসা আকাশ ও রুপা বলেন, কাশফুলের কাছে এসে খুবই আনন্দ পাচ্ছি। মনকে পরিষ্কারের জন্য এখানে আসি। কাশফুলের সান্নিধ্য পাওয়াটা একটু বাড়তি বিনোদন। অবসর সময়টা কাটানোর ভিন্ন একটা স্থান কাশফুলে জেগে উঠা এ প্রকৃতি। ঘুরতে আসা স্বপ্না, আঁখি, সাদিয়া, অনিক, মারুফ জানান, যমুনা নদীর চরের কাশবন অনেক সুন্দর। দেখলে চোখ জুড়িয়ে যায়।
কাজিপুর উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ মোজাম্মেল হক বকুল বলেন, কাজিপুরের মেঘাই যমুনা নদীর পাড় একটি পর্যটন এলাকা। আমরা চাই এ অঞ্চলের ব্যাপারে দেশ-বিদেশের পর্যটন প্রেমীদের আগ্রহ বাড়ুক। তিনি আরো বলেন, শরৎকালে যমুনার চরের কাশফুলের অপরূপ সৌন্দর্য আসলেই বিনোদনপ্রেমীদের আকৃষ্ট করে।