রোববার (১৯ জুলাই) দুপুরে শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক ও জেলা জজ আলী মনসুর এ রায় ঘোষণা করেন।
রায় অনুযায়ী, প্রধান তিন আসামি মো. আনিস রানা, মো. সাইফুল ইসলাম ও মো. দুলালকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ৯(৩) ধারায় আমৃত্যু কারাদণ্ড এবং প্রত্যেককে দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ড করা হয়েছে। আদালত আরও নির্দেশ দেন, তারা ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৫(এ) ধারার সুবিধা বা জেল কোড অনুযায়ী কোনো ধরনের রেমিশন (সাজা হ্রাস) সুবিধা পাবেন না।
.png)
এ ছাড়া অপর তিন আসামি মো. আনিছুর, মো. খতিবুর খতু ও মো. লালুকে একই আইনের ৯(৩)/৩০ ধারায় যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, প্রত্যেককে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আদালত রায়ে আরও নির্দেশ দেন, দণ্ডিতদের কাছ থেকে আদায় করা অর্থ ভুক্তভোগীর ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করতে হবে। প্রয়োজন হলে দণ্ডিতদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ওই অর্থ আদায়ের জন্য জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১১ সালের ২১ অক্টোবর ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার দক্ষিণ সালন্দর এলাকায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোরীকে জোরপূর্বক অপহরণ করে সংঘবদ্ধভাবে ধর্ষণ করা হয়। ঘটনার চার দিন পর ভুক্তভোগীর বাবা ঠাকুরগাঁও সদর থানায় মামলা দায়ের করেন। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে প্রায় ১৫ বছর পর বহুল আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করা হলো।
রায় ঘোষণার সময় পাঁচ আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। তবে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত মো. আনিস রানা পলাতক থাকায় আদালত তার বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মো. বদিউজ্জামান চৌধুরী বাদল বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর পর হলেও ভুক্তভোগী পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে। আদালতের এই রায় সমাজে একটি কঠোর বার্তা দেবে যে, গুরুতর অপরাধ করে কেউ আইনের হাত থেকে রেহাই পাবে না। তিনি পলাতক আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে রায় কার্যকরেরও আশা প্রকাশ করেন।