এস আলম ও তার ভাইয়ের ব্যাংক শেয়ার জব্দের আদেশ
চট্টগ্রামে জনতা ব্যাংকের করা দুই হাজার কোটি টাকার ঋণখেলাপি মামলায় এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদ ও তার ভাই আবদুস সামাদ লাভুর দুই ব্যাংকের শেয়ার জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একইসঙ্গে এই ঋণের অনিয়ম খতিয়ে দেখতে দুর্নীতি দমন কমিশনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রোববার (১ ডিসেম্বর) চট্টগ্রাম অর্থঋণ আদালতের জজ মুজাহিদুর রহমান এ আদেশ দেন। দুই ভাইয়ের শেয়ার থাকা ব্যাংক দুটি হলো- আল আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক ও ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক।
আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী মোহাম্মদ শফিকুল ইসলাম চৌধুরী।
তিনি বলেন, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকে এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান সাইফুল আলম মাসুদের এবং আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংকে তার ভাই আবদুস সামাদ লাভুর কিছু শেয়ার আছে। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুজনের শেয়ারগুলো ক্রোকাবদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত। এছাড়া প্রায় দুই হাজার কোটি টাকার এই ঋণের এত বড় অনিয়ম কীভাবে হলো, সেটি তদন্ত করার জন্য দুদককে নির্দেশ দিয়েছেন।
এর আগে, একইদিন সকালে জনতা ব্যাংকের পক্ষে আদালতে মামলাটি করেন ব্যাংকটির প্রধান কার্যালয় ও সাধারণ বীমা শাখা কার্যালয়ের কর্মকর্তা সত্যজিত ঘোষ।
বাংলাদেশের কম্পট্রোলার অ্যান্ড অডিটর জেনারেল (সিএজি)-এর ২০২১ সালের এক নিরীক্ষা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা না মেনে ঋণসীমা অতিক্রম করে অতিরিক্ত ঋণ নিয়েছে এস আলম গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ট্রেডিং কর্পোরেশন। ২০১২ সালে সাধারণ বীমা ভবনে অবস্থিত জনতা ব্যাংকের চট্টগ্রাম কর্পোরেট শাখা থেকে প্রাথমিকভাবে ৬৫০ কোটি টাকা ঋণ নেয় গ্লোবাল ট্রেডিং কর্পোরেশন।
এই ঋণ ২০২১ সাল পর্যন্ত সুদ-আসলে মোট এক হাজার ৭০ কোটি ৬৫ লাখ টাকায় পৌঁছেছে। এরমধ্যে ৬১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা পিএডি (পেমেন্ট এগেইনস্ট ডকুমেন্ট), ২২৩ কোটি ১৮ লাখ টাকা এলটিআর (লোন ট্রাস্ট রিসিপ্ট) ঋণ এবং ২২৯ কোটি ৯৯ লাখ টাকা সিসি হাইপো ঋণ। সুদ-আসল মিলিয়ে ঋণের পরিমাণ ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এক হাজার ৮৫০ কোটি টাকায় উন্নীত হয়েছে।
গত ২০ নভেম্বর খেলাপি ঋণ আদায়ে এস আলম গ্রুপের এক হাজার ৮৬০ শতাংশ জমি নিলামে তুলে জনতা ব্যাংক। জনতা ব্যাংকের চট্টগ্রামের সাধারণ বীমা ভবন কর্পোরেট শাখা থেকে এই ঋণ নেয়ার ফলে শাখাটি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে নিলাম ডাকে। আপাতত গ্লোবাল ট্রেডিং কর্পোরেশনের ঋণ আদায়ে নিলাম ডাকা হলেও ধীরে ধীরে বাকি ঋণের জন্য অন্য বন্ধকি সম্পত্তি নিলামে তোলা হবে বলে জানা গেছে। নিলামে তোলা সম্পদগুলো চট্টগ্রামের পটিয়া, কর্ণফুলী, কোতোয়ালি, চান্দগাঁও ও বাকলিয়া এবং গাজীপুরে। এসব জমির বাজারমূল্য সাড়ে ৩০০ কোটি টাকার মতো।