ঢাকা,  শনিবার   ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান, স্বস্তি প্রকাশ

সেলিম রানা, গাজীপুর 
প্রকাশিত: ১৫:২৫, ১৬ অক্টোবর ২০২৪
চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে যৌথ অভিযান, স্বস্তি প্রকাশ
গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকায় সেনাবাহিনী ও বিজিবির যৌথ অভিযান। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

গাজীপুরের কোনাবাড়ি এলাকায় সেনাবাহিনী ও বিজিবির যৌথ অভিযানে চাঁদাবাজ মো. আবুল বাছেতকে আটক করা হয়েছে। 

শনিবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে কোনাবাড়ি কাঁচা বাজারে অভিযান পরিচালিত হয়। অভিযানের সময় মো. আবুল বাছেতকে চাঁদা তোলার সময় হাতেনাতে ধরা হয়। আটককৃত মো. আবুল বাছেত জামালপুর জেলার বিকপাই গ্রামের নুরু মিয়ার ছেলে। আটক করার পর তাকে দুপুর ১২টার দিকে কোনাবাড়ি থানায় হস্তান্তর করা হয়।

স্থানীয় ব্যবসায়ী আশরাফ মিয়া জানান, এই ধরনের অভিযান আমাদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। অপরাধ কমলে আমরা ব্যবসা নিয়ে নিশ্চিন্তে কাজ করতে পারবো এবং ক্রেতারাও নির্ভয়ে কেনাকাটা করতে আসবে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর এ উদ্যোগকে আমরা সাধুবাদ জানাই। এ সমস্ত চাঁদাবাজির কারণে আমাদের বাজারের সুনাম নষ্ট হয়ছে, ক্রেতা সমাগম কমে যাচ্ছে অনেক।

আলমগীর হোসেন জানান, আগের তুলনায় এখন বাজারে আসতে অনেকটা নিরাপদ বোধ করবো। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতার কারণে আমরা স্বস্তি পাচ্ছি এবং আশা করছি এ ধরনের অভিযান আরো চলবে। এতে করে বাজারের দ্রব্যমূল্যের দাম কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কোনাবাড়ী কাঁচা বাজারের এক আড়তদার জানান, বাজারে চাঁদাবাজি একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। চাঁদাবাজদের হাতে ব্যবসায়ীরা কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছেন। 

তিনি বলেন, বহুদিন ধরেই এরা প্রকাশ্যে চাঁদাবাজি করে আসছে, আর এর ফলে বাজারের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। বাজারের প্রতিটি ব্যবসায়ীকে বাধ্য হয়ে প্রতি বস্তায় ১০ থেকে ২৫ টাকা পর্যন্ত চাঁদা দিতে হয়, যা পণ্যের মূল্যের ওপর প্রভাব ফেলে।

তিনি আরো বলেন, এই চাঁদার কারণে আমাদের পণ্যের দাম কেজি প্রতি কিছুটা বেড়ে যায়। পাইকারী ক্রেতারা যখন ১০ থেকে ৫০ বস্তা পর্যন্ত পণ্য কিনে, তখন সেই পণ্যের দাম আরো বেশি হয়ে যায়। এভাবে ক্রেতারা অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধ করতে বাধ্য হন, যা বাজারের প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। চাঁদাবাজি নিয়ে অনেক সময় ব্যবসায়ীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা থেকে শুরু করে হাতাহাতি পর্যন্ত ঘটে।

তিনি জানান, চাঁদা দেওয়া নিয়ে আলোচনা করতে গেলে চাঁদাবাজদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা এবং শারীরিক সংঘর্ষও ঘটে যায়।

বাজারের এমন পরিস্থিতিতে ব্যবসায়ীরা অত্যন্ত হতাশ এবং প্রশাসনের হস্তক্ষেপের দাবি জানাচ্ছেন, যেন চাঁদাবাজির এই অপসংস্কৃতি বন্ধ হয় এবং বাজারে স্বাভাবিক ব্যবসায়িক পরিবেশ ফিরে আসে।

কোনাবাড়ি থানার ওসি মো. নজরুল ইসলাম বলেন, আটককৃত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলমান থাকবে। আটক চাঁদাবাজের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য মামলা প্রক্রিয়াধীন। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: গাজীপুর
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!