জানা গেছে, হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলার হংগুমিয়াপাড়া গ্রামের বাসিন্দা ফজলুর রহমান। তিনি ওই গ্রামের মহন মিয়া ছেলে। পেশায় শান দেওয়ার কারিগর। এ কাজ করে তিনি ৮ সদস্যের পরিবার সামলাচ্ছেন।
ফজলুর রহমানের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত পড়ালেখা করেছেন তিনি। ১৮ বছর বয়সে গাজীপুরে তিনি এ কাজ শিখেন। সেখানেই ৮ বছর কাটিয়ে দেন। এরপর থেকে দেশের বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে এ কাজ করছেন। এ কাজকেই তিনি পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছেন। দুই ছেলে, দুই মেয়ে সন্তান, মা-বাবাসহ মোট আট সদস্যের পরিবার তার। সবার ভরণ-পোষণই তার আয় থেকে মেটানো হয়। তার উপরই সবাই নির্ভরশীল।
.png)
তিনি জানান, শান দেওয়ার মেশিন মোটামুটি ওজন আছে। প্রতিদিন কাঁধে করে নিয়ে বাড়ি বাড়ি ঘুরতে হয়। এক বাড়িতে কাজ শুরু করলে খবর পেয়ে অন্য বাড়ি থেকেও লোকজন এসে তাদের দা-ছুরি-বটি ইত্যাদিতে শান করিয়ে নেন। কৌতূহলী অনেকে আবার প্যাডেল ঘুরিয়ে শান দেওয়ার দৃশ্য দেখতেও ভিড় করেন। প্রতিদিন দুই থেকে তিন হাজার টাকার মতো আয় হয়ে থাকে। তবে পরিশ্রমের কাজ হওয়ায় মাঝে মাঝে বিরতি দিয়ে বিশ্রাম নিতে হয়।
ফজলুর রহমান জানান, প্রায় সারা বছরই কাজের চাপ থাকে। তবে কোরবানি ঈদের আগে কাজের চাপ কিছুটা বেশি থাকে। এসময় বাড়ির লোকজন তাদের প্রয়োজনীয় দা, ছুরি, বটি, শিলপাটায় শান দিতে অপেক্ষায় থাকেন।
তিনি বলেন, কয়েক মাস আগে পাকুন্দিয়া উপজেলার মঠখোলা এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়েছি। সেখান থেকেই উপজেলাসহ আশপাশের এলাকার বাড়ি বাড়ি গিয়ে শানের কাজ করছি। পরিবারের লোকজন নিজের বাড়িতে থাকি। প্রতিদিনকার আয় থেকে নিজের খরচ রেখে বিকাশে বাড়িতে পাঠিয়ে দিই। এভাবেই চলছে। সব কিছুর দাম বাড়ছে। তাই বাড়তি টাকা আয়-রোজগার করতে সপ্তাহের প্রতিদিনই এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় ছুটে বেড়াচ্ছি।