ঢাকা,  শুক্রবার   ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনা ধামাচাপা দিতে ভয়ংকর সহপাঠীর কাণ্ড

গাজীপুর প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:১১, ৩০ জুন ২০২৪
মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনা ধামাচাপা দিতে ভয়ংকর সহপাঠীর কাণ্ড
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

মোবাইল ছিনতাইয়ের ঘটনা ধামাচাপা দিতে মোহাইমেনুল ইসলাম মাহি নামে গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড হাই স্কুলের এক শিক্ষার্থীকে গলা কেটে হত্যার চেষ্টা করেছেন তারই কয়েক সহপাঠী। 

মাহি ওই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র এবং গাজীপুর মহানগরের পশ্চিম চত্বর (স্কুল গেইট) এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা মো. মহসিন মিয়ার ছেলে। 

এ ঘটনায় অভিযুক্ত অপর তিন শিক্ষার্থীকে পুলিশ গ্রেফতার করলে তারা গাজীপুর মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ ইকবাল হোসেনের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি প্রদান করে। 

অভিযুক্তরা হলেন গাজীপুর ক্যান্টনমেন্ট বোর্ড হাই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র এবং ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা মডেল থানার বড়াইদ গ্রামের মোজাম্মেল হোসেনের ছেলে জোবায়ের রহমান আলভী, বর্তমানে সে গাজীপুর মহানগরের কলাবাগান এলাকার সামসুর বাড়ির ভাড়াটিয়া। 

অপর দুইজন হলেন একই স্কুলের ছাত্র এবং গাজীপুর মহানগরের হাতিয়াব এলাকার স্থানীয় তাইফ ইবনে মোফাসাল এবং গাজীপুর আইডিয়াল স্কুলের ছাত্র এবং মহানগরের মারিয়ালী কলাবাগান এলাকার ভাড়াটিয়া নুরু মিয়ার ছেলে হৃদয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম এবং মামলার বাদী ভিকটিমের মা ফারিয়া আক্তার জানান, গাজীপুর ক্যান্টমেন্ট বোর্ড হাই স্কুলের নবম শ্রেণির ছাত্র মোহাইমেনুল ইসলাম মাহির সম্প্রতি একটি মোবাইল ফোন খোয়া যায়। গত ২৪ জুন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাহির তিন সহপাঠী জোবায়ের রহমান আলভি, তাইফ ইবনে মোফাসাল এবং তারেক আজিজ পশ্চিম চত্বর স্কুল গেইট এলাকার ভিকটিমের বাসার সামনে এসে মাহিকে বাসা থেকে বাইরে নিয়ে যায়। পরে তারা মাহির খোয়া যাওয়া ওই মোবাইল ফোনটি পাওয়া গেছে বলে কৌশলে অপহরণ করে একটি অটোরিকশায় তুলে পার্শ্ববর্তী ২৬ নম্বর ওয়ার্ড মারিয়ালী কলাবাগানের পাগলার মাঠে নিয়ে যায়। সেখানে নিয়ে তারা এবং আগে থেকে ওৎপেতে থাকা হৃদয় নামে একজন মিলে ভিকটিমের সঙ্গে থাকা স্মার্ট মোবাইলটি ছিনিয়ে নেয়। 

ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার জন্য তারা ভিকটিমকে মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেয় এবং সে মোতাবেক পার্শ্ববর্তী বিথীকা আবাসিক প্রকল্পের নির্মাণাধীন একটি ভবনের দ্বিতীয় তলায় নিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা নিশ্চিত ভেবে ওই ভবনে ফেলে রেখে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। 

পরে দুপুর পৌনে ২টার দিকে স্থানীয় কয়েক যুবক ওই ভবনে গিয়ে অজ্ঞান অবস্থায় মাহিকে উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যায়। মাহি বর্তমানে গাজীপুর শহিদ তাজ উদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে। এ ঘটনায় ২৫ জুন ভিকটিমের মা বাদী হয়ে গাজীপুর মেট্রোপলিটন সদর থানায় উল্লেখিত ৪ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেন।  

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে
ট্যাগ: গাজীপুর
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!