স্ত্রী-সন্তান ফেলে ভায়রার মেয়েকে নিয়ে উধাও স্বামী, অতঃপর...
ইউনুস সরদার। বয়স ৩১। স্ত্রী-সন্তান ফেলে নবম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে বিয়ে করে পালিয়ে গেছেন। ফলে বিপদে পড়েছে পরিবারটি। বর্তমানে দুই সন্তান নিয়ে মানবেতর জীবন কাটছে স্ত্রী রাবেয়া আক্তারের। সন্তানের ক্ষুধার যন্ত্রণা, সামাজিক বঞ্চনা এবং স্বামীর নেয়া ঋণের কারণে রাবেয়া এখন দিশাহারা।
ঘটনাটি ঘটেছে পটুয়াখালীর কলাপাড়ার খাজুরা গ্রামে। ২০১৩ সালে পারিবারিকভাবে রাবেয়ার সঙ্গে বিয়ে হয় ইউনুসের। তাদের ঘরে ৯ বছরের বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন একটি মেয়ে ও তিন মাসের আরো একটি কন্যাসন্তান রয়েছে।
জানা যায়, ইউনুস এবং ওই ছাত্রীর পরিবার একই এলাকায় থাকে। এই সুবাদে মেয়েটির সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে ইউনুসের। টিকটকে তাদের নিয়মিত যোগাযোগ হতো। সবশেষ ১৪ ফেব্রুয়ারি এনজিও থেকে লোন নিয়ে ওই মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে পালিয়ে যান ইউনুস। পরে উভয় পরিবার জানতে পারে, তারা বিয়ে করেছেন। কিন্তু কোথায় আছেন সেই হদিস মেলেনি এখনো। ওই শিক্ষার্থী নবম শ্রেণিতে পড়ে। আর ইউনুস সম্পর্কে তার খালু।
ইউনুসের স্ত্রী রাবেয়া বলেন, আমার এক মেয়ের বয়স মাত্র তিনমাস। আরেকজন প্রতিবন্ধী। এরমধ্যে আবার এনজিও থেকে দুই লাখ টাকা ঋণ নেয়া। এনজিওর লোকেরা প্রতিদিন আসে টাকার জন্য। অথচ আমার সন্তানদের খাবারের জন্য ঘরে পানি ছাড়া কিছুই নেই। আমার ছোট ভাই দিনমজুরির কাজ করে। গত একমাস ধরে তার টাকায় কোনোমতে খেয়ে যাচ্ছি। মাঝে মাঝে না খেয়ে থাকতে হয়। কখনো আশপাশের লোকজন কিছু খাবার দেয়।
তিনি আরো বলেন, আপনারা একটু আমার স্বামীকে খুঁজে বের করে দিন, আমার পরিবারটাকে বাঁচান। না হয় আত্মহত্যা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. সবুজ বলেন, এই পরিবারের একমাত্র আয়ের ব্যক্তি ছিল ইউনুস। তিনি এইভাবে পালিয়ে যাওয়ায় আর্থিক সংকটে পড়েছে তারা।
পালিয়ে যাওয়া ওই শিক্ষার্থীর মা বলেন, আমার মেয়ে দাদাবাড়ি যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হয়। পরে খোঁজ করে জানতে পারি সে আমার বোনের স্বামীর সঙ্গে পালিয়েছে। এরপর আমরা থানায় জানাই। পুলিশ এসে উভয় পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছে।
মহিপুর থানার এএসআই সাধন কুমার পাল বলেন, আমাদের কাছে মৌখিকভাবে বিষয়টি জানিয়েছেন তারা। ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পরিবার ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেছি। তবে তারা মামলা কিংবা অভিযোগ করতে রাজি নয়, নিজেরাই খোঁজাখুঁজি করছে।
মহিপুর থানার ওসি আনোয়ার হোসেন তালুকদার বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনি ব্যবস্থা নেয়া হবে।