ঢাকা,  মঙ্গলবার   ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩

Advertisement
[ দেশজুড়ে ]
বিকট শব্দে নিচে পড়ে নির্মাণাধীন বহুতল ভবনের স্টিলের পাত 

অল্পের জন্য বেঁচে ফেরা সেই স্কুলছাত্রীর ভিডিও ভাইরাল

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১১:০৭, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩
অল্পের জন্য বেঁচে ফেরা সেই স্কুলছাত্রীর ভিডিও ভাইরাল
ছবি: সংগৃহীত

বৃহস্পতিবার তখন সকাল। ওই সময় স্কুলে যাওয়ার জন্য বাসা থেকে মূল সড়ক দিয়ে স্কুলে যাচ্ছিলেন দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী খন্দকার জেবা ফারিহা। এ সময় আবাসিকেই বায়ো প্রপার্টিজ ডেভেলপার কোম্পানির নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবন থেকে হঠাৎ বিশাল আকৃতির একটি স্টিলের পাত বিকট শব্দে নিচে পড়ে। কয়েক সেকেন্ড আগেও সেই স্থান দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন জেবা। অল্পের জন্য পাতটি তার মাথায় পড়েনি। ভারী স্টিল পড়লেও কয়েক সেকেন্ডের ব্যবধানে ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া ওই ছাত্রীর সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ভাইরাল হয়েছে। 

ঘটনাটি ঘটেছে চট্টগ্রামের আমিরবাগে। বৃহস্পতিবার এ ঘটনার একটি সিসি ক্যামেরার ফুটেজ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এই ফুটেজ দেখে নানা সমালোচনার ঝড় ওঠে। সুরক্ষা ছাড়া ভবন নির্মাণকাজ বন্ধে প্রশাসনকে তৎপর হওয়ার দাবিও জানান বাসিন্দারা। ওই ছাত্রী নগরীর বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা স্কুলের ছাত্রী। 

শনিবার রাতে সরেজমিনে দেখা যায়, প্রতিবাদের মুখে আমিরবাগে নির্মাণাধীন বহুতল ভবনটির নির্মাণকাজ বন্ধ রয়েছে। ভবন কর্তৃপক্ষ নিরাপত্তা বেষ্টনী নির্মাণের কাজ চালাচ্ছেন।

Advertisement

সিসি ক্যামেরার ফুটেছে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে স্কুলে যাওয়ার জন্য আমিরবাগে নিজের বাসা থেকে মূল সড়কে যাচ্ছিল বাংলাদেশ মহিলা সমিতি বালিকা স্কুলের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী খন্দকার জেবা ফারিহা। এ সময় আবাসিকেই বায়ো প্রপার্টিজ ডেভেলপার কোম্পানির নির্মাণাধীন একটি বহুতল ভবন থেকে হঠাৎ বিশাল আকৃতির একটি স্টিলের পাত বিকট শব্দে নিচে পড়ে। কয়েক সেকেন্ড আগেও সেই স্থান দিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলেন জেবা। অল্পের জন্য পাতটি তার মাথায় পড়েনি। এ ঘটনার আকস্মিকতায় ভয় পেয়ে যায় সে। পরে স্কুলে না গিয়ে বাসায় ফিরে যায় ওই শিক্ষার্থী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনার পরপরই ওই ম্যানেজারসহ কিছু নির্মাণশ্রমিক ভবন থেকে বের হয়ে এসে পাতটি সরিয়ে নেয়। নির্মাণাধীন ওই বিল্ডিং থেকে প্রায়ই কিছু না কিছু পড়ে। কোনো ধরনের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা ছাড়াই অবাধে চলছে এ বহুতল ভবন নির্মাণকাজ।

ওই ছাত্রীর বাবা অ্যাডভোকেট মহিউদ্দিন সোহেল বলেন, মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া জানাই, আমার মেয়ে বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে। আমার একটাই চাওয়া আমার মেয়ের সঙ্গে যা ঘটেছে, সেটা যেন পুনরায় না ঘটে। ওই নির্মাণাধীন ভবনে নিরাপত্তা বেষ্টনী ব্যবহার করতে হবে। এতে জনগণের পাশাপাশি তারাও নিরাপদ থাকবেন।

এদিকে, ওই ঘটনায় বাসিন্দাদের প্রতিবাদের মুখে ভবনটির নির্মাণকাজ বন্ধ করে দেয় আমিরবাগ হাউজিং সোসাইটি।

আমিরবাগ হাউজিং সোসাইটি সাধারণ সম্পাদক শহীদুল ইসলাম বলেন, নিরাপত্তা বেষ্টনীর মধ্যে কাজ করার কথা অনেকবার বলার পরও তারা শোনেননি। এমনটা না করলে আমরা ভবনটির নির্মাণকাজ করতে দেব না। তারা আমাদের কথা শুনে বন্ধ করে দিয়েছে কাজ। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এসআরএস
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!