মুমূর্ষুদের ফ্রি সেবা দিচ্ছে ‘তিন চাকার অ্যাম্বুলেন্স’
প্রত্যন্ত গ্রামগঞ্জের অনেক গরিব-অসহায় রোগীরা ঠিকমতো চিকিৎসা করাতেই হিমশিম খাচ্ছেন। সেখানে মুমূর্ষু অবস্থায় তাদের পক্ষে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে রোগীকে হাসপাতালে নেয়া দুঃসাধ্য হয়ে দাঁড়ায়।
নিজ এলাকার সেসব গরিব-অসহায় রোগীদের কথা বিবেচনা করে একটি অটো কিনে দিয়েছেন পুলিশ সদস্য জীবন মাহমুদ। তিনি ওই অটোর নাম দিয়েছেন ‘তিন চাকার অ্যাম্বুলেন্স’।
পুলিশ সদস্য জীবন মাহমুদ ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার টবগী ইউনিয়নের মুলাইপত্তন গ্রামের দফাদার বাড়ির মো. শাহাবুদ্দিনের একমাত্র সন্তান। জীবন মাহমুদ বর্তমানে বরিশাল জেলা পুলিশের এসএফ শাখায় কর্মরত আছেন।
জানা যায়, পুলিশ সদস্য জীবন মাহমুদ বেতনের টাকা জমিয়ে এই তিন চাকার অ্যাম্বুলেন্সটি কিনে দেন। এই অ্যাম্বুলেন্সের মাধ্যমে তার গ্রামসহ আশেপাশের বেশ কয়েকটি এলাকার রোগীদের প্রয়োজনে ফ্রিতে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয়। জীবন মাহমুদের উপহারের এই তিন চাকার অ্যাম্বুলেন্সে কোরআনের হাফেজদেরও ভাড়া ফ্রি। জীবন মাহমুদের ব্যতিক্রমী সেবামূলক এ উদ্যোগ পুরো জেলায় ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে।
অন্যদিকে, পুলিশ সদস্য জীবন মাহমুদ অসহায়দের কর্মসংস্থান, প্রতিবন্ধীদের হুইল চেয়ার প্রদানসহ বেশ কয়েকজন এতিম শিশুর পড়ালেখার দায়িত্ব নিয়েছেন। তার এসব কর্মকাণ্ডের ফলে এরমধ্যে এলাকায় একজন মানবিক পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচিত অর্জন করেছেন জীবন মাহমুদ।
এ ব্যাপারে জীবন মাহমুদ বলেন, গ্রামের গরিব-অসহায় রোগীদের পক্ষে ২ থেকে ৩ হাজার টাকা অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া দিয়ে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেয়া সম্ভব না। এসব অসহায় মানুষের কথা ভেবে নিজের সাধ্যের মধ্যে একটি অটো কিনে দিয়েছি। যার নাম রেখেছি তিন চাকার অ্যাম্বুলেন্স। এর মাধ্যমে গ্রামগঞ্জের গরিব ও অসহায় রোগীরা উপকৃত হবেন। তারা উপকৃত হলেই আমার কাজের সার্থকতা পাবে।