দেদারছে চলছে অবৈধ ইটভাটা
নরসিংদীর মনোহরদীতে প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞার পরও বন্ধ হয়নি এএফডি ও আরএসএফ নামে অবৈধ দুটি ইটভাটা। উপজেলার দৌলতপুর ইউনিয়নের হরিনারায়ণপুর গ্রামে অবৈধ দুটি ইটভাটা পরিবেশ অধিদফতরের ভ্রাম্যমাণ আদালত বন্ধ করে দেয়। এক সপ্তাহের মধ্যে আবারও সেই দুটি ইটভাটায় দেদারসে চলছে ইট তৈরি কার্যক্রম।
গত ২৮ নভেম্বর অভিযান চালিয়ে পরিবেশ অধিদফতরের মনিটরিং এন্ড এনফোর্সমেন্ট উইংয়ের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ফয়জুন্নেছা আক্তার দুটি ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ করে দেন।
এ সময় পরিবেশগত ছাড়পত্রবিহীন অবৈধভাবে ইটভাটা পরিচালনার দায়ে ৫ লাখ করে মোট ১০ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। এক্সকেভেটর দিয়ে গুড়িয়ে দেওয়া হয়। এই অভিযানের পর এক সপ্তাহ পার না হতেই ফের কার্যক্রম শুরু করে এই দুটি অবৈধ ইটভাটা।
গত বুধবার (১৬ নভেম্বর) সরেজমিনে আরএসএফ এবং এএফডি ব্রিকসে গিয়ে দেখা যায়, দুটি ভাটায় ইট পোড়ানো হচ্ছে। শতাধিক শ্রমিক দুটি ইট ভাটায় মাটি প্রস্তুত, ইট তৈরি, শুকানো এবং পোড়ানোর কাজ করছেন। নিষিদ্ধ হলেও ইট তৈরিতে ব্যবহার করা হচ্ছে ফসলি জমির মাটি। ইটভাটার দক্ষিণ পাশেই রয়েছে হরিনারায়ণপুর ফাজিল মাদরাসা, বিপুল স্মৃতি উচ্চ বিদ্যালয় এবং একটি হাফিজিয়া মাদরাসা। লাইসেন্সবিহীন এই ইটভাটার চিমনি দিয়ে প্রচন্ড বেগে বের হচ্ছে ধোঁয়া। আর সেই ধোঁয়া স্কুল-মাদরাসার কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলছে। এছাড়াও আশপাশের বসতি কলাবাগান ও অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি করছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বলেন, পাশাপাশি দুটি ইটভাটার চিমনি থেকে বের হওয়া ধোঁয়ায় পরিবেশ দূষণ হচ্ছে। যার ফলে এই এলাকার তিন ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
কীভাবে অবৈধ ভাটায় ইট তৈরি হচ্ছে, জানতে চাইলে আরএসএফ ইটভাটার ব্যবস্থাপক ছমির চন্দ্র বলেন, আমরা কীভাবে ইটভাটা চালাই প্রশাসন সব জানে। কারণ, তাদের না জানিয়ে ভাটা চালানো সম্ভব না। তাছাড়া কাগজপত্র নবায়নের জন্য জেলা প্রশাসক ও পরিবেশ অধিদফতরে আবেদন করা হয়েছে।
এএফটি ব্রিক ফিল্ডের মালিক সামসুল হক কাজল বলেন, শুধু আমার ভাটার না উপজেলার অধিকাংশ ইটভাটারই পরিবেশ অধিদফতরসহ আনুসাঙ্গিক কাগজপত্র নেই। আমরা পরিত্যক্ত ইটভাটাটি নতুন করে চালু করেছি। কৃষি ও পরিবেশ অধিদফতরসহ সব বিভাগে কাগজ নবায়নের জন্য আবেদন করা হয়েছে। তাছাড়া প্রতি বছর মালিক সমিতির লোকজন প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করে। অভিযানের পর প্রশাসন ম্যানেজ করে মৌখিক অনুমতি দেওয়ায় ভাটায় ইট পোড়ানোর কাজ চলছে।
মনোহরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, অবৈধ দুটি ইটাভাটার কার্যক্রম বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়টি শুনেছি। তবে পুনরায় চালু করার বিষয়টি জানা নেই। মালিকরা ভাটা চালু করে থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে। তাছাড়া প্রশাসন ম্যানেজের বিষয়টি সঠিক নয়।
নরসিংদী পরিবেশ অধিদফতরের উপপরিচালক শেখ মো. নাজমুল হুদা বলেন, ভেঙে দেওয়ার পরও ইটভাটাগুলো পুনরায় কীভাবে চলছে তা আমার জানা নেই। দ্রুত অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।