টানা ছুটিতে বান্দরবানে খালি নেই হোটেল-মোটেল
বছরের শেষে টানা ছুটি পেয়েছেন অনেকে। আর এ ছুটি কাটাতে আগেভাগেই বুকিং দিয়েছেন দেশের বিভিন্ন পর্যটন এলাকার হোটেল-মোটেল। এর মধ্যে বান্দরবানের হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীরাও বেশ সাড়া পেয়েছেন ভ্রমণপিপাসুদের।
শুক্র-শনিবার সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে ২৫ ডিসেম্বর বড়দিন মিলিয়ে তিনদিনের ছুটি পাচ্ছেন সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীরা। তাই প্রিয়জনের সঙ্গে সময় ভাগাভাগি করতে বান্দরবানে অগ্রিম হোটেলের কক্ষ বুকিং দিয়েছেন পর্যটকরা।
বৃহস্পতিবার সকালেই পর্যটকের পদচারণায় মুখর হয়ে উঠেছে অধিকাংশ হোটেল। কক্ষ পেতে ব্যাগপত্র নিয়ে এক হোটেল থেকে অন্য হোটেলে ছোটাছুটি করতেও দেখা গেছে অনেককে।
হোটেল ব্যবসায়ীরা জানান, বান্দরবানে সারা বছরই পর্যটকের আনাগোনা থাকে। তবে নভেম্বর, ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে কয়েকগুণ বেড়ে যায়। ফলে ভালো ব্যবসার অপেক্ষায় থাকেন ব্যবসায়ীরা। কিন্তু চলতি বছরে নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসের অধিকাংশ সময় পার হলেও তেমন পর্যটকের সাড়া মেলেনি। তবে সাপ্তাহিক ও বড়দিনের ছুটি মিলিয়ে এ তিনদিনের টানা ছুটিতে আশানুরূপ পর্যটকের সাড়া পেয়েছেন তারা। এর মধ্যে শুক্রবারের জন্য অধিকাংশ হোটেলের শতভাগ কক্ষ বুকিং হয়ে গেছে। এছাড়া আগামী ২৪ ডিসেম্বর ৮০ শতাংশ ও ২৩ ডিসেম্বর প্রায় ৬০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বরাদ্ধ নিয়ে রেখেছেন বান্দরবান ভ্রমণপিপাসুরা।
হোটেল হিল্টনের ম্যানেজার মো. আক্কাস উদ্দীন বলেন, শুক্রবার হোটেলের সব কক্ষই অগ্রিম বরাদ্দ নিয়ে রেখেছেন ভ্রমণপিপাসুরা। এছাড়া টানা তিনদিনের ছুটিতে ২৪ ডিসেম্বর ৮০ শতাংশ ২৩ ডিসেম্বর ৬০ শতাংশ কক্ষ বুকিং হয়েছে।
হোটেল গ্র্যান্ড ভ্যালির ম্যানেজার মো. সুমন বলেন, আমার হোটেলেও ২৩ ডিসেম্বর শতভাগ কক্ষ পরিপূর্ণ। এছাড়া ২৪ ও ২৫ ডিসেম্বরও ভালো পর্যটকের সাড়া রয়েছে।
হোটেল হিলভিউয়ের ফ্রন্টডেক্স ম্যনেজার মো. লিমন সরকার বলেন, ২৩ ডিসেম্বর শতভাগ, ২৪ ডিসেম্বর ৮০ শতাংশ ও ২৫ ডিসেম্বর ৬০ শতাংশ কক্ষ অগ্রিম বুকিং নিয়েছেন ভ্রমণপ্রত্যাশীরা।
বান্দরবান হোটেল মালিক সমিতির সভাপতি অমল কান্তি দাশ বলেন, দীর্ঘদিন মন্দাভাব শেষে ২৩, ২৪ ও ২৫ ডিসেম্বর টানা ছুটি উপলক্ষে ভালোই পর্যটকের সাড়া পাওয়ার কথা জানিয়েছেন হোটেল ব্যবসায়ীরা। ২৩ ডিসেম্বর অধিকাংশ হোটেলের শতভাগ কক্ষ আগাম বুকিং দিয়ে রেখেছেন অনেক পর্যটক।
তিনি বলেন, সাধারণত সন্ধ্যার পর বান্দরবান ভ্রমণকারীদের তেমন বিনোদনের অবকাশ থাকে না। ফলে হোটেলে কিংবা রাস্তায় ঘোরাঘুরি করে সময় কাটাতে হয়। বিষয়টি বিবেচনায় রেখে সংশ্লিষ্টদের সম্মতিক্রমে পর্যটক মৌসুমে বান্দরবান সদর এলাকার কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয়া হচ্ছে।
বান্দরবান টুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত সুপার নকিবুল ইসলাম বলেন, বান্দরবান ভ্রমণে আগত পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা দিতে সব প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। এছাড়া প্রত্যেক পর্যটন স্পটে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সাদা পোশাকেও নিয়োজিত থাকবে পুলিশ।