মেয়ের কথায় বের হলো হত্যার রহস্য, বাবা-মা গ্রেফতার
সাত বছর বয়সী সায়মা নামে এক শিশুকন্যাকে শ্বাসরুদ্ধ করে হত্যা শেষে প্রতিবেশী হানিফ মিয়ার ঘরের আলমারিতে লাশ রেখে দেওয়া হয়েছে। লাশ গুম করতে বস্তাবন্দি করে আলমারিতে রাখা হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে। অবশেষে হানিফ মিয়ার শিশুকন্যা রাইসার কথামতো তাদের ঘরের আলমারি থেকে শিশু সায়মার লাশ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে জেলার শিবপুর উপজেলার যোশর ইউনিয়নের যোশর গ্রামে। এই গ্রামেরই সারোয়ার হোসেনের মেয়ে সায়মা আক্তার। সে স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী।
শিশু সায়মা আক্তারের পরিবার জানায়, মঙ্গলবার স্কুল থেকে এসে দুপুরে খেয়ে খেলার উদ্দেশ্যে বাইরে হয়। এদিকে সন্ধা গড়িয়ে গেলেও সায়মা বাড়িতে না আসায় খোঁজাখুঁজি শুরু করে সায়মার স্বজনরা। কোথাও সায়মার খোঁজ না পেয়ে প্রতিবেশী হানিফ মিয়ার বাড়িতে সায়মাকে খুঁজতে যান সায়মার স্বজনরা। এ সময় হানিফ মিয়ার শিশুকন্যা সায়মার কথামতো তাদের আলমারি থেকে সায়মার বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে।
শিশু রাইসার ভাষ্যমতে, স্বর্ণের জিনিসের জন্য হত্যার পর সায়মার লাশ বস্তাবন্দি করে আলমারির ভেতরে রেখে দেন রাইসার মা সেলিনা। এসময় স্থানীয়রা হত্যার ঘটনায় অভিযুক্ত নারী সেলিনা ও তার রিকশাচালক স্বামী হানিফ আটক করে স্থানীয়রা।
খবর পেয়ে শিবপুর মডেল থানা পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে শিশু সায়মার লাশ উদ্ধার করে। ঐ সময় অভিযুক্ত সেলিনা ও তার স্বামী হানিফকে গ্রেফতার করা হয়।
সায়মার বাবা সারোয়ার হোসেন বলেন, স্কুল থেকে ফিরে আমার মেয়ে সায়মা খেলতে বের হয়। তখন তার গলায় একটি চেইন ও কানের দুল ছিল। পার্শ্ববর্তী সেলিনা আমার মেয়ের কানের দুল ছিনিয়ে নেয়। ঐ সময় আমার মেয়ে চেইন ও কানের দুল নেয়ার খবর আমাদের বলে দেবে জানালে সেলিনা তাকে গলা টিপে হত্যা করে। পরে লাশ বস্তাবন্দি করে আলমারির ভেতরে রেখে দেয়। পরে হানিফের শিশু মেয়ে রাইসা আমাদের বিষয়টি জানিয়ে দেয়।
শিবপুর মডেল থানার ওসি সালাউদ্দিন মিয়া জানান, কি কারণে হত্যা করা হয়েছে তা এখনো পরিষ্কার নয়। তবে হত্যার পর তারা পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ গিয়ে হানিফ ও সেলিনার ঘর থেকে বস্তাবন্দি লাশ উদ্ধার করে এবং অভিযুক্ত নারী ও তার স্বামীকে গ্রেফতার করে।