ঢাকা,  শনিবার   ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

কুষ্টিয়ায় ডাবল মার্ডারের ফাঁসির আসামি নয়ন বন্ড আটক

কুষ্টিয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৬:৪৪, ১২ সেপ্টেম্বর ২০২২
কুষ্টিয়ায় ডাবল মার্ডারের ফাঁসির আসামি নয়ন বন্ড আটক
ছবি : ডেইলি বাংলাদেশ

কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় মুজিবর রহমান মাস্টার ও তার ভাই মিজানুর রহমানকে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে হত্যার দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি নয়ন শেখ ওরফে নয়ন বন্ডকে আটক করেছে র‌্যাব-১২ কুষ্টিয়া ক্যাম্পের অভিযানিক দল। 

রোববার (১১ সেপ্টেম্বর) রাতে রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পলাশী গ্রাম থেকে তাকে আটক করা হয়েছে। এ সময় তার কাছে থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করা হয়। এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন র‌্যাব-১২ কুষ্টিয়া ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডার স্কোয়াড্রন লিডার মোহাম্মদ ইলিয়াস খান।

নয়ন বন্ড কুষ্টিয়ার ভেড়ামারা উপজেলার ফকিরাবাদ গ্রামের নজরুল শেখের ছেলে। তার কাছ থেকে একটা বিদেশি পিস্তল এবং ৫ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করা হয়।

র‍্যাব সূত্রে জানা গেছে, ২০১৬ সালের ২৫ এপ্রিল মসজিদ থেকে নামাজ শেষে বাড়ি ফেরার পথে ভেড়ামারা উপজেলার গোলাপনগর এলাকায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা আক্রমণ চালিয়ে কুপিয়ে ও ছুরিকাঘাত করে ভেড়ামারা উপজেলার গোলাপনগর ইউনিয়নের ফকিরাবাদ গ্রামের মুজিবর রহমান মাস্টার ও তার ভাই মিজানুর রহমানকে হত্যা করে। ভিকটিমদের ৭ম শ্রেণিতে পড়ুয়া নাতনিকে ইভ টিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় তাদের হত্যা করা হয়।

হত্যার ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে নিহতের ছেলে জাহারুল ইসলাম বাদী হয়ে ঘটনার পরদিন ভেড়ামারা থানায় মামলা করেন। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ১২ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। মামলার বিচার শেষে ২০১৯ সালের ১ ডিসেম্বর কুষ্টিয়ার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক নয়ন শেখসহ ৪ আসামিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড ও ৭ জন আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করে। এছাড়া  একজন আসামিকে ১০ বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পলাতক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নয়ন শেখকে আটক করেছে র‍্যাব-১২।

হত্যাকাণ্ডের পর নয়ন প্রথমে ঢাকায় পালিয়ে যায়। তারপর কোর্টে আত্মসমর্পণ করে এ মামলায় দেড় বছর জেল খাটে। জেল থেকে জামিনে মুক্তি পেলেও পরবর্তীতে জামিন বাতিল হওয়ায় সে ভারতে পালিয়ে যায়। সেখানে সে এক গৃহস্থের বাড়িতে রাখাল হিসেবে কাজ করতো। ভারতে থাকা অবস্থায় সে কুষ্টিয়া ও রাজশাহীর বালুর ইজারাদারদের কাছ থেকে বিকাশের মাধ্যমে নিয়মিত চাঁদা আদায় করতো। এছাড়া তার বিরুদ্ধে নিজস্ব ট্রলার যোগে মাদক ব্যবসা, মারামারি ইত্যাদি কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএইচ
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!