ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

সময় হলেই রানার কাছে ছুটে আসে ক্ষুধার্ত শালিক

চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৯:০২, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২২
সময় হলেই রানার কাছে ছুটে আসে ক্ষুধার্ত শালিক
শালিকগুলো খাবার সময় হলে রানার কাছে ছুটে আসে- ছবি: সংগৃহীত

অনেকেরই প্রকৃতি, বন্যপ্রাণী কিংবা পাখির প্রতি টান থাকে। তাদের থাকে পশু-পাখির প্রতি বিশেষ ভালোবাসা। তেমনি এক পাখিপ্রেমী ব্যক্তি চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মনিউর রানা। তিনি প্রতিদিন ক্ষুধার্ত শালিকের খাবার দেন। পাখিগুলোও খাবার সময় হলে তার কাছে ছুটে আসে।

মনিউর রানা প্রায় তিন বছর ধরে প্রতিদিন শালিক পাখির খাবার দেন। প্রথমে প্রায় ২০টি শালিক তার দেওয়া খাবার খেতে আসত। তবে ক্রমেই পাখির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে তার কাছে খাবার খেতে আসে প্রায় ২০০টি শালিক।

খাবারের সময় হলে শালিকগুলো জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে বৈদ্যুতিক লাইনের তার ও অন্যান্য স্থাপনার বিভিন্ন স্থানে বসে কিচিরমিচির শুরু করে। প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে পাখিগুলো খাবারের জন্য জড়ো হয়। নিয়মিত বেলা ১১টার দিকে পাখিগুলো খাবারের জন্য আসে। চানাচুর, বিস্কুট, পাউরুটি, মুড়ি, পরোটার টুকরোসহ বিভিন্ন খাবার দেওয়া হয় এ সময়।

চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার দৈালতদিয়াড় পাড়ায় মনিউর রানার বাড়ি। তিনি ২০ বছর ধরে জীবননগর উপজেলার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে রানা এক্সরে নামে একটি প্রতিষ্ঠান চালান। 

রানা জানান, করোনা মহামারির সময়ে একদিন দুপুরে বেলা পাঁচ থেকে সাতটা শালিক তার প্রতিষ্ঠানের সামনে কিচিরমিচির শব্দ করে খাবার খুঁজছিল। তিনি এ সময় কিছু মুড়ি ও চানাচুর পাখিগুলোকে খেতে দেন। এগুলো খেয়ে পাখিগুলো চলে যায়। এরপর তিনি চিন্তা করেন করোনার কারণে বাজারগুলোতে মানুষের উপস্থিতি কম হওয়ায় অধিকাংশ দোকান বন্ধ। এ জন্য পাখিগুলো খাবার সংকটে পড়েছে। এ জন্য তিনি পাখিগুলোর নিয়মিত খাবার দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।

এরপর থেকে তিনি চানাচুর, বিস্কুট, পাউরুটি, মুড়ি, পরোটা কিনে খাবার তৈরি করে পাখিদের দিতে থাকেন। প্রথম দিকে ২০টির মতো পাখি আসলেও ধীরে ধীরে শালিকের সংখ্যা বাড়তে থাকে। এখন প্রায় ২০০ শালিক খাবার খেতে আসে।

জীবননগর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শারমিন আক্তার জানান, শালিক ফসলের জন্য উপকারী পাখি। এরা ধান ক্ষেতের ক্ষতিকারক পোকামাকড় খেয়ে থাকে। এর ফলে কৃষকদের কীটনাশক খরচ অনেকাংশে কমে যায়। এ জন্য শালিক বাঁচিয়ে রাখা প্রয়োজন। রানার মতো প্রত্যেকেরই পাখির প্রতি উদারতা দেখানো উচিত।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এইচএন
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!