মিথ্যা ধর্ষণের মামলা করে হয়রানি, বাদীর ৫ বছরের কারাদণ্ড
কক্সবাজারে ধর্ষণের মিথ্যা অভিযোগে মামলা দিয়ে হয়রানি ও মানহানি করায় রোজিনা আক্তার নামে এক নারীকে ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো দুমাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
সোমবার বিকেলে কক্সবাজার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এ শুনানি শেষে বিচারক মো. মশিউর রহমান খান এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি রোজিনা আক্তার মহেশখালীর শাপলাপুরের দিনেশপুর এলাকার হোছন আলীর মেয়ে। তার মামলার আসামি ছিলেন একই এলাকার ইসলাম মিয়ার ছেলে মো. আলী।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী স্পেশাল পিপি অ্যাডভোকেট সৈয়দ মো. রেজাউর রহমান জানান, রোজিনা আক্তার নামে এক নারী মো. আলীর বিরুদ্ধে ২০০৯ সালে মহেশখালী থানায় ধর্ষণের অভিযোগে একটি মামলা করেন। তবে মামলাটি তদন্তে মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তা। এরপর মামলা থেকে মো. আলীকে অব্যাহতি প্রদান করেন বিচারক। সোমবার মো. আলীকে হয়রানি ও মানহানির পাল্টা মামলায় ওই নারীর বিরুদ্ধে এ রায় দেন আদালত।
নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর সিনিয়র বেঞ্চ সহকারী মোহাম্মদ শামীম জানান, ধর্ষণের মতো কোনো ঘটনা না ঘটা সত্ত্বেও মিথ্যা মামলা দিয়ে আলীকে হয়রানি করেছেন রোজিনা আক্তার। এই অভিযোগে ২০১০ সালে মামলা করেন মো. আলী। সাজানো কাল্পনিক মামলা দায়ের করে মানহানিসহ ১ কোটি টাকা ক্ষতি সাধনের অভিযোগ আনেন তিনি। অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় প্রতারক নারী রোজিনা আক্তারের ৫ বছর সশ্রম কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরো দুমাস বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করেছেন আদালত।
তিনি আরো জানান, মামলার সাক্ষী ও তথ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিচারক এ রায় দেন। রায় ঘোষণাকালে আসামি পলাতক ছিলেন।