ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

পুকুরে সাঁতার কাটছিল শিশুরা, হঠাৎ পায়ে লাগল রক্তাক্ত দেহ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:১৬, ২৮ আগস্ট ২০২২
পুকুরে সাঁতার কাটছিল শিশুরা, হঠাৎ পায়ে লাগল রক্তাক্ত দেহ
ঘটনাস্থলে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা

পুকুরে সাঁতার কাটছিল বেশকিছু শিশু। এর মধ্যেই তাদের পায়ে লাগে রক্তাক্ত মরদেহ। বিষয়টি বুঝতে পেরে জানানো হয় আশপাশের লোকজনদের। পরে ৯৯৯-এ কল দিলে মরদেহটি উদ্ধার করে পুলিশ।

রোববার দুপুরে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের অন্নদা উচ্চ বিদ্যালয়ের বোর্ডিং মাঠের পাশে পুকুর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। মরদেহটি ১৭ বছর বয়সী আশিফা জাহান শিপার। তিনি শহরের মুন্সেফপাড়া এলাকার শাহানুর ইসলামের মেয়ে। তিনি এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।

স্থানীয়রা জানায়, মুন্সেফপাড়ায় বাসা ভাড়া নিয়ে থাকতেন শাহানুর ইসলাম। শনিবার দুপুরে প্রাইভেট পড়ার জন্য বাসা থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন শিপা। পরে বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি স্বজনরা। রোববার দুপুরে অন্নদা উচ্চ বিদ্যালয়ের বোর্ডিং মাঠের পাশে পুকুরে শিপার রক্তাক্ত মরদেহ দেখে স্বজনদের খবর দেয় স্থানীয়রা। পরে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

শিপা হত্যায় পূর্বের পরিচিত শিক্ষক বায়েজিদ মিয়াকে দায়ী করেছেন স্বজনরা। তিনি প্রায়ই শিপাকে বাজে মন্তব্য করতেন বলে জানিয়েছেন তারা। তার শাস্তিও দাবি করেছেন শিপার পরিবারের লোকজন।

শিপার চাচা সবুজ মিয়া বলেন, শনিবার দুপুরে প্রাইভেট পড়ার জন্য বাসা থেকে বের হয় শিপা। এরপর আর বাড়ি ফেরেনি মেয়েটি। পরে শিক্ষক বায়েজিদ মিয়ার সঙ্গে কথা বলি। তার কথাবার্তায় আমাদের সন্দেহ হয়। বারবার আমাদের পুকুর পাড়ের আশপাশে আসতে বলেন তিনি। এর কিছুক্ষণ পর বোর্ডিং মাঠের পাশ থেকে শিপার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। বায়েজিদই আমার ভাতিজিকে হত্যা করে পানিতে ফেলে দিয়েছেন।

সহপাঠী জানিয়া আক্তার বলেন, বেশ কিছুদিন ধরেই অন্য মনস্ক ছিল শিপা। কারো কাছে কিছুই বলত না। যদি কেউ তাকে হত্যা করে থাকে তাহলে আমরা তার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করি।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর মডেল থানার এসআই মো. লেবু মিয়া বলেন, দুপুরে জেলা শহরের অন্নদা উচ্চ বিদ্যালয়ের বোর্ডিং মাঠের পাশের পুকুরে সাঁতার কাটছিল বেশকিছু শিশু। এ সময় শিপার মরদেহ তাদের পায়ে লাগে। পরে স্থানীয়দের বললে ৯৯৯-এ কল করা হয়। এরপর মরদেহটি উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। এ ঘটনায় শিক্ষক বায়েজিদকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন স্থানীয় লোকজন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!