ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

ছদ্মবেশে এলাকায় ঢুকে সব লুট করতো তারা

নোয়াখালী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:৪৯, ৭ আগস্ট ২০২২
ছদ্মবেশে এলাকায় ঢুকে সব লুট করতো তারা
ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নোয়াখালীর বিভিন্ন এলাকায় প্রথমে অতিথি, ছাত্র ও সার্ভিসম্যান হিসেবে প্রবেশ করতো। তারপর যেসব বাড়িতে দাড়োয়ান থাকতো না সেসব বাড়িতে চুরি করার লক্ষ্য ঠিক করতো। তারপর সুযোগ বুঝে ছদ্মবেশে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি দিয়ে তালা ও গ্রিল কেটে বিভিন্ন অভিনব পন্থায় দ্রুত মূল্যবান মালামাল চুরি করে ঘটনাস্থল হতে পালিয়ে যেত তারা।

নিজ সম্মেলন কক্ষে রোববার (৭ আগস্ট) দুপুরে আন্তঃজেলা ও বিভিন্ন মহানগরীর চোর চক্রের ২ সক্রিয় সদস্য গ্রেফতার ও মালামাল উদ্ধার নিয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন জেলা পুলিশ সুপার মো. শহীদুল ইসলাম। 

গ্রেফতার আশিকুল ইসলাম মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলার আশুলির চর পূর্বকান্দি গ্রামের মৃত আসলাম মোল্লার ছেলে ও মো. মামুন মোল্লা খুলনার সোনাডাঙা থানার নিরালা বাজার এলাকার মৃত আরমান মোল্লার ছেলে। 

পুলিশ সুপার শহীদুল ইসলাম বলেন, গত ৫ এপ্রিল নোয়াখালী পৌরসভার ২নং ওয়ার্ডের মাস্টারপাড়া এলাকায় গোল্ডেন প্যালেসের ২য় তলার দরজা ভেঙে ১৫ ভরি স্বর্ণালংকার ও এক লাখ টাকা চুরি করে নিয়ে যায়। আমরা ভিডিও ফুটেজ পর্যবেক্ষণ করে জেলা পুলিশের বিশেষ অভিযানের মাধ্যমে আশিকুল ইসলাম (৩০) ও মো. মামুন মোল্লাকে (২৮) গ্রেফতার করি। তারা রাজধানীসহ সারাদেশে অভিনব কৌশলে চুরি করতো। তাদের বিরুদ্ধে সারাদেশে অসংখ্য মামলা রয়েছে। 

তিনি আরো বলেন, গতকাল ৬ আগস্ট রাতে ঢাকার ডেমরা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে 
চোরাই মালামাল চারটি ছোট বড় স্বর্ণের আংটি, এক জোড়া কানের দুল, একটি স্বর্ণের চেইন, একটি লকেট, একজোড়া রুপার চুড়ি, দুই জোড়া নুপুর, একটি ব্রেসলাইট, একটি ল্যাপটপ, দুটি মোবাইল সেট, নগদ ৫ হাজার ৯০০ টাকাসহ চুরির কাজে ব্যবহৃত যন্ত্রপাতি একটি রেঞ্জ, একটি তালা ভাঙ্গার টালী উদ্ধার করা হয়। 

পুলিশ সুপার আরো বলেন, আসামিরা প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নোয়াখালীর চুরির বিষয়টি স্বীকার করেছে। তারা বিভিন্ন জেলা ও রাজধানীতে একাধিক চুরির ঘটনা ঘটিয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন জেলা ও রাজধানীতে একাধিক মামলা রয়েছে। এছাড়াও তারা এই মামলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রদান করেছে। যা যাচাই-বাছাইসহ তদন্ত অব্যাহত আছে।

পুলিশ সুপার বলেন, গ্রেফতারকৃত আসামিদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করে পলাতক আসামিদের গ্রেফতার অভিযান অব্যাহত আছে। আসামিদের পুলিশ রিমান্ডে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করে আরো অন্যান্য চুরির ঘটনার রহস্য উদঘাটন করা হবে বলেও জানান তিনি। 

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর দফতর) মো. মোর্তাহীন বিল্লাহ, সুধারাম মডেল থানার ওসি মো. আনোয়ারুল ইসলাম, জেলা গোয়েন্দার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।

ডেইলি-বাংলাদেশ/আরএম
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!