চালকের সঙ্গে ‘ভাব’ জমিয়ে করত সর্বস্ব লুট
চট্টগ্রামে অভিযান চালিয়ে অটোরিকশা ছিনতাই চক্রের দুই সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ সময় ছিনতাই করা দুটি অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়।
বুধবার দুপুরে এ তথ্য নিশ্চিত করেন কোতোয়ালি থানার ওসি জাহিদুল কবির। এর আগে, সোমবার তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতাররা হলেন লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা ইউপির মাইজভিলা এলাকার ইউসুফের ছেলে মো. রায়হান ও জসিমের বাড়ির সিরাজুল ইসলামের ছেলে রবিউল হোসেন রমিজ।
পুলিশ জানায়, ২১ জুন রাতে নিজের চালিত অটোরিকশা নিয়ে কোতোয়ালি থানার হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী রোডের হোটেল ক্যাফে জামানের সামনে আসেন আব্দুল মন্নান ওরফে মান্নান। ঐ সময় দুই ব্যক্তি তার গাড়িটি ভাড়ায় নিয়ে কর্ণফুলী থানার মইজ্জ্যারটেক মোড়ে যান এবং তার সঙ্গে সুসম্পর্ক ও বিশ্বস্ততা তৈরি করে তাকে চায়ের সঙ্গে চেতনানাশক ওষুধ খাইয়ে অজ্ঞানের পর কাগজপত্রসহ গাড়িটি নিয়ে পালিয়ে যান। পরে ঐ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়।

এদিকে, সোমবার বিকেলে কোতোয়ালি থানার ফিরিঙ্গীবাজার মোড়ে বসানো চেকপোস্টে বিভিন্ন গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করছিল পুলিশ। ঐ সময় দ্রুতগতিতে আসা একটি অটোরিকশাকে থামানোর সংকেত দেওয়া হয়। কিন্তু চালক সেই সংকেত অমান্য করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সন্দেহ হয় এবং তাৎক্ষণিক ধাওয়া করে গাড়িটিসহ চালক মোহাম্মদ রায়হানকে আটক করা হয়।
আটকের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রায়হান জানান, গাড়িটি চোরাই। গাড়িটি নিয়ে লোহাগাড়া উপজেলার চরম্বা এলাকার দিকে যাচ্ছিলেন তিনি। একই সঙ্গে চোরাই গাড়ির বিষয়ে আরো কিছু তথ্য প্রদান করেন।
সেসব তথ্যে একইদিন সন্ধ্যায় চরম্বা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের আরেক সদস্য রবিউল হোসেন রমিজকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে রমিজ তার কাছে থাকা চোরাই অটোরিকশাটি চরম্বার তেলেবিলা গ্রামের খন্দকারপাড়া মসজিদ কবরস্থান সংলগ্ন পাহাড়ের পাশে একটি গভীর পুকুরে ডুবিয়ে রাখার কথা জানান। একইদিন সন্ধ্যায় পুকুর থেকে গাড়িটি উদ্ধার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার ভোরে চরম্বার টংকাবতী এলাকা থেকে কোতোয়ালি থানার ছিনতাই মামলার সেই গাড়িটিও উদ্ধার করা হয়।
কোতোয়ালি থানার ওসি জাহিদুল কবির জানান, এ চক্রের সদস্যরা প্রথমে টার্গেট ঠিক করেন। এরপর সুবিধামতো জায়গায় গিয়ে অটোরিকশা ছিনতাই করেন। মূলত যাত্রীবেশে গাড়িতে ওঠেন তারা। নির্ধারিত জায়গায় থাকে তাদের চক্রের অন্য সদস্যরা। তারা কৌশলে চালককে নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করিয়ে কিংবা স্প্রে প্রয়োগ করে অচেতন করার পর গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যান।