ঢাকা,  শনিবার   ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

চলে গেল ছেলেটিও, গৌরীর আর কেউ রইল না

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:১৭, ৩১ জুলাই ২০২২
চলে গেল ছেলেটিও, গৌরীর আর কেউ রইল না
নিহত শান্ত শীল

অনেক আগেই চলে গেছেন স্বামী। করেছেন বিয়েও। আয়ের পথ বন্ধ হওয়ায় একমাত্র সন্তান নিয়ে পড়েন বিপাকে। তবু দমে যাননি; পোশাক কারখানায় চাকরি করে চালাচ্ছিলেন সংসার আর সন্তানের লেখাপড়ার খরচ। কষ্টের মাঝেও ছেলেকে নিয়ে দেখতেন হাজারো স্বপ্ন। কিন্তু নিমিষেই সব চুরমার করে দিল একটি দুর্ঘটনা। এখন আর কেউ রইল না এ অভাগিনীর।

বলছি চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে ট্রেনের ধাক্কায় নিহত শান্ত শীলের কথা। একমাত্র ছেলেকে হারিয়ে এখন পাগলপ্রায় মা গৌরী শীল। হারিয়ে ফেলেছেন কথা বলার শক্তিও।

শান্ত হাটহাজারী উপজেলার জিয়াউর রহমান কলেজে দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়ছিলেন। ২৯ জুলাই বন্ধুদের সঙ্গে খৈয়াছড়া ঝরনা দেখে ফেরার পথে ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণ হারান তিনি। তার সঙ্গে আরো ১০ জনেরও প্রাণহানি ঘটেছিল।

রোববার দুপুরে হাটহাজারীর যুগীর হাট এলাকায় কথা হয় শান্ত শীলের এক ঠাকুরমার সঙ্গে। তিনি বলেন, বেশ কয়েক বছর আগে মাকে ফেলে অন্যত্র বিয়ে করে চলে গেছেন শান্তর বাবা রনি শীল। তাদের বাড়ি হাটহাজারী সরকার হাট কালী বাড়ি এলাকায়।

বাবা না থাকায় বালুছড়া তুফানি রোড এলাকার ভাড়া বাসায় থাকতেন তারা। জিয়াউর রহমান কলেজে পড়ার সুবাদে যুগীর হাট এলাকায় তার বন্ধুবান্ধব বেশি ছিলেন। একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে গৌরী এখন অসহায় হয়ে পড়েছেন।

শান্ত শীলের খালাতো ভাই নয়ন শীল বলেন, আমার খালা গার্মেন্টসে চাকরি করেন। শান্ত আমার বন্ধু ও ছোট ভাই। সে বেড়াতে যেতে চাইলে আমি প্রথমে তাকে বারণ করি। শিক্ষকদের সঙ্গে যাওয়ার কথা বলায় আর বারণ করিনি। এর মধ্যেই দুর্ঘটনাটি ঘটে গেল।

কে এস নজু মিয়া হাই স্কুলের শিক্ষক সাধন চন্দ্র নাথ বলেন, শান্ত খুব ভদ্র ছেলে ছিল। ২০২০ সালে আমাদের স্কুল থেকে এসএসসি পাস করে। আমরা জানতাম তার বাবার অবর্তমানে মা-ই তার পড়ালেখার খরচ মেটাতেন। এখন তার মায়ের স্বপ্ন ধুলিস্যাৎ হয়ে গেছে।

২৯ জুলাই দুপুরে মীরসরাইয়ের খৈয়াছড়া এলাকায় মহানগর প্রভাতী ট্রেনের ধাক্কায় পর্যটকবাহী মাইক্রোবাসের ১১ যাত্রী নিহত হন। আহত হন আরো পাঁচজন।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআর
Durga Puja
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!