বীরত্ব গাঁথা বগুড়ার সাতমাথা
বগুড়া শহরের প্রাণ কেন্দ্র সাতমাথা এলাকায় প্রবেশ করলেই চোখে পড়বে বাংলার সাত বীরশ্রেষ্ঠের মুখ। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ তাদের ছবি দেখছে আর স্মরণ করছেন মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদদের আত্মত্যাগের কথা।
মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগের সর্বোচ্চ স্বীকৃতি হিসেবে ওই সাতজন বীরকে মরণোত্তর ‘বীরশ্রেষ্ঠ’ উপাধি দেওয়া হয়। শহরের সাতমাথায় বীরশ্রেষ্ঠ স্মৃতিস্তম্ভ তাদের আত্মত্যাগ স্মরণ করিয়ে দেয়। ২০০৪ সালে তৎকালীন সরকার এ বীরশ্রেষ্ঠ স্মৃতিস্তম্ভ প্রতিষ্ঠা করে।
সাতমাথা এ জেলার প্রাণ কেন্দ্র। আর বগুড়া হলো উত্তরবঙ্গের প্রাণ কেন্দ্র। বগুড়ায় মোট ১২টি উপজেলা রয়েছে। প্রতিদিনই এসব উপজেলা থেকে হাজার হাজার মানুষ সাতমাথা এলাকায় আসেন। ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক প্রয়োজনে তারা জেলা শহরে আসা-যাওয়া করেন। এছাড়া আশেপাশের সবকটি জেলা থেকে প্রতিদিনই অসংখ্য মানুষ আসা-যাওয়া করেন বগুড়ায়। তারা সাতমাথা এলাকায় প্রবেশ করলেই বীরশ্রেষ্ঠ সাতজনের ছবি তাদের চোখে পড়ে। এতে তারা জানতে পারেন বাঙালি জাতির বীরত্বের কথা।
সাতজন বীরশ্রেষ্ঠ হলেন- মোহাম্মদ রুহুল আমিন, ল্যান্স নায়েক নূর মোহাম্মদ শেখ, ফ্লাইট লেফটেন্যান্ট মতিউর রহমান, ল্যান্স নায়েক মুন্সি আব্দুর রউফ, সিপাহী মোহাম্মদ হামিদুর রহমান, ক্যাপ্টেন মহিউদ্দীন জাহাঙ্গীর, সিপাহী মোহাম্মদ মোস্তফা কামাল।
বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিবি) বগুড়া জেলা কমিটির সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা জিন্নাতুল ইসলাম বলেন, মুক্তিযুদ্ধের এ স্মৃতিচিহ্ন খুবই তাৎপর্যবহ। এটা সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ করা প্রয়োজন। অনেকেই রাতের বেলা এ স্তম্ভে ঘুমিয়ে থাকেন। এটা সৌন্দর্য নষ্ট করে। শুধু জাতীয় দিবসগুলোতেই নয়, সারাবছরই যেন এসব স্থানের গুরুত্ব, মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মান, মুক্তিযুদ্ধের প্রতি সম্মান ও স্মৃতিচারণ বজায় থাকে এমন ব্যবস্থা করতে হবে।