ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

ছেলের হাতঘড়িই এখন স্মৃতি

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ০৮:১১, ৮ জুন ২০২২
ছেলের হাতঘড়িই এখন স্মৃতি
ছেলের ছবি হাতে মা

‘ঈদের সময় শখ করে ছেলে ঘড়িটি কিনেছিল। এখন এটাই আমার কাছে তার অনেক বড় স্মৃতি। জীবিত হোক বা মৃত হোক আমার ছেলেকে এনে দিন।’ হাতে পরা একটি জেন্টস ঘড়ি দেখিয়ে কথাগুলো বলছিলেন নিখোঁজ শহীদুল ইসলামের মা আয়েশা বেগম।

ছেলের ছবি দেখিয়ে তিনি বলেন, আগুন দেখে বাপ দৌড় দেয়। কিন্তু ছেলেকে পায়নি। এখন নিজে অসুস্থ হয়ে পড়ে রয়েছে হাসপাতালে।

বিএম কনটেইনার ডিপোর পেছনে রেললাইনের পাশে একটি বেড়ার ঘরে থাকে শহীদুলের পরিবার। মঙ্গলবার দুপুরে ঘরটিতে গেলে দেখা যায়, ছেলে শহীদুলের শোকে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন আয়েশা বেগম।

জানা গেছে, বিএম কনটেইনার ডিপোতে পিয়ন পদে চাকরি করেন দিদারুল ইসলাম। তার বদলি হিসাবে কদিনের জন্য সেখানে কাজ করছিলেন ছোট ভাই শহীদুল ইসলাম। আর সেই বদলিই কাল হয়ে দাঁড়ায় তার। শনিবার রাতে ডিপোতে বিস্ফোরণের পর থেকে নিখোঁজ রয়েছেন তিনি।

শহীদুল স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণিতে পড়তেন। তার বাবা জাকির হোসেনও ঝাড়ুদার হিসেবে বিএম ডিপোতে কর্মরত।

স্বজনরা জানান, শনিবার রাত ৮টায় কাজে যোগ দেন শহীদুল। পরে আগুনের খবর পেয়ে ডিপোতে ছুটে যান তার বাবা জাকির হোসেন। কিন্তু ছেলেকে খুঁজে পাননি। এর মধ্যে বিস্ফোরণ ঘটলে তিনিও আহত হন। তিনি বর্তমানে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

শহীদুল ইসলামের বড় ভাই দিদারুল ইসলাম বলেন, কয়েকদিন আমি রাগ করে কাজে যাইনি। আমার বদলি হিসেবে ভাই কাজ করছিল। ১৮ দিন কাজ করেছে সে। শনিবার দুর্ঘটনার পর থেকে তার খোঁজ পাচ্ছি না। সোমবার ডিএনএ নমুনাও দিয়ে এসেছি। এখন অপেক্ষায় আছি।

শনিবার রাত ৮টার দিকে ডিপোর লোডিং পয়েন্টের ভেতর আগুন লাগে। খবর পেয়ে কুমিরা ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। পরে রাত পৌনে ১১টার দিকে এক কনটেইনার থেকে অন্য কনটেইনারে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে একটি কনটেইনারে থাকা রাসায়নিক থেকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে।

বিস্ফোরণ ও ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের এ ঘটনায় ৪১ জনের প্রাণহানির খবর জানিয়েছিল চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। পরে মঙ্গলবার দুপুরে ডিপো থেকে আরো দুজনের লাশ উদ্ধার করা হয়। সে হিসেবে নিহতের সংখ্যা ৪৩। এছাড়া দগ্ধ ও আহত হয়ে চট্টগ্রাম এবং ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন শতাধিক।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমআর
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!