পাল্টে যাচ্ছে যশোর রেলওয়ের দৃশ্যপট
যশোরে পদ্মাসেতু প্রকল্পের আওতায় চার রেলস্টেশন ঘিরে পাল্টে যাচ্ছে দৃশ্যপট। হতে যাচ্ছে এক নব অধ্যায়ের সূচনা। জেলার জামদিয়া ও পদ্মবিলায় হচ্ছে অত্যাধুনিক স্টেশন। আর সিংঙ্গিয়া-রূপদিয়া স্টেশন হচ্ছে সর্বাধুনিক ও নান্দনিক। এরই মধ্যে এই চার স্টেশন ঘিরে শুরু হয়েছে কর্মযজ্ঞ। প্রায় শেষ হয়েছে ভূমি অধিগ্রহণ। আবার কোথায় চলছে অবকাঠামো নির্মাণে তোড়জোড়।
পদ্মাসেতু প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, স্বপ্নের এ সেতুর উপর দিয়ে রেল চলাচলের জন্য ঢাকার কমলাপুর থেকে যশোর পর্যন্ত ১৭২ কিলোমিটার রেলপথ নির্মাণ করা হচ্ছে। দীর্ঘ এ পথে থাকছে ২০টি অত্যাধুনিক রেলস্টেশন। তার মধ্যে যশোরেই রয়েছে চারটি। জামদিয়া ও পদ্মবিলায় হবে নতুন দুটি স্টেশন। এরই মধ্যে জমি অধিগ্রহণের যৌথ জরিপের কাজ শেষ হয়েছে। কোথাও অধিগ্রহণ শেষে জমি মালিকদের টাকাও প্রদান করা হয়েছে। আর অল্প কিছু জমি গত ১০ এপ্রিল থেকে জরিপের ফিল্ডবহি তালিকা যশোর সদর ও বাঘারপাড়া ভূমি অফিসে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। আগামী ১৯ এপ্রিলের মধ্যে কারো অভিযোগ থাকলে আবেদন করতে বলা হয়েছে। এ ব্যাপারে যশোর জেলা প্রশাসন গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে। আর অন্য দুটি স্টেশন সিংঙ্গিয়া-রূপদিয়াকে দেওয়া হবে সর্বাধুনিক রূপ।
সূত্র জানায়, এসব স্টেশনে এক প্লাটফর্ম থেকে অন্য প্লাটফর্মে যেতে ভোগান্তি থাকবে না। বয়স্ক ও প্রতিবন্ধীদের ব্যবহারে উপযোগী হবে। বর্তমানে প্লাটফর্ম নিচু থাকায় ট্রেনে উঠতে পোহাতে হয় নানা দুর্ভোগ। এসব স্টেশনে থাকবে ফুটওভার ব্রিজ, চলন্ত সিঁড়ি ও লিফট। নারী ও পুরুষের জন্য থাকবে আলাদা টয়লেট সুবিধা। নামাজের জায়গাসহ প্রতিবন্ধীদের জন্য থাকবে বিশেষ ব্যবস্থা। ফলে প্রতিবন্ধীরা কারো সহযোগিতা ছাড়াই নিরাপদে স্টেশন ব্যবহার করতে পারবেন। পদ্মাসেতুতে যুক্ত হওয়া যশোরের চারটিসহ ২০টি স্টেশনই হবে আধুনিক ও নান্দনিক। আর এটা হলে বদলে যাবে ঐ এলাকার দৃশ্যপট। অর্থনীতি ও যোগাযোগে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন হবে।
এ ব্যাপারে যশোর সদরের বসুন্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রিয়াজুল ইসলাম খান রাসেল বলেন, তার ইউনিয়নের মধ্যে পদ্মবিলায় আধুনিক রেলস্টেশন হচ্ছে। দেশের সবচেয়ে বড় প্রকল্পের কাজের একটি অংশ তার ইউনিয়নে বাস্তবায়ন হচ্ছে। এখনই এই এলাকাটি বদলে যেতে শুরু করেছে। জমির দাম বেড়ে গেছে। দোকানপাট, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলাসহ বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে এগুচ্ছে এ জনপদের মানুষ। রেলস্টেশন দৃশ্যমান হলে আরো পরিধি বাড়বে। সৃষ্টি হবে কর্মসংস্থানের।
জেলার বাঘারপাড়ার জামদিয়ায় হচ্ছে পদ্মসেতু প্রকল্পের আরো একটি রেলস্টেশন। ক্ষণে ক্ষণে পাল্টে যাচ্ছে সেখানকার পরিবেশ। জামদিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ আরিফুল ইসলাম তিব্বত বলেন, রেলস্টেশন নির্মাণ ঘিরে চলছে কর্মযজ্ঞ। ব্রিজনির্মাণ, রাস্তায় বালু ফেলাসহ দিনরাত কাজ চলছে।
তিনি বলেন, এ অঞ্চলের অর্থনীতি বদলে যাচ্ছে। জমির দাম বেড়ে হয়েছে দ্বিগুণ। নতুন নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠছে। বেড়ে গেছে ঘরভাড়া।
যশোরের জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান জানান, জমি অধিগ্রহণ প্রায় শেষের পথে। জমি মালিকদের টাকাও প্রদানও করা হয়েছে। অল্প কিছু জমি অধিগ্রহণ শেষের দিকে।
প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, কমলাপুর থেকে গেণ্ডারিয়া তৃতীয় ডুয়েলগেজ লাইন, ভাঙ্গা জংশনে ওভারহেড স্টেশন, কমলাপুরের টিটিপাড়ায় আন্ডারপাস, নড়াইলের তুলারামপুরে নতুন আন্ডারপাস এবং ভাঙ্গা স্টেশনে আন্ডারপাস নির্মাণ করা হবে। যেসব স্টেশনে আন্ডারপাসের মাধ্যমে এক প্লাটফর্ম থেকে অন্য প্লাটফর্মে যাওয়া যাবে, সেখানে লিফট ও চলন্ত সিঁড়ি থাকবে। মাওয়া, পদ্মবিল, কাশিয়ানি, রূপদিয়া স্টেশনগুলোতে অপারেশনাল সুবিধা বাড়ানো হবে।
এছাড়া রেলস্টেশনের স্টাফসহ অন্যদের আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে ১০টি স্টেশনে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত রেসিডেন্স বিল্ডিং বা আবাসিক ভবন গড়ে তোলা হবে। এ স্টেশনগুলো হলো নিমতলা, শ্রীনগর, মাওয়া, পদ্মা, শিবচর, ভাঙ্গা জংশন, লোহাগড়া, জামদিয়া, নড়াইল ও পদ্মবিলা জংশন।
পদ্মাসেতু রেলসংযোগ প্রকল্পের উপ-প্রকল্প পরিচালক (ওয়ে অ্যান্ড ওয়ার্ক) আবু ইউসুফ মোহাম্মদ শামীম বলেন, ‘রেলসংযোগটি ঢাকার কমলাপুর থেকে শুরু হবে, এরপর নারায়ণগঞ্জে যাবে। গেণ্ডারিয়া হয়ে চলে যাবে শ্যামপুরে। নারায়ণগঞ্জের পাগলা হয়ে ডান দিকে মোড় নেবে। সেখান থেকে বুড়িগঙ্গা পার হয়ে লাইন কেরানীগঞ্জে ঢুকবে। কেরানীগঞ্জ পার হয়ে মুন্সিগঞ্জের মাওয়া হয়ে পদ্মা সেতু দিয়ে জাজিরায় পৌঁছাবে। প্রকল্পের নকশা ও লক্ষ্য অনুযায়ী- এ রুটে গতি থাকবে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার।
তিনি আরো বলেন, যতটা সম্ভব স্টেশনগুলোতে যাত্রীদের সুবিধা বাড়ানো হবে। বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী যেসব যাত্রী থাকবেন, তাদের জন্য থাকবে বিশেষ সুবিধা। এসব যাত্রীরা যাতে এক প্ল্যাটফর্ম থেকে অন্য প্ল্যাটফর্মে সহজে যেতে পারেন, সেজন্য ফুটওভার ব্রিজের সঙ্গে লিফট ও এস্কেলেটরের (চলন্ত সিঁড়ি) ব্যবস্থা করা হবে।