ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

নীলফামারীতে ১০ মিনিটের ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি

নীলফামারী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২১:১৮, ১০ এপ্রিল ২০২২
নীলফামারীতে ১০ মিনিটের ঝড়ে ব্যাপক ক্ষতি
ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি ও গাছপালা-ছবি ডেইলি বাংলাদেশ

নীলফামারী দুই উপজেলায় ব্যাপক কালবৈশাখী ঝড় হয়েছে। এছাড়া ঝড়ের সঙ্গে শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এতে ভুট্টা, বাদাম, মরিচ, পেঁয়াজ, রসুনসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

ঝড়ের কারণে অসংখ্য গাছপালা ভেঙে গেছে। কোথাও কোথাও বাড়িঘর, দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে ডিমলা ও ডোমার উপজেলার কয়েকটি এলাকা।

রোববার (১০ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে জেলার ডোমারের চিলাহাটি ও ডিমলা উপজেলায় শুরু হয় ঝড়ের সঙ্গে শিলা বৃষ্টি। প্রায় ১০ মিনিট ধরে চলে এই ঝড়-বৃষ্টি আর বজ্রপাত।

চিলাহাটি বাজারের রিপন শেখ বলেন, ঝড়ে কলেজের সামনে ১১ হাজার কেভি বিদ্যুতের তার ছিঁড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। আবার বাজারের অনেক দোকানপাটের ছাউনি উড়ে গেছে। এলাকার কিছু বাড়িঘরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া, খগাখড়িবাড়ী, পূর্ব ছাতনাই, গয়াবাড়ি, টেপাখড়িবাড়ী, খালিশাচাপনী ইউনিয়নের ওপর দিয়ে ঝড় বয়ে গেছে। এসব ইউনিয়নে প্রায় ৫০০ কাঁচা ও আধাপাকা বাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে বলে স্থানীয়রা জানান।

ডিমলার দক্ষিণ তিতপাড়া ভাটিয়াপাড়ার দিনমুজুর শামসুল হক বলেন, ঝড়ে আমার সব ঘর পড়ে গেছে। একেই  আমি গরিব মানুষ দিন আনি খাই এখন আমার কি হবে।

খালিসা চাপানি ঝুনা গাছ ইউনিয়নের ভুট্টা চাষি মজিবর মিয়া বলেন, শিলাবৃষ্টিতে ভুট্টাক্ষেত বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। শিলার আঘাতে ভুট্টার মোচা ভেঙে পড়েছে। গাছগুলো ভেঙে শুয়ে আছে। পাঁচ বিঘা জমিতে ভুট্টা চাষ করেছি। শিলাবৃষ্টিতে প্রায় দুই লাখ টাকা ক্ষতি হয়ে গেছে।

ভোগডাবুড়ি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান রেয়াজুল ইসলাম কালু বলেন, বিকেলে হঠাৎ চারদিকে অন্ধকার হয়ে আসে। কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় প্রচণ্ড বাতাস, সেই সঙ্গে বৃষ্টি। বাতাসে ছোট-বড় গাছ, কাঁচাপাকা ঘর-বাড়ি উপড়ে পড়েছে। মরিচ ও ভুট্টার গাছ মাটিতে পড়ে গেছে। আম ও লিচু ঝড়ে পড়েছে। এছাড়া ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।

এদিকে তিস্তা চরে আবাদ করা ভুট্টা, মরিচ, পেঁয়াজসহ অনান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন চরের কৃষকরা।

ঝড়সিংহেশ্বর গ্রামের কৃষক নয়ন মিয়া বলেন, লাভের আশায় ভুট্টা চাষ করলাম, কিন্তু শিলা বৃষ্টি সব শেষ করি দিল।

এরআগে শনিবার রাত ১২টার পর থেকে জেলার কয়েক উপজেলার বেশ কিছু এলাকায় প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে চলে ভারী ও হালকা ঝড়-বৃষ্টি, বজ্রপাত এবং দমকা বাতাস প্রবাহিত হয়।

নীলফামারী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক আবু বক্কর সিদ্দিক বলেন, জেলার ডিমলা উপজেলাসহ বিভিন্ন জায়গায় শিলাবৃষ্টি হয়েছে। এতে কতটা ক্ষতি হলো তা খোঁজ নিয়ে জানা যাবে। তবে শিলা বৃষ্টির কারণে ভুট্টা  আম ও লিচুর কিছুটা ক্ষতি হবে। ক্ষেতে পানি জমে গেলে পেঁয়াজের জন্য ক্ষতিকর হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএইচ
ট্যাগ: নীলফামারী
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!