ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

তেরখাদার দ্বীন ইসলামকে হত্যা, আসামিদের স্বীকারোক্তি

খুলনা প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২০:০৯, ১০ এপ্রিল ২০২২
তেরখাদার দ্বীন ইসলামকে হত্যা, আসামিদের স্বীকারোক্তি
রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে পিবিআই এসপি সৈয়দ মুশফিকুর রহমান-ছবি ডেইলি বাংলাদেশ

খুলনার তেরখাদা উপজেলার লস্করপুর গ্রামে দ্বীন ইসলামকে সাঁতার প্রতিযোগিতায় জয়-পরাজয়কে কেন্দ্র করে হত্যা করা হয়েছে। প্রায় দুই বছর পর হত্যাকাণ্ডের মূলরহস্য উন্মোচন করে আসামিদের গ্রেফতার করেছে পিবিআই খুলনা।  রোববার দুপুরে সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পিবিআই এসপি সৈয়দ মুশফিকুর রহমান।

নিহত দ্বীন ইসলাম (১১) তেরখাদার লস্কর গ্রামের আজিজুর রহমান শেখের ছেলে। সে এলাকার বিভিন্ন খালে বিলে মাছ ধরে এবং স্থানীয়ভাবে এলাকার বিভিন্ন স্থানে মৌসুমী ফল বিক্রি করতো।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের ২২ জুলাই দুপুরে দ্বীন ইসলামকে কোথাও খুঁজে না পাওয়া গেলে তাকে পাওয়ার জন্য মাইকে প্রচারসহ বিভিন্ন খানে তার আত্মীয়-স্বজন খুঁজতে থাকে। একপর্যায়ে তার লাশ তেরখাদা মুলিশিয়া খালে পাওয়া যায়।

পরবর্তীতে ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনে হত্যাকাণ্ড ঘটনা আসলে প্রথম দিকে ভিকটিমের লোকজন মামলা করতে না চাইলে পুলিশ বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামি উল্লেখ করে মামলা করে। ভিকটিমের বাবা ন্যায় বিচারের স্বার্থে আদালতে আবেদন করলে আদালত মামলাটি পিবিআই খুলনায় প্রেরণ করে। পিবিআই খুলনা ২০১৯ সালের ২৫ নভেম্বর মামলাটি তদন্তভার গ্রহণ করে। মামলাটি তদন্ত করে প্রকৃত আসামিদের শনাক্ত করা হলেও আসামিরা আত্মগোপনে থাকায় তাদের গ্রেফতার করা যায়নি। পরবর্তীতে অভিযান চালিয়ে চট্টগ্রাম থেকে তেরখাদার লস্করপুর এলাকার মো. কালন শেখের ছেলে মো. মুছা শেখ ও এমলাক শেখের ছেলে মো. হানিফ শেখ রমজান শেখকে গ্রেফতার করা হয়। আদালতে সোপর্দ করা হলে তারা স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দি দেয়।

তারা স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছে, ঘটনার দিন মুছা শেখ, রমজান শেখ, তেরথাদার লস্কর গ্রামের মো. আলাল সরদারের ছেলে ইতার আলী সরদার, মো. সিদ্দিক শেখের ছেলে ফেরদৌস শেখ, আলাল সরদারের ছেলে হানিফ সরদার মুলিশিয়া খালে গোসল করার সময় সাঁতার প্রতিযোগিতা নিয়ে বিরোধ হলে তারা ইট পাটকেল নিক্ষেপ করলে ভিকটিম দ্বীন ইসলাম পানিতে ডুবে যায়। তারা ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়।

মামলাটি গ্রহণ করে ঐ এলাকায় বিভিন্ন সোর্সের মাধ্যমে এ হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বের করে পিবিআই। পরে এ মামলার সন্দেহভাজন দু’ আসামি উতর আলী সরদার ও ফেরদৌস শেখকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের কাছ থেকেও গুরত্বপূর্ণ তথ্য বের করা হয়। তবে মুছা ও হানিফ হত্যার খবর জানতে পেরে এলাকা ত্যাগ করে চট্রগ্রামে অবস্থান করে। এ দু’জনেরই নিজস্ব কোনো মোবাইল ছিল না। পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্নজনের নম্বর ব্যবহার করত তারা।

একটি সোর্সের মাধ্যমে পুলিশ মুছার সন্ধান পায়। চট্রগ্রামের পিবিআইয়ের সহায়তায় প্রথমে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। মুছাকে গ্রেফতারের পর এ মামলার অপর আসামি মো. আবু হানিফকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পিবিআই। তারা দু’জনই আদালতে এ হত্যাকাণ্ডে নিজেদের দায় স্বীকার করে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি প্রদান করেছে। মামলার অপর আসামি হানিফ সরদার পলাতক রয়েছে। এ নিয়ে এ মামলায় মোট চার আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএইচ
ট্যাগ: খুলনা
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!