ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

নরসিংদীতে বাড়ছে ডায়রিয়া রোগী

নরসিংদী প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ২৩:৩৩, ৪ এপ্রিল ২০২২
নরসিংদীতে বাড়ছে ডায়রিয়া রোগী
হাসপাতালে ভর্তি ডায়রিয়া রোগীরা- ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

নরসিংদীতে অব্যাহতভাবে বেড়ে চলেছে ডায়রিয়ার প্রকোপ। ফলে সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে। গত তিন সপ্তাহে আক্রান্তের হার বিগত যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকে চতুর্থ সপ্তাহ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে জেলার সরকারি হাসপাতালগুলোতে ডায়রিয়ার চিকিৎসা নিয়েছেন সাড়ে তিন হাজারেরও বেশি মানুষ। 

এছাড়া এই সময়ের মধ্যে জেলায় ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন এক শিশুসহ তিনজন। একসঙ্গে এত রোগীকে চিকিৎসা দিতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে জেলার স্বাস্থ্য বিভাগকে।

জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীদের অধিকাংশকেই চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে ১০০ শয্যা বিশিষ্ট নরসিংদী জেলা হাসপাতাল ও নরসিংদী সদর হাসপাতালে। তবে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীর সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। শুধু জেলা সদরের দুই প্রধান হাসপাতালেই গত তিন সপ্তাহে তিন হাজার ৭৫৫ জন ডায়রিয়ার রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডায়রিয়ায় মারা যাওয়া তিনজনের মধ্যে পলাশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও নরসিংদী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের বয়স ৪০ থেকে ৫০ এর মধ্যে। এছাড়া পৌর শহরের এক শিশু তার বাসায় মারা গেছে।

নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) লোপা চৌধুরী জানান, মার্চ মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের শুরুর দিকে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসতে থাকে। প্রথম দিকে প্রতিদিন গড়ে চার-পাঁচ জন করে রোগী চিকিৎসা নিতে এলেও ১২ তারিখ থেকে এক ধাক্কায় ৮০ থেকে ৮৫ জন করে রোগী আসা শুরু হয়। তাদের মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হন অন্তত ২০ থেকে ২২ জন। প্রতিদিনই এই পরিমাণ রোগী ভর্তি হতে শুরু করলে তৃতীয় সপ্তাহে গিয়ে হিমশিম খেতে শুরু করে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অন্যান্য রোগীর পাশাপাশি একদিনেই ডায়রিয়া রোগী ভর্তি ছিল শতাধিক। হাসপাতালের বারান্দায়ও তাদের ভর্তি রেখে চিকিৎসা দিতে হয়েছে। তবে বর্তমানে রোগী ভর্তির সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কিছুটা কম।

স্বাস্থ্য বিভাগের একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জেলায় ডায়রিয়ায় আক্রান্তদের অধিকাংশই নরসিংদী পৌর এলাকার বাসিন্দা ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ। যেহেতু ডায়রিয়া একটি পানিবাহিত রোগ তাই ধারণা করা হচ্ছে, পৌর এলাকার পানির উৎসে কোনো সমস্যা হয়ে থাকতে পারে। এছাড়া পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও সচেতনতার অভাব তো রয়েছেই। সমস্যা উত্তরণের বিষয়ে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদফতর ও পৌরসভাকে নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে কয়েক দফা সভা করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। শহরের যেসব এলাকায় ডায়রিয়ার প্রকোপ বেশি দেখা গেছে সেসব স্থানের পানি এরই মধ্যে পরীক্ষা করেছে আইইডিসিআর এর একটি গবেষণা দল। সে প্রতিবেদন পেলে সমস্যা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব হবে বলে জানায় জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

নরসিংদীর সিভিল সার্জন ডা. মো. নুরুল ইসলাম জানান, গত তিন সপ্তাহে জেলাজুড়ে ডায়রিয়ার চিকিৎসা নিয়েছেন ৩ হাজার ৭৫৫ জন। অন্যদিকে মারা গেছেন তিনজন। তাদের মধ্যে এক শিশু তার নিজের বাসায় ও অন্য দুই ব্যক্তি শেষ মুহূর্তে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে মারা যান। ডায়রিয়ার এত রোগীকে একসঙ্গে চিকিৎসা দিতে গিয়ে আমরা হিমশিম খাচ্ছি। তবে স্যালাইনসহ পর্যাপ্ত চিকিৎসা সামগ্রী আমাদের কাছে রয়েছে।

সিভিল সার্জন আরো জানান, শিশুসহ সব বয়সী ব্যক্তিদেরকে এখন ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হতে দেখা যাচ্ছে। এই সময় ডায়রিয়ার হাত থেকে বাঁচতে বাইরের খোলা খাবার বর্জন করতে হবে এবং অবশ্যই পানি ফুটিয়ে খেতে হবে। সর্বোপরি সচেতন হওয়ার বিকল্প নেই।

ডেইলি-বাংলাদেশ/এইচএন
ট্যাগ: হাসপাতাল
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!