স্বামী-সন্তান রেখে বয়সে ছোট প্রেমিককে বিয়ে, অতঃপর...
ফেসবুকে পরিচয়। প্রথম স্বামী ও সন্তানের কথা গোপন রেখে নিজেকে অবিবাহিত দাবি করে কয়েক মাস প্রেম। পরবর্তীতে বয়স গোপন করে ঘর ছেড়ে পালিয়ে বয়সে ১০ বছরের ছোট প্রেমিককে বিয়ে করেছিলেন চল্লিশোর্ধ্ব মাহফুজা আক্তার। বর্তমানে মোটা অংকের টাকার লোভে দ্বিতীয় স্বামীর বিরুদ্ধে একাধিক মিথ্যা মামলা করেছেন তিনি।
বরিশাল নগরীর ২৯নং ওয়ার্ডের ইছাকাঠী কাশিপুর বাজার এলাকার বাসিন্দা মাহফুজা আক্তারের বিরুদ্ধে বিয়ের নামে প্রতারনার অভিযোগ করেন তার প্রথম স্বামী জামাল হোসেন মনোয়ার ও দ্বিতীয় স্বামী হেমায়েত হোসেন ইমন। প্রতারক মাহফুজার দায়ের করা মিথ্যে মামলা থেকে রেহাই পেতে ও ন্যায় বিচারের আশায় প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন দ্বিতীয় স্বামী ইমন।
বুধবার সকালে ভুক্তভোগী ইমন জানান, ফেসবুকে তার সঙ্গে মাহফুজা আক্তারের পরিচয় হয়। সেখান থেকে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। মাহফুজা নিজেকে অবিবাহিত বলে পরিচয় দেয় সে। এক পর্যায়ে মাহফুজা তার জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্ম তারিখ ১৯৮১ সালের পরিবর্তে কৌশলে ১৯৯১ ব্যবহার করে ২০২০ সালের ৪ মার্চ পালিয়ে গিয়ে ইমনকে বিয়ে করে।
ইমন আরো জানান, বিয়ের কিছুদিন পর মাহফুজা আক্তারের কথাবার্তা এবং চলাফেরায় তার সন্দেহ হয়। পরবর্তীতে মাহফুজার প্রথম স্বামী ও পুত্র সন্তানের বিষয়টি তিনি জানতে পারেন। এছাড়া একাধিক ছেলেদের সঙ্গে মাহফুজার প্রেমের সম্পর্কের বিষয়টি জেনে তাকে ফেরাতে ব্যর্থ হন ইমন। আর কোনো উপায় না পেয়ে ২০২১ সালের ৯ অক্টোবর মাহফুজাকে রেজিস্ট্রি তালাক দেন ইমন।
এতে ক্ষিপ্ত হয়ে মাহফুজা আক্তার বাদী হয়ে ইমনকে আসামি করে আদালতে যৌতুক মামলা করে। ঐ মামলায় ইমন আদালত থেকে জামিন পান। পরবর্তীতে মাহফুজা তার পূর্বের কাবিননামা গায়েব করে নতুন করে ৮০ লাখ টাকা দেনমোহর লিখে ভুয়া কাবিননামা তৈরি করে। ঐ কাবিননামা দিয়ে সে বরিশাল সিনিয়র জজ ও পারিবারিক আদালতে হেমায়েত হোসেন ইমনের বিরুদ্ধে আরেকটি মামলা দায়ের করে।
সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালের ১৬ নভেম্বর পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কেশবপুর গ্রামের বাসিন্দা জামাল হোসেন মনোয়ারের সঙ্গে মাহফুজা আক্তারের প্রথম বিয়ে হয়। ঐ সংসারে তাদের এইচএসসি পড়ুয়া এক পুত্রসন্তান রয়েছে।
জামাল হোসেন মনোয়ার অভিযোগ করেন, মাহফুজা তার সুখের সংসার তছনছ করে দিয়ে একাধিক ছেলের সঙ্গে পরকীয়া করেছে। সবশেষ তাকে ডিভোর্স দিয়ে ইমন নামে একজনকে পালিয়ে বিয়ে করে।