খুলনায় আটককৃত ১০ জন জামআতুল মুসলেমিনের নেতা-সদস্য
খুলনার খালিশপুর থেকে আটককৃত ১০ জন জেএমবি মতাদর্শী নতুন জঙ্গি সংগঠন জামআতুল মুসলেমিনের নেতা ও সদস্য।
তারা হলেন- সংগঠনের আমির আনোয়ার কবির মিলন ওরফে মিদ্দাত হোসেন , সোহেল রানা, আমিনুল, কামরুল ইসলাম, রিফাত রহমান, আব্দুর রউফ, মো. শেখ ফরিদ, আব্দুল আলীম, মো. রফিকুল ইসলাম ও তালহা ইসলাম।
শনিবার দুপুরে খুলনা মহানগরীর লবনচরাস্থ র্যাব-৬ এর কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিয়ে র্যাব-৬ এর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহাম্মদ মোসতাক আহমেদ এসব তথ্য জানান।
এ সময় তিনি বলেন, শুক্রবার রাতে র্যাব-৬ (স্পেশাল কোম্পানি) এর একটি টহল ও বিশেষ আভিযানিক দল খুলনা মহানগরী খালিশপুর এলাকায় অবস্থানকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারে ২৫৩ বিআইডিসি রোডের আলমগীর শেখ অরফে আলম বাসভবনের ৩য় তলায় মাদানী নিসাব খালিশপুর বয়স্ক মাদরাসা/মসজিদে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন ‘জেএমবি’ মতাদর্শীর নতুন সংগঠন ‘জামআতুল মুসলেমিন’ এর একটি গোপন বৈঠক চলছে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অভিযান পরিচালনা করে ১০ জনকে আটক করা হয়। এ সময় ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণ উগ্রবাদী বই ও নথিপত্র উদ্ধার করা হয়।
অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মুহাম্মদ মোসতাক আহমেদ আরো বলেন, সংগঠনটির স্বঘোষিত আমির আনোয়ার কবির মিলন অরফে মিদ্দাত হোসেন ২০০২ সাল থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত সৌদি আরবে লেখাপড়া করেন। লেখাপড়া শেষ করে বাংলাদেশে ফিরে আসলে তার সঙ্গে ভোলা-চরফ্যাশন এলাকার প্রফেসর মজিদের পরিচয় হয়। প্রফেসর মজিদ তৎকালীন জেএমবির আমির শায়খ আব্দুর রহমান এবং শায়খ সাইদুর রহমানের অনুসারী ছিল। জেএমবির ভারপ্রাপ্ত সদস্য প্রফেসর মজিদ ৬৩ জেলায় বোমা হামলার ঘটনায় জড়িত ছিল এবং পরবর্তীতে মুক্ত মামলার জন্য তিনি জেলহাজতে ছিল। জেলে থাকাকালীন সময়ে প্রফেসর মজিদ জেএমবির নেতৃত্ব স্থানীয় ব্যক্তিদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা রাখত।
মিদ্দাত হোসেন সৌদি আরব থেকে ফেরার পর থেকেই মজিদের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হয়ে ওঠে এবং পরবর্তীতে মজিদের কাছে জেএমবির বায়াত গ্রহণ করে। সে সময়ে মিদ্দাত হোসেনের সঙ্গে জেএমবির অনেক সদস্যের পরিচয় ঘটে। সন্দেহভাজন জঙ্গি কার্যক্রমের জন্য ২০১২ সালে ডিবি পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে। এরপর থেকে মিদ্দাত হোসেন একটি নিজস্ব সংগঠন তৈরি করার ব্যাপারে পরিকল্পনা গ্রহণ করে।
২০১৮ সাল থেকে প্রফেসর মজিদ এর সঙ্গে সম্পৃক্ত বেশ কিছু ব্যক্তি মিদ্দাত হোসেনকে সঙ্গে নিয়ে নতুন সংগঠন গঠন করা এবং লোক সংগ্রহের জন্য একতাবদ্ধ হয়। এ প্রেক্ষিতে তারা দ্বীনের দাওয়াত দেওয়া শুরু করে। তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল, দাওয়াত দেওয়ার মাধ্যমে জনগণের একটি বড় অংশকে নিজেদের দলে টানা এবং পরবর্তীতে সশস্ত্র জিহাদের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকারকে সরিয়ে ইসলামিক শাসন প্রতিষ্ঠা করবে।
প্রাথমিক বিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, মিদ্দাত হোসেন এবং তার সহযোগীরা দেশের বিভিন্ন জায়গায় সূরা সদস্য নিয়োগ করে সূরা সদস্য এর মাধ্যমে প্রতিটি এলাকা থেকে সাথী সদস্য গ্রহণের জন্য কাজ করে যাচ্ছিল। বর্তমানে টাঙ্গাইল, গাজীপুর, যশোর, খুলনা, ময়মনসিংহ এবং ঢাকা এলাকাতে রিক্রুটমেন্ট কার্যক্রম ব্যাপক আকারে চলছে। পরবর্তীতে নিকট ভবিষ্যতে কুষ্টিয়া, রাজশাহী, জামালপুর, কিশোরগঞ্জ এলাকাতে রিক্রুটমেন্ট এর পরিকল্পনা ছিল এবং অদূর ভবিষ্যতে তারা সারাদেশব্যাপী রিক্রুটমেন্ট করার জন্য সবাইকে অনুপ্রেরণা দিচ্ছিল।
এ প্রেক্ষিতে এবারের তিনদিনের প্রোগ্রাম আয়োজন করা হয় যেখানে মূল লক্ষ্য ছিল নেতৃত্ব এবং সারাদেশে কিভাবে কার্যক্রম চলবে সেটি ব্যাখ্যা করা। ঐ প্রোগ্রামকে সফল এবং পরবর্তী কার্যক্রম সম্পর্কে নির্দেশনা গ্রহণের জন্য অন্যান্য সূরা সদস্যরা তাদের কর্মীদেরকে নিয়ে প্রোগ্রামে যোগদান করে। আকটকৃতদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।