মামলা তুলে না নিলে ‘ছাতু বাহিনী’র প্রাণনাশের হুমকি
গাজীপুরে বাদীকে মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে ভুক্তভোগী পরিবার। নারী উদ্যোক্তার বাগানে স্থানীয় প্রভাবশালীর বিভিন্নভাবে ক্ষতিসাধনের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলা তুলে নিতে তার সহযোগীরা এ হুমকি দিচ্ছে।
শনিবার সকালে জয়দেবপুরের হাবিবুল্লাহ স্মরণিতে এক সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগী স্কুলশিক্ষক ও নারী উদ্যোক্তা জহুরা আক্তার তার লিখিত বক্তব্যে জানান, গত ৮ বছর পূর্বে তার বাড়ি-সংলগ্ন প্রায় ৩০ বিঘা জমিতে গরুর খামার, মাছ চাষ, মাল্টা, কমলা, আম, পেয়ারা, লটকন, কলা, আঁখ, ধান, পেঁপে, শাক-সবজি চাষ শুরু করেন। তার এ সফলতা দেখে একটি বেসরকারি ব্যাংক তাকে কৃষি ঋণ প্রদান করে। এতে জহুরা আক্তার সফল নারী উদ্যোক্তা হিসেবে ব্যপক পরিচিতি পান। শুরু থেকে স্থানীয় বদনীভাঙ্গা গ্রামের আ. ছাত্তার ও তার লোকজন (যা এলাকায় ছাতু বাহিনী নামে পরিচিত) তারা ওই নারী উদ্যোক্তাসহ তাদের কর্মচারীকে ভয়ভীতি ও হয়রানি করে আসছিলেন।
আরো পড়ুন: তালা ভেঙে ঢুকলেন ঘরে, পেলেন স্বামী-স্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ
এর কিছুদিন পর ছাতু বাহিনী চাঁদা দাবি করে। চাঁদা না দেওয়ায় বাগানের সেচ কাজে ব্যবহৃত ২টি স্যালো মেশিন কয়েক দফায় অকেঁজো করে প্রায় ২৫ লাখ টাকার ক্ষতি করে। এছাড়াও বেশ কিছু গাছ উপড়ে ফেলে। একপর্যায়ে বাগানে যাতায়াতের সরকারি রাস্তায় ছাতু বাহিনী চারা রোপণ করে, বেড়া দিয়ে মাঝে মাঝে গর্ত করে চলাচল বন্ধ করে দেয়।
এ বিষয়ে শ্রীপুর থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করলে পুলিশ তদন্ত শেষে এক নম্বর আসামি ছাত্তারসহ ৮ জনকে গ্রেফতার করে আদালতে পাঠায়। এর পরদিন থেকেই অন্য পলাতক আসামিসহ তাদের সহযোগীরা ভুক্তভোগী জহুরা আক্তারের বাড়িতে এবং তার কর্মস্থল স্কুলে গিয়ে মামলা তুলে নেয়ার জন্য নানা প্রকার ভয়ভীতি দেখাতে থাকেন। মামলা তুলে নিতে তার স্বামী ফজলুল হক মোড়লসহ বাগানের কর্মচারীদের নানা রকম চাপ সৃষ্টি করে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন।
এছাড়াও বাগান সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে ফেলারও হুমকি দেন তারা। ভুক্তভোগী পরিবারে অন্য কোনো সদস্য না থাকায় তারা স্বামী-স্ত্রী দু’জনেই নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তারা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনের মাধ্যমে জানমালের নিরাপত্তার আবেদন জানিয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে তার কয়েকজন প্রতিবেশীসহ ভুক্তভোগী নারী উদ্যোক্তা জহুরা আক্তারের স্বামী ফজলুল হক মোড়ল উপস্থিত ছিলেন।