সৈয়দপুরের মেয়র রাফিকার বিরুদ্ধে সিআইডির চার্জশিট
প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের মামলায় নীলফামারীর সৈয়দপুর পৌরসভার মেয়র রাফিকা আকতার জাহানের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
জানা গেছে, সৈয়দপুর শহরের বাঙ্গালীপুর নিজপাড়ার বাসিন্দা গাউসুল আযম ফারুকী ২০১৯ সালে তার নির্মাণাধীন ছয়তলা ভবনের লিফট স্থাপনের জন্য নতুনভাবে একটি নকশা নিয়ে সৈয়দপুর পৌরসভায় গেলে কাউন্সিলরদের সঙ্গে গাউসুল আযম ফারুকীর মামলার জেরে নকশা অনুমোদন দেননি পৌরসভার তৎকালীন মেয়র।
এ বিষয়ে ফারুকী হাইকোর্টের স্মরণাপন্ন হলে হাইকোর্ট নকশা অনুমোদন দিতে তৎকালীন মেয়রকে আদেশ দেন। হাইকোর্টের আদেশ পাওয়ার পরও নকশার অনুমোদন না দিয়ে সময়ক্ষেপণ করেন মেয়র। এর মধ্যে ২০২০ সালে সৈয়দপুর পৌরসভা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হলে মেয়র পদে রাফিকা আকতার জাহান নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন পান।
রাফিকা আকতার পূর্ব পরিচয় থাকায় ফারুকীকে জানান, নির্বাচনে তিনি শতভাগ জয়লাভ করবেন। নির্বাচনে জিতে ফারুকীর বাড়ির লিফটের নকশা অনুমোদন করে দেবেন। হাইকোর্টে যেতে হবে না। এভাবে তিনি নকশা অনুমোদন করে দেওয়ার কথা দিয়ে নির্বাচনের আগেই এক লাখ টাকার চেক নেন এবং ব্যাংক থেকে টাকা তোলেন। কিন্তু মেয়র নির্বাচিত হওয়ার পরও রাফিকা আকতার ঐ নকশা অনুমোদন না দিয়ে দিনের পর দিন বিভিন্ন রকম তালবাহানা ও হয়রানি করতে থাকেন এবং আরো এক লাখ টাকা দাবি করেন। এতে রাজি না হলে তিনি ফারুকীকে আবার হয়রানি করতে থাকেন।
একপর্যায়ে ফারুকী মেয়রের কাছে টাকা ফেরত চাইলে মেয়র টাকা নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন। নিরুপায় হয়ে ফারুকী মেয়রের বিরুদ্ধে প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে সৈয়দপুর আমলি আদালতে মামলা করেন। আদালত মামলাটি গ্রহণ করে অধিকতর তদন্তের জন্য অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডিকে আদেশ দেন। সিআইডি নীলফামারীর পরিদর্শক একেএম খন্দকার মুহিবুল দীর্ঘদিন মামলাটি তদন্ত করে ঘটনার সত্যতা পেয়ে মেয়র রাফিকা আকতার জাহানকে অভিযুক্ত করে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন।
এ বিষয়ে গাউসুল আযম ফারুকী জানান, ফৌজদারি মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামির মেয়র পদে থাকার কোনো এখতিয়ার নেই। সংশ্লিষ্ট দফতরে মেয়রকে বরখাস্ত করার জন্য আবেদন করা হবে। প্রয়োজনে হাইকোর্টে মামলা করা হবে।