এক পরিবারের জন্য ২৯ লাখ টাকার ব্রিজ
লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জে এক পরিবারের সুবিধার্থে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতর ২৯ লাখ ১৭ হাজার টাকা বরাদ্দ দিয়ে ব্রিজ নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে।
উপজেলা প্রকল বাস্তবায়ন কর্মকর্তা দিলীপ কুমার দে ও ঐ অফিসের প্রকৌশলী মো. জুয়েল রানা প্রবাসী পরিবারের সঙ্গে দফারফার মাধ্যমে উপজেলার ভাটরা ইউনিয়নের জয়দেবপুর গ্রামের প্রবাসী মিজানের বাড়িকে জনচলাচলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক দেখিয়ে ত্রাণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদফতরে চাহিদাপত্র পাঠালে কর্তৃপক্ষ ২৯ লাখ ১৭ হাজার ৪৬০ টাকা বরাদ্দ দেয়।
সেই মোতাবেক টেন্ডার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে মেসার্স সায়মা এন্টারপ্রাইজ এক সপ্তাহ আগে ব্রিজের নির্মাণ কাজ শুরু করে। কিন্তু স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ প্রবাসী মিজানের বাড়ির ১০০ মিটারের মধ্যে আগে সরকারি অর্থে আরো ২টি ব্রিজ থাকায় প্রবাসী বাড়ির সামনে ব্রিজ নির্মাণ নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় ৭ মার্চ (সোমবার) স্থানীয় জয়দেবপুর গ্রামের শতাধিক লোকজন সই-স্বাক্ষর দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একটি অভিযোগ দায়ের করেছেন। সদয় অবগতির জন্য ঐ অভিযোগের অনুলিপি লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জমা দেওয়া হয়।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, জয়দেবপুর পূর্ব বাড়ি সংলগ্ন রাস্তার মাথা নামক স্থানে খালের উপর দিয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে প্রতিদিন শতশত স্কুল মাদরাসার ছাত্র-ছাত্রী হেঁটে পারাপার করছেন। কিন্তু ব্রিজটি সঠিক স্থানে নির্মাণ না করে এক সম্পদশালী প্রবাসী মিজানের পরিবারের লোকজন সাবেক চেয়ারম্যান আবুল হোসেন মিঠুর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মহলকে অর্থের বিনিময়ে ম্যানেজ করে ব্রজ নির্মাণের অর্থ পায়।
এই ব্যাপারে এলাকাবাসীর পক্ষে আলমগীর হোসেন, কামাল হোসেন, জসিম উদ্দিন, বাবুল মিয়া,আলী হোসেনসহ অনেকেই বলেন, প্রবাসী এক পরিবারের স্বার্থ না দেখে জনস্বার্থে ব্রিজটি নির্মাণের জন্য জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সু দৃষ্টি কামনা করছি।
১০ নম্বর ভাটরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ সামছুল আলম বুলবুল বলেন, আমি চলিত বছরের ফেব্রুয়ারি মাসের ৩ তারিখে দায়িত্ব বুঝে নিয়েছি। আমার দায়িত্ব নেওয়ার আগেই এই ব্রিজটি অনুমোদন হয়েছে। তবে কিভাবে তারা জনগণের যাতায়াত বিহীন এক পরিবারের জন্য সরকারি টকায় ব্রিজ নির্মাণ করে তা আমার বোধগম্য নয়।
উপজেলা প্রকৌশলী মো. জুয়েল রানা বলেন, আমরা দেখেশুনেই অনুমোদন দিয়েছি তারপরও আপনি আমার পিআইও স্যারের সাথে কথা বলুন।
উপজেলা পিআইও কর্মকর্তা দিলিপ কুমার দে বলেন, স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের চাহিদার প্রেক্ষিতে প্রকল্পের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপ্তি চাকমা বলেন, অভিযোগ পেয়েছি বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।