ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

মদ খেয়ে ২ বন্ধুর ঝগড়া, পিটুনিতে প্রাণ গেল একজনের

নরসিংদী প্রতিনিধি 
প্রকাশিত: ১৪:৫৪, ৭ মার্চ ২০২২
মদ খেয়ে ২ বন্ধুর ঝগড়া, পিটুনিতে প্রাণ গেল একজনের
জরুরি বিভাগ সদর হাসপাতাল, নরসিংদী

নরসিংদী শহরে তুচ্ছ ঘটনার জের ধরে মন্টি দত্ত নামে এক যুবককে চার দফা পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। রোববার সন্ধ্যায় শহরের বাজির মোড় ও পাতিলবাড়ি রোড এলাকায় তাকে মারধর করা হয়। পরে রাত ৮টার দিকে নরসিংদী সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত বলে ঘোষণা করেন।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছে শহরের বাজির মোড় ও পাতিলবাড়ি রোড এলাকায়। চার দফা মারধরের অভিযোগ উঠছে ঐ এলাকার ফকরুল ইসলাম ওরফে হৃদয়ের বিরুদ্ধে। মন্টি দাস ও ফকরুল বন্ধু হিসেবে একসঙ্গে চলাফেরা করতেন এবং ঘটনার সময় তারা দুজনেই মাদকাসক্ত অবস্থায় ছিলেন। মারধরে সরাসরি অংশ নিয়েছেন ফকরুলের সহযোগী ১৫ থেকে ২০ যুবক।

মন্টি দত্ত নরসিংদী শহরের কান্দাপাড়ার পাতিলবাড়ি রোড এলাকার নিরঞ্জন দত্তের ছেলে। এক সময় ফ্লেক্সিলোডের ব্যবসা করলেও সম্প্রতি তিনি বেকার জীবনযাপন করছিলেন। সমবয়সী একদল বখাটে ছেলেদের সঙ্গে মিশে তিনি নিয়মিতভাবে মাদক সেবন করতেন। এ নিয়ে স্ত্রী তৃণা দত্ত ও দশ বছরের মেয়ে শ্রেয়া দত্তকে নিয়ে তার সংসারে অশান্তি ছিল। সংসার চলত স্ত্রীর উপার্জনের অর্থে।

মন্টির পরিবারের সদস্য ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো জানান, রোববার সকালে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে শাকিল নামে এক যুবকের সঙ্গে মন্টির কথা-কাটাকাটি হয়। এর জেরে শাকিল তাকে কয়েকটি থাপ্পড় মারেন। এতে কষ্ট পেয়ে মন্টি বাজিরমোড় এলাকার পাট্টা (বাংলা মদ বিক্রয় কেন্দ্র) থেকে দিনভর কয়েক দফা মদ পান করেন। পরে সন্ধ্যা ৬টার দিকে পার্শ্ববর্তী একটি স্ট্রিট ফুডের দোকান থেকে কাবাব খাওয়ার সময় এই বিষয় নিয়েই ফকরুল নামে ঐ বন্ধুর সঙ্গে তার ঝগড়া শুরু হয়। এ সময় দুজনই মাদকাসক্ত অবস্থায় ছিলেন। একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নিলে ফকরুল মন্টির পরনের শার্ট টেনে ছিঁড়ে ফেলেন। এতে মন্টি প্রচণ্ড উত্তেজিত হয়ে ফকরুলকে গালিগালাজ শুরু করেন।

এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও উপস্থিত লোকজন তাদের দুজনকে সেখান থেকে দুই দিকে সরিয়ে দিলে তারা ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। তবে অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই ফকরুলকে মারার হুমকি দিতে দিতে মন্টি আবার ঐ পাট্টার ভেতরে যান। এর পরপরই ফকরুল তার এক সহযোগীকে নিয়ে মন্টিকে মারধর করেন। এ সময় তার মাথা ফেটে রক্ত বের হয়। পরে তাকে আবার ধরে নিয়ে গিয়ে আরেক দফা মারধর করা হয়। পরে এলাকায় ফিরে স্থানীয় একটি রেস্টুরেন্টের সামনে বসে ছিলেন মন্টি। কাকতালীয়ভাবে ঐ রেস্টুরেন্টেই কয়েকজন সহযোগীকে নিয়ে খেতে যান ফকরুল। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা আরো জানান, ঐ রেস্টুরেন্টে ফকরুলকে দেখতে পেয়ে মন্টি পুনরায় গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়া শুরু করলে তারা মন্টির চুল ধরে টেনে আবার ঐ পাট্টার সামনে নিয়ে যান। সেখানে ফকরুলের নেতৃত্বে পার্শ্ববর্তী বানিয়াছল এলাকার ১৫-২০ জন লাঠি ও রড দিয়ে তাকে তৃতীয় দফা মারধর করেন। এবারো সেখান থেকে পালিয়ে মন্টি নিজের এলাকা পাতিলবাড়ি রোডে চলে যান। প্রতিশোধ নিতে মন্টি লোক জড়ো করছেন, এমন খবর পেয়ে ফকরুল ও তার সহযোগীরা পাতিলবাড়ি রোডের একটি বালুর মাঠে তাকে একা পেয়ে চতুর্থ দফায় মারধর করে। তাদের হাত থেকে কোনোরকমে ছাড়া পেয়ে দুই মিনিটের পথ হেঁটে মধ্য কান্দাপাড়া এলাকার একটি বাড়িতে ঢুকে পড়েন মন্টি।

মৃতের স্ত্রী তৃণা দত্ত বলেন, রাত পৌনে ৮টার দিকে খবর পেয়ে আমরা মধ্য কান্দাপাড়া এলাকার অনুকূল ঠাকুরের মন্দির সংলগ্ন স্থান থেকে তাকে উদ্ধার করে নরসিংদী সদর হাসপাতালে নিয়ে যাই। পরে ৮টার দিকে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এই মাদকাসক্তিই আমাদের পরিবারটাকে একেবারে শেষ করে দিয়েছে।

নরসিংদী সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) লোপা চৌধুরী বলেন, ঐ যুবককে মৃত অবস্থায় আমাদের হাসপাতালে আনা হয়েছিল। পরে তার লাশ রাতেই এই হাসপাতালেরই মর্গে পাঠানো হয়। তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন অংশে ব্যাপক মারধরের চিহ্ন পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্ত করা হবে, পরে এ বিষয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।

নরসিংদী মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হারুন অর রশিদ বলেন, মৃত যুবকের পরিবারের লোকজন ও প্রত্যক্ষদর্শী ব্যক্তিদের কাছ থেকে পাওয়া নামের তালিকা ধরে রোববার রাতভর আমরা অভিযান চালিয়েছি। আশা করছি খুব দ্রুতই তারা আইনের আওতায় আসবেন। তার পরিবারের সদস্যরা জানিয়েছেন, এ হত্যাকাণ্ডে মামলা করা হবে।

ডেইলি-বাংলাদেশ/জেএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!