পরপর ৪ বিয়ে, প্রতারণা করতেই সাংবাদিক সাজেন শিমুল
গাজীপুরের সালনায় দীর্ঘ ১০ বছর ধরে বসবাস করছেন তাজবিরুল ইসলাম সবুজ ওরফে শেখ শিমুল। পড়াশোনায় তিনি ৮ম শ্রেণির গণ্ডি পার হতে না পারলেও সালনার একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে চাকরির পাশাপাশি নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে চালান প্রতারণা ও ধান্দা-ফিকির।
আব্দুল্লাহপুরে দৈনিক আজকের আলোকিত সকাল নামে একটি স্থানীয় সংবাদপত্রের সংবাদকর্মী হিসেবে ভুয়া আইডি কার্ড ব্যবহার করে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছেন এই প্রতারক শেখ শিমুল।
শুধু তাই নয়, নিজের পরিচয় গোপন করে ও প্রেমের ফাঁদে ফেলে এ পর্যন্ত চার নারীকে ভুয়া কাবিননামা দিয়ে বিয়ে করে তাদের সঙ্গেও প্রতারণা ও নির্যাতন করে আসছিলেন। এছাড়াও তাদের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে চাইতেন এই প্রতারক কথিত সাংবাদিক তাজবিরুল ইসলাম সবুজ ওরফে শেখ শিমুল।
মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র্যাব-১ এর অধিনায়ক লেফট্যানেন্ট কর্নেল আব্দুল্লাহ আল-মোমেন।
২৮ ফেব্রুয়ারি সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গাজীপুরের গাছা এলাকায় অভিযান চালিয়ে ভুয়া সাংবাদিক পরিচয়দানকারী প্রতারক তাজবিরুল ইসলাম সবুজ ওরফে শেখ শিমুলকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-১। অভিযানে তার কাছ থেকে ২টি ভুয়া সাংবাদিকের আইডি কার্ড, ২টি ভুয়া টিন সার্টিফিকেট, ১১টি ভুয়া প্রাতিষ্ঠানিক আইডি কার্ড, ৩ প্রকার ভিজিটিং কার্ড, ১টি স্পাই ক্যামেরা, ৭ টি এটিএম কার্ড, ৬টি চেক বই, ১টি পে-অর্ডার, ১টি বিবাহের হলফনামা, ১টি ভুয়া জীবন বৃত্তান্ত ফরম, ৪টি পেনড্রাইভ, ২টি মেমোরি কার্ড, ৬টি মোবাইল এবং ৪১টি সিমকার্ড উদ্ধার করা হয়।
আব্দুল্লাহ আল-মোমেন জানান, সবুজ ওরফে শেখ শিমুলের জন্মস্থান বাগেরহাট জেলায়। তিনি ১০ বছর ধরে গাজীপুরে বসবাস করছেন। বর্তমানে গাজীপুরের সালনা এলাকায় একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে চাকরি করেন। শিক্ষাগত যোগ্যতা ৮ম শ্রেণির গণ্ডি পার হতে না পারলেও নিজেকে একজন গ্রাজুয়েট হিসেবে মিথ্যা পরিচয় দেন। পাশাপাশি তিনি ভুয়া দুটি প্রেস কার্ড তৈরি করে নিজেকে সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করে আসছিলেন।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি শিমুল জানান, ২০০৫ সালে বাগেরহাটে নিজ এলাকায় ১ম বিয়ে করেন। পরে এক বছর সংসারের পর তাকে ডিভোর্স দিয়ে চলে যান। ২০১২ সালে ২য় বিয়ে করলে তার ২য় স্ত্রীও ১ বছর সংসার করে তাকে ডিভোর্স দিয়ে চলে যান। বাগেরহাট থেকে গাজীপুরে এসে এবং একটি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে চাকরি নেন। এরপর ২০১৪ সালে একজন গার্মেন্টসকর্মীকে বিয়ে করেন। তিনি ২০১৮ সালে উত্তরখান মাজার তালতলা এলাকায় একটি গার্মেন্টসে চাকরি করার সময় তার ৩য় স্ত্রী বর্তমান থাকা অবস্থায় নিজেকে অবিবাহিত পরিচয় দিয়ে সেখানে কর্মরত একজন গার্মেন্টস কর্মীর সঙ্গে প্রেমের সর্ম্পক তৈরি করেন।
পরে সে তাকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন সময় শারীরিক সর্ম্পক করেন এবং শারীরিক সর্ম্পকের দৃশ্য গোপনে ভিডিও করে রাখেন। একপর্যায়ে স্থানীয় একজন মৌলভীকে বাসায় ডেকে এনে মৌখিকভাবে ভুক্তভোগীকে বিয়ে করেন। ভুক্তভোগী বিয়ের কাবিননামা চেয়ে চাপ দিলে তিনি বিভিন্নভাবে শারীরিক এবং মানসিক নির্যাতন শুরু করেন। শারীরিক সর্ম্পকের গোপন ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেন এই প্রতারক শিমুল। গ্রেফতার শিমুলের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলেও জানান র্যাব কর্মকর্তা।