ঢাকা,  শনিবার   ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ৩০ আশ্বিন ১৪৩৩

[ দেশজুড়ে ]

একজন সুখী মানুষ রিকশাচালক শফিক 

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশিত: ১৮:৪৭, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২২
একজন সুখী মানুষ রিকশাচালক শফিক 
শফিক মিয়া, সৌখিন এক রিকশাচালক। ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

বাহারি রঙের ফুল, রঙিন আলোর ঝলকানি সঙ্গে রয়েছে সিলেট অঞ্চলের জনপ্রিয় ফোক গান। নানা ধরনের গান বাজিয়ে ছুটে চলছে ব্যস্ত সড়কে, পাড়া মহল্লার অলিগলিতে। যাত্রীরা গান শুনে আনন্দে চড়েন রিকশা। এমনই এক সজ্জিত রিকশায় গান বাজিয়ে চলে নজর কেড়েছে মৌলভীবাজার শহরবাসীর।

শফিক মিয়া, সৌখিন এক রিকশাচালক। বয়স চল্লিশ পেরিয়েছে অনেক আগেই। সদর উপজেলার মাতারকাপন গ্রামে বসতি তার। শহরের মানুষজনের কাছে তিনি পরিচিত মুখ। গান বাজিয়ে রিকশা চালান বলে অনেকে ডিজে শফিক নামে চিনেন।

যাত্রী আলী আকবর বলেন, আমি তার রিকশায় চড়েছি। রিকশায় নানা ধরনের গান বাজে, এতে আনন্দ পাওয়া যায়। তার রিকশা যে কেউ চড়লে আনন্দ পাবেন। কথা বলে মনে হয়েছে নিজের জগতে আমোদপ্রিয় একজন সুখী মানুষ তিনি। 

শফিক মিয়ার পাঁচটি রিকশা আছে। একটি নিজে চালান, বাকি ৪টি ভাড়ায় চলে। প্রতি রিকশা থেকে দৈনিক ৭০ টাকা ভাড়া পান। নিজে রিকশা চালিয়ে দৈনিক ৫০০-৬০০ টাকা আয় হয়। নিজে রিকশা চালিয়ে ও ভাড়া যা পান তা দিয়েই সুখে শান্তিই চলে সংসার।

শহরের কোর্ট রোডে দেখা হয় মিউ‌জিকের ছন্দে ছুটে চলা রিকশা চালক শফিক মিয়ার সঙ্গে। 

তিনি জানান, পায়ের প্যাডেলে চালানো এই রিকশার সৌন্দর্যবর্ধনের জন্য ফুল, সিগন্যাল লাইট, সজ্জিতকরণ অন্যান্য লাইট, মিউ‌জিক বক্স এবং ব্যাটারির জন্য অতিরিক্ত প্রায় ১০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। 

এ কাজ তিনি করেছেন নিজেকে আনন্দে রাখতে এবং অন্যকে আনন্দ দিতে। 

তিনি বলেন, যাদের টাকা আছে তারা লাখ টাকা, কোটি টাকা দামের সাজানো বড় বড় গাড়ি দৌড়ায়। বড় গাড়িতে গান বাজায়। আমার কাছে আমার রিকশা বড় গাড়ি, এজন্য আমি আমার রিকশাগুলো সাজিয়েছি। সব সময় আমার রিকশায় গান বাজে। 

স্ত্রী, এক ছেলে এক মেয়ে নিয়ে চারজনের সংসার রিকশা চালক শফিক মিয়ার। বড় মেয়ে স্থানীয় একটি ক্লিনিকের সেবিকা। ছোট ছেলের বয়স তিন বছর। ছেলেকে পড়াশোনা শিখিয়ে প্রতিষ্ঠিত করার স্বপ্ন দেখেন তিনি।

রিকশাচালক শফিক জানান, তার ফেসবুকে একটি আইডি রয়েছে। আইডিতে মোবাইল নম্বর দেওয়া আছে। যাত্রীরা ফোন দিলে, পৌঁছে দেন তাদের নির্দিষ্ট গন্তব্যে। প্রায়ই যাত্রী বুকিং থাকে বলে, পথচলতি  যাত্রী রিকশায় কম উঠানোর সুযোগ হয়। শহরের বিভিন্ন স্থান থেকে ফোন এলেই ছুটে যান যাত্রী সেবায়। এমনকি রাতে কেউ বিপদে পড়ে ফোন দিলে যত দূর হউক যে কোনো সময় তিনি হাজির হয়ে যান।

শফিক আরো জানান, যে কয়দিন বাঁচবো আনন্দের সঙ্গে বাঁচতে চাই। আমার ছেলেটাকে লেখাপড়া করিয়ে বড় কিছু করতে চাই। সবসময় মানুষকে আনন্দ দেওয়া ও মানুষের উপকারের আসে এরকম কাজ করতে চাই। 

ডেইলি-বাংলাদেশ/এমকে/জেএইচ
লিংক সফলভাবে কপি হয়েছে!