হাত-পা বেঁধে স্ত্রীর মাথা ন্যাড়া করে স্বামী উধাও
লক্ষ্মীপুরে যৌতুক না পেয়ে হাত-পা বেঁধে স্ত্রীর মাথা ন্যাড়া করার অভিযোগ উঠেছে স্বামীর বিরুদ্ধে। তবে ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন অভিযুক্ত মো. হাসান।
সোমবার বিকেলে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করেন ইউপি সদস্য মনির হোসেন। এর আগে, রোববার রাতে সদর উপজেলার চররমনী মোহন ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্য চররমনী গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী রুমা আক্তার ভোলা সদর উপজেলার ইলিশা ইউনিয়নের পূর্ব দিশাপুর গ্রামের আলমগীর হোসেনের মেয়ে।
জানা গেছে, তিন বছর আগে মধ্য চররমনী গ্রামের মো. কাঞ্চনের ছেলে হাসানের সঙ্গে রুমার পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। হাসান পেশায় জেলে। বিয়ের পর থেকেই কারণে-অকারণে তাকে মারধর করতেন হাসান।
স্থানীয়রা জানায়, রোববার রাতে তুচ্ছ ঘটনা নিয়ে হাত-পা বেঁধে রুমাকে মারধর করেন হাসান ও তার বোন পাখি বেগম। একপর্যায়ে রুমার মাথার সামনের চুল কেটে দেন তারা। পরে তাকে হাত-পা বেঁধে রেখেই পালিয়ে যান হাসান। খবর পেয়ে সোমবার বিকেলে তাকে উদ্ধার করেন ইউপি সদস্য মনির হোসেন।
ভুক্তভোগী রুমা বলেন, বিয়ের পর যৌতুক হিসেবে হাসানকে ৫০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এখন আবার তিন লাখ টাকা দাবি করেন। মা-বাবার কাছে বলার জন্য আমাকে চাপ সৃষ্টি করেন। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে আমার ওপর অমানুষিক নির্যাতন নেমে আসে। একপর্যায়ে হাত-পা বেঁধে মারধর করেন আমার স্বামী ও ননদ । পরে আমার মাথার সামনের চুল কেটে ন্যাড়া করে দেন।
ইউপি সদস্য মনির হোসেন বলেন, ঘটনাস্থল গিয়ে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনার পরেই তার স্বামী পালিয়ে গেছেন। এ ঘটনায় গৃহবধূর পরিবারকে আইনি ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
লক্ষ্মীপুর সদর থানার ওসি মো. জসীম উদ্দীন বলেন, বিষয়টি শুনেছি। তবে এমন ঘটনা থানায় কেউ জানাননি। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।