৭০ বছর পর ফিরে পেলেও মাকে আর দেখা হবে না, বুকফাটা আর্তনাদ ছেলের
মাত্র ১০ বছর বয়সেই হারিয়ে যান আব্দুল কুদ্দুস মুন্সী। তাও ৭০ বছর আগে। তবে শেষ বয়সে শতবর্ষী মা মঙ্গলের নেছার দেখা পেয়েছেন এ বৃদ্ধ। ২০২১ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর মায়ের সঙ্গে দেখা করেন তিনি। এরপর নভেম্বরে ফের দেখতে যান। ১২-১৩ দিন মায়ের সঙ্গেই থাকেন। কিন্তু এবার আর মায়ের সঙ্গে দেখা হবে না কুদ্দুসের। না ফেরার দেশে চলে গেছেন ১১০ বছর বয়সী মা মঙ্গলের নেছা। আর মাকে হারিয়ে কান্না থামছে না ছেলের।
বৃহস্পতিবার সকাল নয়টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আশ্রাববাদ গ্রামে ছোট মেয়ে ঝরনা বেগমের বাড়িতে তিনি মারা যান। বিকেলে আশ্রাববাদ গ্রামে তাকে দাফন করা হয়। একমাত্র ছেলে কুদ্দুস বর্তমানে স্ত্রী-সন্তান নিয়ে রাজশাহীর বাঘমারার বাড়ুইপাড়া গ্রামে থাকেন। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম সলিমগঞ্জ ইউনিয়নের বাড্ডা গ্রামের কালু মুন্সীর ছেলে।
নওগাঁর আত্রাই উপজেলার সিংড়া বাজারের ব্যবসায়ী আইয়ুব আলী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরের প্রকৌশলী শফিকুল ইসলামের উদ্যোগে ৭০ বছর পর দেখা হয় মা-ছেলের। তারা দুজনই মোবাইল ফোনে কুদ্দুসের মায়ের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
শফিকুল ইসলাম বলেন, বেলা ৩টায় আশ্রাববাদ গ্রামে কুদ্দুসের মায়ের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে ওই গ্রামেই তাকে দাফন করা হয়।
কুদ্দুসের ছোট ছেলে সোহেল বলেন, দাদির মৃত্যুর সংবাদ পেয়েছেন বাবা। এরপর থেকেই তিনি তার মায়ের জন্য কান্না করছেন। আমরা সবাই দাদির জন্য দোয়া করছি।
তিনি আরো বলেন, দাদির সঙ্গেই থাকতে চেয়েছিলেন বাবা। দাদিকে নিয়ে আসতে চেয়েছিলেন। কিন্তু দাদি অসুস্থ ছিলেন। চলাফেরা করতে পারতেন না।
কুদ্দুসের বয়স যখন ছয়-সাত বছর, তখন তার বাবা মারা যান। বাবার মৃত্যুর পর ছেলেকে লেখাপড়ার জন্য ফুফা পুলিশের দারোগা আব্দুল আওয়ালের কাছে রাজশাহীর বাগমারায় পাঠান মা। সেখানে ফুফুর বকা খেয়ে অভিমান করে বাড়ি ছেড়ে বের হয়ে নিখোঁজ হন কুদ্দুস। ১০ বছর বয়সে হারিয়ে যাওয়া সেই ছেলের বয়স এখন ৮০ বছর। ৭০ বছর পর মা, বোন ও আত্মীয়স্বজনকে ফিরে পান গত ২৫ সেপ্টেম্বর। তিনি সন্তানদের নিয়ে শতবর্ষী মাকে দেখতে আশ্রাববাদ গ্রামে বোন ঝরনা বেগমের বাড়িতে যান।